প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত নয়। যতটা অভূতপূর্ণ বিশ্বকাপে দিব্যার জার্নি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দাবায় হাত পাকানো শুরু। আর উনিশে পৌঁছে বিশ্বজয়।

দিব্যা দেশমুখ
শেষ আপডেট: 28 July 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাইব্রেকারের শেষ চাল দেওয়ামাত্র যখন লড়াইয়ের ভবিতব্য চূড়ান্ত হয়ে গেল, দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল খবর: এবারের মহিলা দাবা বিশ্বকাপ জিতলেন তিনিই… দিব্যা দেশমুখ… তখন বছর উনিশের দাবাড়ু সংহত মেজাজে ধীর পায়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মাকে। বেশ শক্ত করে। আর সবশেষে বাঁধভাঙা কান্নায় মুহূর্তে ভেঙে পড়লেন।
এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত নয়। যতটা অভূতপূর্ণ বিশ্বকাপে দিব্যার জার্নি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দাবায় হাত পাকানো শুরু। আর উনিশে পৌঁছে বিশ্বজয়। অথচ এতদিন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারের তকমাটুকু জুটেছিল কেবল, গ্র্যাডমাস্টারের গ্ল্যামার অর্জন করতে পারেননি।
দ্বিগুণ বয়সী কোনেরু হাম্পি, যাঁকে অনেকেই ‘ফেভারিট’ বলে দেগে দিয়েছিলেন, তাঁকে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর অধরা স্বীকৃতিও দিব্যার দখলে চলে এল! দেশের ৮৮তম ও চতুর্থ মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টারের তকমা নাগপুরের কিশোরীর মুকুটে নতুন পালক!
টুর্নামেন্টে অতি বড় বিশেষজ্ঞও তাঁকে ফেভারিট মনে করেননি। প্রথম সারির বাছাই প্রতিযোগী ছিলেন না। ফলে প্রতিটি রাউন্ডে বাঘা বাঘা দাবাড়ুদের মুখে পড়তে হয়েছে। আর সমস্ত ক্ষেত্রে পাশা পালটে শেষ হাসি হেসেছেন দিব্যাই। এক অর্থে অসাধ্যসাধন! চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় যেভাবে চাল চেলেছেন, বিশেষ করে সেমিফাইনালে দুনিয়ার পয়লা নম্বর দাবাড়ুর বিরুদ্ধে আধিপত্য দেখিয়েছেন, দাপটের সঙ্গে পা রেখেছেন ফাইনালে, তাতে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমাটা ভুল কিছু নয়। অবশ্য দানবীয় ফাইনাল জিতে এবার থেকে ‘জায়ান্টে’র স্বীকৃতি মাথায় সামনের টুর্নামেন্টগুলোয় খেলতে নামবেন দিব্যা। এই সাফল্যের ভার চাপ বাড়াবে না আত্মবিশ্বাস জোগাবে—সেটা বলবে সময়!
ফাইনালে নামার আগে জানিয়েছিলেন, চাপ নেই। তিনি ঘুমোতে চান। কতটা ঘুমিয়েছেন, সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে আজ রাতে হোটেলে ফিরে প্রশান্তির নিদ্রা দেবেন, তা বলাই বাহুল্য! তার আগে অবশ্য বিজয়িনীকে দেখা গেল মায়ের বাহুডোরে, নিবিড় আলিঙ্গনে। এবং সেটা বেশ খানিক্ষণ। কাঁদলেন অঝোরে। চোখ মুছলেন। তারপর অপ্রস্তুত দশা কাটিয়ে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, ‘আমায় একটু ধাতস্থ হতে দিন। বুঝে উঠতে দিন!’ খানিক গুছিয়ে জুড়ে দিলেন, ‘এভাবে গ্র্যান্ডমাস্টারের তকমা পাব—মনে হয় ভাগ্যেই লেখা ছিল। এর আগে জিএম নর্ম পর্যন্ত পাইনি। অথচ আজ থেকে আমি গ্র্যান্ডমাস্টার!’
বিস্ময়ের ঘোর হয়তো খানিক বাদেই কেটে যাবে। খুশির আবেগে ঝরে পড়া চোখের জলও যাবে শুকিয়ে। কিন্তু দেশের প্রথম মহিলা দাবা বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের পাতায় যেভাবে নাম লেখালেন দিব্যা, সেই লড়াই আর সংগ্রামের কাহিনি একদিন অমলিন লোকশ্রুতি, স্মরণীয় কিংবদন্তি হয়ে উঠবে। তা কোনওদিন ফিকে হবে না।