লখনউয়ে ভয়াবহ দূষণ ও ঘন কুয়াশার জেরে শুরুই হল না ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি।

কুয়াশায় ঢাকা লখনউ
শেষ আপডেট: 18 December 2025 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটে বৃষ্টি, কম আলো, পিচের সমস্যা- এসব তো বহুবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির (T20I) ইতিহাসে এই প্রথম কুয়াশার (Fog) জন্য স্থগিত হল ম্যাচ। ভারত (India) ও দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) মধ্যে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি শুরুই করা গেল না, কারণ সন্ধ্যা নামতেই মাঠ ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধে ৭টায় লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে (Ekana Stadium)। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই আম্পায়াররা (Umpires) জানিয়ে দেন, আবহাওয়া ম্যাচ শুরুর জন্য অনুকূল নয়। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে মাঠের দৃশ্যমানতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। ৭টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয়বার মাঠ পরিদর্শন করেন আম্পায়াররা। পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় ফের অপেক্ষা। রাত ৮টায় তৃতীয়বার এবং ৮টা ৩০ মিনিটে চতুর্থবার পরিদর্শনেও একই ছবি- বরং কুয়াশা আরও ঘন হতে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে বাতাসের ভয়াবহ দূষণের (Air Quality Index, AQI) প্রসঙ্গও উঠে আসে। লখনউয়ে এদিন AQI ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ‘হ্যাজার্ডাস’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। অনুশীলনের সময় ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিককে (Hardik Pandya) মাস্ক পরে মাঠে দেখা যায়। দূষণ ও কুয়াশার জেরে দুই দলই সন্ধে ৭টা ১৫ থেকে ৭টা ৩০-এর মধ্যে অনুশীলন গুটিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়।
এরপর রাত ৯টা ও ৯টা ২৫ মিনিটে আরও দু’বার মাঠ পরিদর্শন করেন আম্পায়াররা। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম কুয়াশার কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ার নজির তৈরি হল।
এই সিরিজের দিকে তাকালে, ধর্মশালায় (Dharamsala) তৃতীয় ম্যাচে জয়ের সুবাদে ভারত ইতিমধ্যেই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। লখনউয়ের ম্যাচ বাতিল হওয়ায় সমীকরণ বদলাল না। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি হবে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium), ১৯ ডিসেম্বর। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ সমতায় ফেরানোর চেষ্টা করবে, আর ভারত চাইবে সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরতে।
এদিকে, চতুর্থ টি-টোয়েন্টি থেকে চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন শুভমন গিল (Shubman Gill)। পায়ের আঙুলে চোট থাকায় তিনি খেলতে পারেননি। শেষ ম্যাচে তাঁর ফিটনেস পরিস্থিতি কী হয়, সেদিকেই নজর। পাশাপাশি, এই ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেটমহলের একাংশ।
সব মিলিয়ে, লখনউয়ের এই রাত ক্রিকেটকে উপহার দিল এক অদ্ভুত ইতিহাস- যেখানে ব্যাট-বল নয়, কুয়াশা আর দূষণই হয়ে উঠল ম্যাচের মূল চরিত্র।