দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপার ৮ পর্বে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা (IND vs SA)। টানা ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) জেতার লক্ষ্যে সূর্যবাহিনী। দলে একটি বড় বদল করেছেন অধিনায়ক।
৭৬ রানে বিধ্বস্ত ভারত, ঘরের মাঠে লজ্জার হার
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে গেল ভারত। শেষদিকে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন মার্কো জ্যানসেন।
১৮৭/৭ করার পর বল হাতেও সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দল ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ, চাপের মুখে ভেঙে পড়ে। ঘরের মাঠে ৭৬ রানের ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে একতরফা জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
এক ওভারেই তিন উইকেট, দুবের ছক্কায় সামান্য লড়াই
একই ওভারে ম্যাচ প্রায় শেষ হয়ে গেল ভারতের। রিঙ্কুর পর অর্শদীও ফিরলেন। দু’জনেই লং-অনে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন প্রোটিয়াদের হাতে। তবে লড়াই ছাড়েননি শিবম দুবে। টানা দু’টি ছক্কা মেরে দলকে ১০০ পার করান। জয়ের আশা ক্ষীণ, কিন্তু নেট রানরেট বাঁচাতে যতটা সম্ভব ব্যবধান কমানোই এখন লক্ষ্য ভারতের।
পরপর ফিরলেন হার্দিক, রিঙ্কু! হার নিশ্চিত ভারতের
ঝুঁকি নিতেই হল হার্দিককে। ড্রিঙ্কস ব্রেকের পর প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন তিনি, বলটি ধরেন ট্রিস্টান স্টাবস। উইকেটটি নেন কেশব মহারাজ।
১৪.১ ওভারে ৮৬/৬ ভারত। এরপরই দুই বলে শূন্য রানে আউট রিঙ্কু সিং। এখন জিততে দরকার ৩৩ বলে ১০২ রান— যা প্রায় অসম্ভব, আর বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারতের নেট রান রেটও।
বসের জাদু অব্যাহত, ফিরলেন সূর্যকুমার
লেগ সাইডে অন-পেস বল পেয়ে সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই বলেই ভুল শট খেললেন সূর্যকুমার যাদব। কিউ-এন্ড হয়ে বল উঠে যায় শর্ট মিডউইকেটে। ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট ভারতীয় অধিনায়ক। ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত।
মিডল অর্ডারে ধাক্কা, বসের শিকার ওয়াশিংটন সুন্দর
মিডল অর্ডারে ভরসা দিতে ব্যর্থ ওয়াশিংটন সুন্দর। ৭.২ ওভারে কর্বিন বসের শর্ট বল কভারের দিকে মারতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে ক্যাচ ওঠে। উইকেটের পিছনে নিরাপদ হাতে বলটি ধরেন কুইন্টন ডি'কক। ১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন সুন্দর।
মিড উইকেট বাউন্ডারি লাইনে আউট অভিষেক
ঈশান-তিলকের উইকেট পড়ার পর সবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলেন অভিষেক। ধীরগতির বলের ফাঁদে পড়ে ভুল টাইমিং,আর উইকেট হারালেন তিনি। মিড-অন ও মিডউইকেট থেকে দৌড়ে এসে দুরন্ত ক্যাচ নেন কর্বিন বশ, যদিও কেশব মহারাজের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ২৬ রানের মাথায় মিড উইকেট বাউন্ডারি লাইনে আউট! ১২ বলে ১৫ করে ফিরলেন অভিষেক। ক্রিজে নামলেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
ক্রিজে ছন্দ ফেরাচ্ছেন অভিষেক
শুরুর দুই বলে চার্জ করে ব্যর্থ হলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন অভিষেক শর্মা। কাগিসো রাবাড়ার ওভারে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান, শেষ বলেও আসে চার। দ্রুত রান তোলার ইঙ্গিত মিললেও দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপে ভারত। এখন লম্বা এক জুটি গড়াই মূল লক্ষ্য।
শুরুতেই ধাক্কা ভারতীয় দলে, দুই ওপেনারের আউট সামলাতে চাপে ভারত
০.৪ ওভারেই প্রথম আঘাত। ঈশান কিষাণ আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে আইডেন মার্কর্যামের বল তুলে মারতে চেয়েছিলেন। তবে টাইমিং ঠিক না হওয়ায় বল বেশি দূর যায়নি। কভারে দাঁড়ানো রায়ান রিকেলটন সহজ ক্যাচ নেন। চলতি সিরিজে এ নিয়ে টানা চার ইনিংসে ভারতের কোনও না কোনও ওপেনার প্রথম ওভারেই খাতা না খুলে ফিরলেন।
