ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে ভারতীয় দলে চমক ছিল - ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)-কে দলে রেখে আবারও বাইরে রাখা হয় অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)-কে। এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।

শেষ আপডেট: 22 February 2026 23:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (Narendra Modi Stadium)-এ শুরু থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ম্যাচের রাশ একপ্রকার নিজেদের হাতেই রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। ব্যাটে ডেভিড মিলার (David Miller)-এর ঝড়ো ৬৩ এবং বলে মার্কো জ্যানসেন (Marco Jansen)-এর ৪/২২ - এই দুই স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই ৭৬ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল প্রোটিয়ারা।
ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে ভারতীয় দলে চমক ছিল - ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)-কে দলে রেখে আবারও বাইরে রাখা হয় অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)-কে। এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
মিলারের ঝড়, স্টাবসের ফিনিশ
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আইডেন ম্যাকরাম (Aiden Markram)। শুরুতে কয়েকটি উইকেট পড়লেও, একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন মিলার। মাত্র ২৬ বলে অর্ধশতরান করে ভারতীয় বোলিংকে চাপে ফেলেন তিনি।
একসময় ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মিলার। তাঁকে থামাতে আনা হয় হার্দিক পান্ডিয়াকে, কিন্তু তাতেও গতি কমেনি। শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবস (Tristan Stubbs) ঝড় তুলে ইনিংস শেষ করেন, বিশেষ করে শেষ ওভারে বড় শট খেলে দলকে ১৮৭/৭-এ পৌঁছে দেন।
বুমরার মাস্টারক্লাস, তবুও ফল শূন্য
বল হাতে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন যশপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah)। ডেথ ওভারে দুরন্ত বোলিং করে ৩/১৫ তুলে নেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সমর্থন না পাওয়ায় সেই পারফরম্যান্সও ম্যাচ ঘোরাতে পারেনি। ডেথ ওভারে বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy) মিলারকে ফিরিয়ে বড় স্কোর ঠেকালেও, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত (India) যেন শুরু থেকেই চাপে ছিল। ব্যাটিংয়ে কোনও জুটি গড়ে ওঠেনি, বারবার ভেঙেছে মাঝপথে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) নিজেও বড় রান করতে পারেননি। গোটা ইনিংসে একমাত্র লড়াই দেখা গেল শিবম দুবে (Shivam Dube)-এর ব্যাটে, তাঁর ৪২ রানই ছিল ভারতের গোটা ইনিংসে একমাত্র লম্বা টিকে থাকা কোনও ব্যাটারের রাজত্ব।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই একের পর এক ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় শিবির।প্রথমে শূন্য রানে আউট হন ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) এবং ৫ রান গড়াতে না গড়াতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিলক ভার্মা (Tilak Varma)। আর পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ১৫ রানে উইকেট পড়ে অভিষেক শর্মারও (Abhishek Sharma)।
আমদাবাদের পিচও সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেনি ভারতকে। টিকে থাকা যে কঠিন তা বোঝা যায় অধিনায়কের ফিরে যাওয়ার পরই। সূর্যকুমারের উইকেট পড়তেই কার্যত ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়, ৫ উইকেট পড়ে যায় হিসেবের চেয়ে বড্ড দ্রুত। বড় রান তাড়া করার চাপ একেবারেই সামলাতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ।
সুপার ৮-এর বড় ম্যাচ, কিন্তু একতরফা ফল
ট২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ (ICC Men's T20 World Cup ২০২৬)-এর সুপার ৮ পর্বে দুই দলের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। এমন গ্রুপে যেখানে নেট রানরেট বড় ফ্যাক্টর, সেখানে শুরুতেই বড় ব্যবধানে হার চাপে ফেলল ভারতকে।
ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান বলছিল—
দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকেও সমান শক্তি—
তবে মাঠে সেই লড়াই দেখা গেল না বিশেষ!
২০২৪ ফাইনালের স্মৃতি, ২০২৬-এ উল্টো ছবি
শেষবার টি২০ বিশ্বকাপে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০২৪ ফাইনালে, ব্রিজটাউনে (Bridgetown)-এ। সেখানে নাটকীয় ম্যাচে ৭ রানে জিতেছিল ভারত। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ উল্টো ছবি - চাপ সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়ল ভারত, আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।