কয়েক মাসের মধ্যে গোটা দুনিয়াটাই যেন পালটে গিয়েছে। সামারকন্দের গ্র্যান্ড সুইস মঞ্চে পরপর পরাজয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন: বছর উনিশের দাবাড়ু কি নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য, ছন্দ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন?

ডি গুকেশ
শেষ আপডেট: 10 September 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাগনাস কার্লসেনকে হারিয়ে হাতে উঠেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব। অপ্রত্যাশিত কায়দায় ছিনিয়ে আনেন জয়। সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়ে দোম্মারাজু গুকেশ ছিলেন খুশির সপ্তম স্বর্গে। কয়েক মাসের মধ্যে গোটা দুনিয়াটাই যেন পালটে গিয়েছে। সামারকন্দের (Samarkand) গ্র্যান্ড সুইস মঞ্চে পরপর পরাজয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন: বছর উনিশের দাবাড়ু কি নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য, ছন্দ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন?
রবিবার অভিমন্যু মিশ্রর (Abhimanyu Mishra) কাছে কিস্তিমাত খান। আটচল্লিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে মঙ্গলবার আবারও ধাক্কা খেলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ষষ্ঠ রাউন্ডে গ্রিসের নিকোলাস থিওডোরুর (Nikolas Theodorou) বিরুদ্ধে খেলতে নেমে চরম ভুলের মাশুল গুনতে হল। আত্মসমর্পণ করলেন অপ্রত্যাশিত ঢঙে। রুক-অ্যান্ড-পন এন্ডগেম ড্র-তে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে গিয়ে শেষমেশ কুপোকাত!
এই পরাজয়ের সুবাদে টুর্নামেন্ট টেবিলে তাঁর অবস্থান অস্বস্তি বাড়াবে। ছ’রাউন্ড শেষে ঝুলিতে তিন পয়েন্ট—মানে পঞ্চাশ শতাংশ স্কোর। ক্যান্ডিডেটস ২০২৬–এর আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে অন্তত চারটে জিততেই হবে। ফর্মের যা অবস্থা, তাতে এই চ্যালেঞ্জকে ‘দুঃসাধ্য’ বলেই মনে হচ্ছে।
যদিও গুকেশের বিপর্যয়ের দিনে ফর্ম ধরে রেখেছেন অর্জুন এরিগাসি (Arjun Erigaisi)। ইরানের পারহাম মাগসুদলুর (Parham Maghsoodloo) বিরুদ্ধে কালো ঘুঁটি নিয়ে দুরন্ত ড্র করেন তিনি। মাগসুদলু ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, ৪.৫ পয়েন্ট নিয়ে অর্জুন রয়েছেন একদম পেছনে। সমান অবস্থানে অভিমন্যু, জার্মানির ম্যাথিয়াস ব্লুবাউম (Matthias Bluebaum) আর ভারতের নিহাল সরিন (Nihal Sarin)। যিনি পোল্যান্ডের সিমন গুমুলার্জের (Szymon Gumularz) বিরুদ্ধে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের ট্যাকটিক্যাল ভুলের ফায়দা নেন।
আরেক তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) অবশ্য এদিন জয়ের রাস্তা খুঁজে পাননি। আজারবাইজানের রাউফ মামেদভের (Rauf Mamedov) মজবুত রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, ড্র-তেই তুষ্ট থাকেন প্রজ্ঞা। অন্যদিকে বিদিত গুজরাঠি (Vidit Gujrathi) ফিরলেন জয়ের পথে—স্লোভেনিয়ার আন্তন ডেমচেঙ্কোকে (Anton Demchenko) হারালেন দাপটের সঙ্গে। আরও এক দফা ড্র করলেন পেন্টালা হরিকৃষ্ণ (P Harikrishna), রৌনক সাদানি (Raunak Sadhwani), আদিত্য মিত্তল (Aditya Mittal), এস এল নারায়ণন (SL Narayanan), আরিয়ান চোপড়া (Aryan Chopra) আর দিব্যা দেশমুখ (Divya Deshmukh)।
মহিলাদের আসরে উজ্জ্বলতম নাম নিঃসন্দেহে আর বৈশালী (R Vaishali)। কালো ঘুঁটি নিয়েও দুর্দান্ত খেললেন। হারালেন আজারবাইজানের উলভিয়া ফাতালিয়েভাকে (Ulviyya Fataliyeva)। জয় পেয়ে পাঁচ পয়েন্টে তুলে বৈশালী এই মুহূর্তে যৌথ শীর্ষে। পাশে কাতেরিনা লগনো (Kateryna Lagno)। যিনি এদিন জয় ছিনিয়ে নেন জার্মানির দিনারা ভাগনারের (Dinara Wagner) বিরুদ্ধে। বৈশালীর জয়ের কায়দাও দারুণ—অতিরিক্ত পনকে নিখুঁতভাবে রুক-অ্যান্ড-পনে রূপান্তর করে চেকমেটের দিকে নিয়ে যান। তাঁর খেলায় যে নিয়ন্ত্রণ আর আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তাতে ক্যান্ডিডেটসের আসনে নাম লেখানো কার্যত অবধারিত।
দিনটা ভালো কেটেছে দ্রোণাভল্লি হরিকার (Dronavalli Harika)। গুলরুখবেগিম তোখিরজনোভাকে (Gulrukhbegim Tokhirjonova) হারালেন তিনি। জয় পেলেন বন্তিকা আগরওয়াল-ও (Vantika Agrawal)। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার লিনা নাসর (Lina Nassr)। বুধবার খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্রামের দিন। তারপর শেষ পাঁচ রাউন্ডের টানটান উত্তেজনা। কারণ—পুরুষ ও মহিলা, দুই বিভাগ থেকেই শীর্ষ দু’জনের জন্য অপেক্ষা করছে ২০২৬ ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টের টিকিট। অর্থাৎ, সাদা বাংলায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ।
এই গ্র্যান্ড সুইস টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার মূল্য ৮৫৫,০০০ মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। যদিও অর্থ নয়, আসল লড়াই সম্মান আর ক্যান্ডিডেটসে নাম লেখানোর চ্যালেঞ্জ। গুকেশ সেই মর্যাদার ভার সামলাতে পারছেন তো? সামারকন্দের পরবর্তী রাউন্ডগুলোই দেবে তার উত্তর।