তার ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বিপদ। ১.১ ওভারে মার্কো জ্যানসেনের বলে আউট তিলক বর্মা। মাত্র ২ বলে ১ রান করে ব্যাটের কানায় লেগে বল পৌঁছে যায় উইকেটকিপার কুইন্টন ডি কক-এর হাতে। সহজ ক্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন তিনি।
মার্করামের স্পিন দিয়ে শুরু ভারতের ইনিংস
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে নামেন অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণ। শুরুতেই স্পিন আক্রমণের চমক দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করামের।
৭ উইকেটে শেষ হল ইনিংস, ভারতকে ১৮৮ রানের টার্গেট দিল প্রোটিয়ারা
শেষ ওভারে স্টাবসের ঝড়, ১৮৭/৭ দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ ওভারে হার্দিং পান্ডিয়ার প্রথম দুই বল থেকে জোড়া দুই রান নেন ট্রিস্টান স্টাবস। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি, তারপর একটি ডট। শেষ দুই বলে টানা দুই ছক্কায় ইনিংস শেষ করেন স্টাবস। ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ২০ ওভারে ১৮৭/৭-এ পৌঁছে দেন।
ডেথ ওভারে বুমরাহ ম্যাজিক, ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান
ডেথ ওভারে আবারও নিখুঁত বোলিং করলেন জশপ্রীত বুমরা। নিজের শেষ ওভারে মাত্র ৩ রান দেন এবং পঞ্চম বলে করবিন বোশকে ফেরান। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ইকনমি ৬-এর নিচে রেখে শেষ করেন স্পেল। ১৯ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৭/৭।
শেষ ওভারে অর্শদীপের সাফল্য, ৪ ওভারে ২ উইকেট
১৮তম ওভারে ফিরে এসে বড় সাফল্য পেলেন অর্শদীপ সিং। মার্কো জানসেনকে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ করিয়ে ফেরান। ওভারটিতে মাত্র একটি বাউন্ডারি দেন তিনি। শেষ করেন ৪-০-২৮-২ বোলিং ফিগার নিয়ে। ১৮ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ১৬৪/৬।
মিলারের লড়াই শেষ, বরুণের বড় উইকেট
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস টেনে তোলার পর অবশেষে ফিরলেন ডেভিড মিলার। বরুণ চক্রবর্তীর ওভার শেষ হওয়ার আগে শর্ট অফ লেংথ বল ডাউন দ্য গ্রাউন্ড খেলতে গিয়ে লং-অফে আউট হলেন মিলার। ৩৫ বলে ৬৩ রানে শেষ মিলারের ইনিংস। ১৫.৪ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫২/৫— ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় ধাক্কা।
মিলারের ঝড়ো ফিফটি, ২৬ বলেই ৫২
ফ্রি-হিটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরপর দুই ছক্কা হাঁকান মিলার। এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে দুর্দান্ত শটে ২৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। ১২.৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ১২৫/৩।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে এবার আউট ব্রেভিস
স্বস্তি ফিরল ভারতের শিবিরে। প্রথম ওভারে ১৫ রান দেওয়ার পর দ্বিতীয় ওভারেও শুরুটা ভালো হয়নি শিবম দুবের— প্রথম বলেই ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত কৌশল বদলে ফাঁদে ফেললেন ব্রেভিসকে। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থাকা বল টানতে গিয়ে টপ এজ, ডিপ ফরোয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ধরা পড়লেন। ২৯ বলে ৪৫ করে ফিরলেন ব্রেভিস। ১২.২ ওভারে স্কোর ১১৭/৪।
দুবেকে নিশানা ব্রেভিসের, ১১ ওভারে ৯৯/৩, পাল্টে গেল ম্যাচের গতি
ইনিংসের ১১তম ওভারে বল হাতে এসে বড়সড় চাপে পড়েন শিবম দুবে। শুরুতে রান আটকাতে পারলেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে নামেন দেওয়াল্ড ব্রেভিস। এক্সট্রা কভার ও লং-অফ দিয়ে শট খেলে ফিল্ড সেটআপ ভাঙেন, এরপর ফুলটস পেয়ে লং-অন-এর উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। ২৪ বলে ৩৭ রানে পৌঁছে তিনি দলকে ১১ ওভারে ৯৯/৩-এ তুলে দেন, ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন এই ওভারেই।
