সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া আইনে টাকা নিয়ে অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ড্রিম-১১–এর মূল ব্যবসাই ছিল এই রিয়েল-মানি গেমিং পরিষেবা।

শেষ আপডেট: 25 August 2025 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন অনলাইন গেমিং আইন পাশ হওয়ার পর বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। দেশের সবচেয়ে বড় ফ্যান্টাসি গেমিং সংস্থা ড্রিম-১১ (Dream 11) জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর জাতীয় দলের স্পনসর হিসেবে থাকছে না। ফলে দু’সপ্তাহ পর দুবাইয়ে শুরু হতে চলা এশিয়া কাপের (Asia Cup) আগে স্পনসরশিপহীন হয়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া।
সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া আইনে টাকা নিয়ে অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ড্রিম-১১–এর মূল ব্যবসাই ছিল এই রিয়েল-মানি গেমিং পরিষেবা। নতুন আইনের কারণে বাধ্য হয়েই সংস্থাটি সব পেইড কনটেস্ট বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র ফ্রি-টু-প্লে গেম চালু রাখে। এই পরিস্থিতিতে তারা বিসিসিআই–কে জানিয়ে দিয়েছে যে চুক্তি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিসিসিআই–র এক কর্মকর্তা জানান, “ড্রিম-১১–এর প্রতিনিধিরা সিইও হেমাং আমিনকে জানিয়েছে যে তারা এশিয়া কাপে আর স্পনসর হিসেবে থাকছে না। তাই খুব শীঘ্রই নতুন টেন্ডার ডাকা হবে।” চুক্তিতে এমন একটি ধারা ছিল, যেখানে সরকারি আইনে ব্যবসা প্রভাবিত হলে কোম্পানিকে কোনও জরিমানা গুনতে হবে না। তাই আর্থিক ক্ষতিপূরণও পাবে না বোর্ড।
১৮ বছর আগে শুরু হওয়া ড্রিম-১১ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় ফ্যান্টাসি গেমিং প্ল্যাটফর্ম, যার মূল্যায়ন প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে ৩৫৮ কোটি টাকার বিনিময়ে তারা ভারতীয় দলের স্পনসরশিপ নেয়, বাইজুসকে সরিয়ে। এছাড়া আইপিএলের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, নিউজিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশ, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ ও মহিলা বিগ ব্যাশে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফুটবল, বাস্কেটবল, হকি ও কাবাডিতেও যুক্ত ছিল তারা।
অনলাইন রিয়েল-মানি গেমিংকে ‘ক্ষতিকর’ আখ্যা দিয়ে সরকার জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, আর্থিক ক্ষতি, জালিয়াতি, অর্থপাচার এমনকি সন্ত্রাসে অর্থ যোগানের মতো সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে দেশ। সেই কারণেই আইন করে একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ড্রিম-১১–এর স্পনসরশিপ প্রত্যাহারে আপাতত চাপে বিসিসিআই। এশিয়া কাপের আগে নতুন পার্টনার খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।