মাত্র তিন দিন আগেই ১৪ বছরের তুর্কি প্রতিভা ইয়াগিজ কা’আন এরদোগমুসের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এবার কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছুড়ে দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কিশোর।

অভিমন্যু ও গুকেশ
শেষ আপডেট: 9 September 2025 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবার বোর্ডের চলতি সংস্কার আর অভ্যাস বলে: সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেললেই বাড়তি সুবিধা, আগাম অ্যাডভান্টেজ! কিন্তু কালো ঘুঁটিতেও যে বিস্ময় ঘটানো যায়, সেটা প্রমাণ করে দিলেন অভিমন্যু মিশ্র (Abhimanyu Mishra)। সামারকন্দের (Samarkand) গ্র্যান্ড সুইস মঞ্চে মাত্র ১৬ বছর বয়সি গ্র্যান্ডমাস্টার হারালেন ডি গুকেশকে (D Gukesh)। গড়লেন রেকর্ড। ক্লাসিকাল দাবায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারানো সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের তকমা এখন তাঁর দখলে।
মাত্র তিন দিন আগেই ১৪ বছরের তুর্কি প্রতিভা ইয়াগিজ কা’আন এরদোগমুসের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এবার কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছুড়ে দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কিশোর। ১২তম চালে গুকেশের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত—g4 চাল—পুরো ম্যাচটাই ঘুরিয়ে দেয়। বিশ্বসেরা জুডিট পলগার পর্যন্ত (Judit Polgar) টিভি কমেন্ট্রিতে অবাক হয়ে বললেন, ‘যদি এটা ভুল হয়, তবে গুকেশ খেলল কীভাবে? নিশ্চয়ই ওর ওপেনিং প্রিপারেশনের অংশ ছিল। তবু এমন ঝুঁকিপূর্ণ চাল দেখা সত্যিই বিস্ময়কর!’
আশঙ্কা অমূলক ছিল না। কারণ, ঠিক এরপরেই বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ সরে যায় অভিমন্যুর দিকে। মাত্র কয়েক চালে কালো ঘুঁটির এক পন চলে আসে সেভেন্থ র্যাঙ্কে—প্রমোশনের এক ঘর দূরে। ফলে গুকেশের খেলায় ছড়িয়ে পড়ে সংশয়ের কালো মেঘ। একদিকে নাইট এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে চারটে পন উধাও। মাঝপথে একবার মনে হয়েছিল হয়তো গুকেশ তাঁর চেনা ‘রেস্কিউ অ্যাক্ট’ দেখাবেন। কিন্তু ৩৭তম চালের পর ম্যাচ আবার অভিমন্যুর নিয়ন্ত্রণে। একের পর এক নির্ভুল চাল খেলে গেলেন কিশোর গ্র্যান্ডমাস্টার। শেষমেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করলেন ৬১তম চালে।
দিনটা অভিমন্যুর কাছে আরও বড় হয়ে থাকত, যদি আগের দিন প্রজ্ঞানন্দর (Praggnanandhaa) বিরুদ্ধে হাতে পাওয়া চোদ্দো আনা কাজে লাগাতে পারতেন! তখনও তিনি একটি পন পিছিয়ে ছিলেন, তবু ম্যাচ বাঁচিয়ে ড্র-তেই তুষ্ট থাকতে হয়। ম্যাচ শেষে অভিমন্যুর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘আজ জিতেও আগের ম্যাচগুলোর মতো তৃপ্তি পাচ্ছি না। খেলাটা খুব পরিষ্কার হয়নি। তবে টুর্নামেন্ট আমার ধারণার চেয়েও ভাল চলছে। গুকেশ বা প্রজ্ঞানন্দ—কাউকেই নিজের থেকে বড় মনে করি না। আমিও সমানে সমান খেলতে পারি!’
অভিমন্যুর উত্থান নিছক কাকতালীয় নয়। শৈশবে নিউ জার্সিতে বেড়ে ওঠা কিশোর মাত্র আড়াই বছর বয়সেই দাবায় হাত পাকান। বাবাই শিক্ষাগুরু। পরে ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার মাগেশ চন্দ্রন (Magesh Chandran) আর অরুণ প্রসাদ সুব্রহ্মণমের (Arun Prasad Subramanian) তত্ত্বাবধানে নিজেকে আরও শাণিত করেন। ১২ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব, আর এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারানো—ধাপে ধাপে দাবার দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
দিনটা সবমিলিয়ে অবশ্য ভারতের জন্য বেশ অনুজ্জ্বল। গুকেশের হারের পাশাপাশি প্রজ্ঞানন্দও পরাস্ত হলেন জার্মান গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাথিয়াস ব্লুবাউমের কাছে, যিনি রেটিংয়ে তাঁর থেকে শতাধিক পয়েন্ট নিচে! হারের তালিকায় যোগ হল দিব্যা দেশমুখ (Divya Deshmukh) ও ভান্তিকা আগরওয়ালের (Vantika Agrawal) নামও। তবে ইতিবাচক দিক—অর্জুন এরিগাসি (Arjun Erigaisi) জিতে ফিরলেন, হারালেন ব্রিটিশ গ্র্যান্ডমাস্টার নিকিতা ভিতিউগভকে (Nikita Vitiugov)। বিদিত গুজরাঠি (Vidit Gujrathi), বৈশালী (Vaishali Rameshbabu), হরিকা দ্রোণাভল্লি (Harika Dronavalli), নিহাল সরিন (Nihal Sarin), হরিকৃষ্ণ পেন্টালা (Harikrishna Pentala), রৌনক সাদানি (Raunak Sadhwani), আদিত্য মিত্তল (Aditya Mittal), এস এল নারায়ণন (SL Narayanan)—বাকি অধিকাংশই দাবাড়ুই ড্র হাসিল করেছেন।