১১৪ বছর পর আবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে ‘ডাবল বাগেল’! ইতিহাস গড়লেন ২৪ বছরের পোলিশ তারকা ইগা শিয়নটেক।

ইগা শিয়নটেক
শেষ আপডেট: 13 July 2025 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১৪ বছর পর আবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে ‘ডাবল বাগেল’! ইতিহাস গড়লেন ২৪ বছরের পোলিশ তারকা ইগা শিয়নটেক।
এতদিন দাপট ছিল স্রেফ ফ্রেঞ্চ ওপেনে। টেনিস দুনিয়া ডাকত ‘ক্লে কোর্টের রানি’ বলে। কিন্তু ঘাসে? সেভাবে জেল্লা দেখাননি। উইম্বলডনেই নাকি তাঁর দুর্বলতা। কেউ বলত: বলের বাউন্স কম। কারও যুক্তি: টপস্পিন চলে না, সেই গতি-ই নেই। নিজেও হয়তো একসময় সমস্ত সমালোচনা মেনে নিয়েছিলেন।
এবার সেই মিথটাই ভেঙে দিলেন। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠলেন। আর আন্ডারডগ অ্যানিসিমোভাকে গুঁড়িয়ে দিলেন ৬-০, ৬-০-তে। মাত্র ৫৭ মিনিটে।
ওপেন যুগে উইম্বলডনের ইতিহাসে এমনটা কখনও হয়নি। শেষবার কোনও মহিলা ফাইনাল এতটা একপেশে হয়েছিল ১৯১১ সালে। তখন খেলার ধরনও ছিল অন্যরকম। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন খেলতেন স্রেফ একটাই ম্যাচ। তুলনামূলক সহজ ফর্ম্যাটে ডোরোথিয়া ল্যাম্বার্ট চেম্বার্স ৬-০, ৬-০-তে হারিয়েছিলেন ডোরা বুটবিকে। আর ওপেন যুগে গ্র্যান্ড স্ল্যামেও এই স্কোরলাইন দেখা গিয়েছিল একবার। ১৯৮৮-র ফ্রেঞ্চ ওপেনে। স্টেফি গ্রাফের হাতে চূর্ণ হন নাটাশা জভেরেভা।
এ বছর ইগার প্রথম উইম্বলডন ফাইনাল হলেও গ্র্যান্ড স্ল্যামের চূড়ান্ত যুদ্ধে ছ’বার নেমে ছ’বারই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। মার্টিনা হিঙ্গিস থেকে মারিয়া শারাপোভা—সবাই পেছনে। ফ্রেঞ্চ ওপেন চারবার, ইউএস ওপেন একবার আর এখন উইম্বলডন। তিন ধরনের কোর্টে চ্যাম্পিয়ন। ওপেন যুগে এই কীর্তি আছে মাত্র আটজনের।
গতকাল ম্যাচের গোড়া থেকেই আন্দাজ মিলছিল কী হতে চলেছে। অ্যানিসিমোভার র্যাকেট থেকে প্রথম গেমেই বেরল তিনটে আনফোর্সড এরর। চাপ সামলাতে পারলেন না। সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে এসেছেন যিনি, সেই তিনিই ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধে হারিয়ে গেলেন। বারবার মিস, ভুল শট। যার পরিণতি শরীরী ভাষায় তীব্র হতাশা… পুরো ম্যাচে ২৮টা আনফোর্সড এরর!
উলটো প্রান্তে ইগা বজায় রাখলেন নিজস্ব ছন্দ। ৭৮ শতাংশ সার্ভ ইন। তুখোড় রিটার্ন। কখনও বেসলাইনে, কখনও কোণ মেপে মারা শটে অ্যানিসিমোভা নড়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। দুর্দান্ত ডিফেন্সের সঙ্গে ঠান্ডা মাথা। প্রথম সেটে মাত্র একটা আনফোর্সড এরর! শেষ শট? ডাউন দ্য লাইন ব্যাকহ্যান্ড।
গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল। ইগা শুয়ে পড়লেন ঘাসে। তারপর উঠে বসে একছুটে গ্যালারিতে, কোচদের ধন্যবাদ জানাতে। কান্না আটকাতে পারলেন না অ্যানিসিমোভা। স্বপ্নের উড়ান থমকে গেলেও একটু পরে অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘হয়তো আমি একটু শকে ছিলাম। কিন্তু এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও শক্ত হয়ে ফিরব!’ আর ইগার আবেগ চেপে মাপা জবাব, ‘এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার টিম আমার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী। যা কিছু সব ওদের জন্যই সম্ভব হয়েছে!’