মিলারের হাত ধরে ছন্দে ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে থাকলেও ডেভিড মিলার নেমেই ভাল ছন্দে ব্যাট করছেন। প্রথম বাউন্ডারি পেলেও সেটা এসেছিল বরুণ চক্রবর্তীর বলে একটা আউটসাইড এজ থেকে। জুটিতে রয়েছেন দেওয়াল্ড ব্রেভিস। ওয়াশিংটন সুন্দরের প্রথম ওভারে গেছে ১১ রান। বরুণ চক্রবর্তীকে মাত্র এক ওভার করিয়েই পরে ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য তুলে রাখা হয়েছে।
বুমরাহর মুকুটে নয়া পালক
ভারতের পেস তারকা বুমরাহ (Jasprit Bumrah) টি-২০ বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত যতগুলি উইকেট নিয়েছেন, ঠিক একই সংখ্যক অর্থাৎ ৩২টি উইকেট রয়েছে স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (Ravichandran Ashwin) ঝুলিতেও। বর্তমানে তাঁরা দু’জনই হলেন ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-২০ বিশ্বকাপ উইকেট নেওয়া বোলার।
পাওয়ার প্লে-তেই দ্বিতীয় উইকেট বুমরাহর
বুমরাহর দারুণ বলেই আউট হতে হল রায়ান রিকেলটনকে। নতুন বলে লুঙ্গি এনগিডির মতোই ধীর গতির বল ব্যবহার করলেন তিনি, তাও আবার এমনভাবে, যেন বলটা হালকা লুপ করে ডিপ করল। রিকেলটন বলটা ধরতেই পারেননি। ব্যাটে লিডিং এজ লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মিড-অফে। রিকেলটন আউট ৭ বলে ৭ রান করে।
বুমরাহর বলে আউট ডি কক
জসপ্রীত বুমরাহকে থামানোই যেন অসম্ভব। নিজের প্রথম ওভারেই দু’দু’টি মোটা এজ আদায় করেন তিনি। একবার ফুল টস গিয়ে বাউন্ডারি হলেও শেষ পর্যন্ত সঠিক ডেলিভারিটাই ছুঁড়ে দেন তিনি। বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য একদম নিখুঁত বল। ভেতরে ঢুকে লেগ স্টাম্পের গোঁড়া উড়িয়ে দেয়, আর ডি ককের বড় শট চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৭ বলে ৬ রান করে ফিরতে হল ডি কককে। এর পর প্রথম বলেই রিয়ান রিকেলটনকে পুরোপুরি উইকেটের সামনে ফেলে দেন বুমরাহ।
প্রথম ওভার থেকেই সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রথম ওভারে একটু দেখেশুনেই ব্যাট চালান এডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি কক। আরশদীপ সিং প্রথম স্ট্রাইক দেন মার্করামকে। দুই বলে দু’টি সিঙ্গল নেন তিনি। ডি কককে ধরতে আরশদীপ বারবার ইনসুইং বল করেন। রিলিজের সময়ই বোঝা যাচ্ছিল বল ফাইন লেগের দিকে সুইং করবে। ডি কক বেশ সাবধানে খেলছিলেন। শেষ বলে র্যাম্প শট খেলতে গিয়ে রান পাননি, শুধু একটি লেগ-বাই এসেছে। এলবিডব্লিউর প্রশ্ন তোলাই যায় না, কারণ বল ব্যাটসম্যানের লাইন-এর বাইরে লাগেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে কোনও চমক নেই
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম একাদশে জেসন স্মিথ, জর্জে লিন্ডে, অনরিখ নোখিয়া ও কেওয়ানা মাফাকার জায়গায় এসেছেন মার্কো জানসেন, কেশব মহারাজ, লুঙ্গি এনগিডি ও ডেভিড মিলার।
ভারতের দলে বদল
ভারতীয় দলে ধরা দিল সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। সহঅধিনায়ক ও বাঁ-হাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেলকে (Axar Patel) বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় এসেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)। মনে করা হচ্ছে, ভারত শুরুতেই অফ-স্পিন ব্যবহার করতে চাইছে কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock) ও রায়ান রিকেলটনকে (Ryan Rickelton) টার্গেট করে।
কেন প্রথমে ব্যাট দক্ষিণ আফ্রিকার?
মার্করাম জানালেন, আজকের কালো মাটির পিচ আগের ম্যাচের মতোই শুকনো। এমন উইকেটে সাধারণত শুরুতে বল ততটা ‘আটকে’ ধরেনা, তাই ব্যাটিং সহজ হতে পারে।