আন্ডার-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল বৈভবরা। দুরন্ত বোলিং-ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে দখল করল ট্রফি।

জেতার মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 6 February 2026 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুটা ছিল ফাইনালের মতোই—চাপ, প্রত্যাশা, ইতিহাসের হাতছানি। শেষটা হয়ে উঠল প্রদর্শনী ম্যাচ! হারারেতে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে উড়িয়ে দিয়ে ষষ্ঠবারের জন্য অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জিতে নিল ভারত। আর এই একপেশে ফাইনালের কেন্দ্রে একটাই নাম—বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)।
বৈভবের ১৭৫: ফাইনাল বদলে দেওয়া এক ইনিংস
বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন ইনিংস খুব কমই দেখা যায়। বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ১৭৫—সংখ্যাটা বড়, কিন্তু তার চেয়েও বড় ইনিংসের প্রভাব। মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি! ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর যেন ঝড় বইয়ে দিলেন বিহারের এই বাঁ-হাতি কিশোর। মোট ৩০টি বাউন্ডারি—১৫টি চার, ১৫টি ছক্কা। অর্থাৎ, ১৭৫ রানের মধ্যে ১৫০ রানই এল বাউন্ডারি থেকে। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস, টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ছক্কার নতুন রেকর্ড—একটার পর একটা ইতিহাস গড়লেন বৈভব। ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা তখন শুধু বল খুঁজে বেড়াচ্ছেন, স্কোরবোর্ড ছুটছে নিজের গতিতে।
অধিনায়ক আয়ুষ মত্রের (Ayush Mhatre) সঙ্গে ১৪২ রানের জুটিই কার্যত ফাইনাল শেষ করে দেয়। মত্রে খেলেন সংযত ৫৩ রানের ইনিংস। বৈভব আউট হওয়ার সময় ভারতের রান রেট এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে ৫০০ ছুঁয়ে যাওয়ার অনুমানও অবাস্তব ঠেকেনি।
৪১১ রান: পাহাড়সম চাপ
বৈভব ফিরলেও গতি থামেনি। অভিজ্ঞতা আর গভীরতা—দুটোই এই তরুণ দলের শক্তি। অভিজ্ঞান কুণ্ডু, বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi), বিহান মালহোত্রা (Vihaan Malhotra), কনিষ্ক চৌহান (Kanishk Chouhan)—সবাই মিলে স্কোরবোর্ড ঠেলে নিয়ে যান ৪১১/৯-এ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে এত বড় রান তাড়া করতে অলৌকিক কিছু দরকার ছিল। ইংল্যান্ড জানত, জেতার জন্য শুরু থেকেই ঝাঁপাতে হবে। কিন্তু নতুন বলে ভারতীয় বোলারদের শৃঙ্খলা ম্যাচের রাশ টেনে ধরে।
ভারতের দাপুটে জয়
৪১২ রানের লক্ষ্যে নেমে ইংরেজরা কখনওই স্বচ্ছন্দ ছিল না। শুরুতেই চাপ। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পতন। মাঝখানে ক্যালেব ফ্যালকনার (Caleb Falconer) একাই লড়াই চালালেন। দ্রুততম যুব ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডের ইনিংসে কিছুটা প্রাণ ফেরালেও, বিশাল লক্ষ্য তখনও বহুদূর৷ আজ ভারতের বোলাররা কাউকে ছন্দে থাকতে দেননি। অম্বরীশ, হেনিল, দীপেশ—সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নেন। ফ্যালকনার আউট হতেই শেষ হয়ে যায় সমস্ত অপেক্ষা। ইংল্যান্ড থামে ৩১১-এ। জয়ের ব্যবধান ১০০ রান।
এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারত ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। শেষ আট বছরে তৃতীয় ট্রফি। কিন্তু এটা শুধু ট্রফির গল্প নয়, এক উজ্জ্বল প্রজন্মের ঘোষণাও বটে। বৈভব সূর্যবংশীর ১৭৫ বলে দিল—ভারতের ভবিষ্যৎ শুধু প্রতিশ্রুতিমান নয়, ভয়ংকর ক্ষুরধারও বটে। হারারের বার্তা স্পষ্ট—এই দল শুধু জিততে শেখেনি, আধিপত্য কায়েম করাও রপ্ত করে ফেলেছে।