ম্যাচ শেষে জোকোভিচ যথারীতি উদার গলায় বললেন, ‘ভ্যালেন্টিনকে অভিনন্দন জানাই। যোগ্যতা পর্ব থেকে উঠে এসে মাস্টার্স ফাইনাল—এ এক অবিশ্বাস্য গল্প। ওর মানসিকতা, শরীরী ভাষা—সবই দুর্দান্ত। আজ যে জিতেছে, সে-ই সেরা!’

জোকোভিচ বনাম ভাশেরট
শেষ আপডেট: 12 October 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেনিস দুনিয়ায় এমন গল্প খুব একটা দেখা যায় না। যোগ্যতা পর্ব থেকে উঠে এসে বিশ্বের এক নম্বর কিংবদন্তিকে হারানো! সাংহাই মাস্টার্সের (Shanghai Masters) মঞ্চে কিন্তু সেটাই ঘটল। আর এই অস্বস্তিকর অধ্যায়ের সাক্ষী রইলেন নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic)।
শনিবার সেমিফাইনালে মোনাকোর ২০৪ নম্বর র্যাঙ্কের ভ্যালেন্টিন ভাশেরট (Valentin Vacherot) ৬-৩, ৬-৪ সেটে হারালেন ২৪ বারের গ্র্যান্ডস্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচকে। এটাই ইতিহাস—এত নিচু র্যাঙ্কের কোনও খেলোয়াড় কখনও এটিপি মাস্টার্সের (ATP Masters 1000) ফাইনালে পৌঁছাননি! মজার ব্যাপার, রবিবারের ফাইনালে ভাশেরটের প্রতিপক্ষ আর কেউ নন—নিজের মামাতো ভাই, ফরাসি আর্থার রিন্ডারখনেশ (Arthur Rinderknech)!
ম্যাচের পর উলটপুরাণ লিখে নিজেও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না ভাশেরট। বললেন, ‘আমি চিমটি কাটছি—এটা কি সত্যি ঘটছে? নোভাকের বিপক্ষে খেলা মানেই এক অমূল্য অভিজ্ঞতা। আমার মনে একশো রকম অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করছে!’
জোকোভিচের কাছে দিনটা একেবারেই ভালো ছিল না। সারাক্ষণ পিঠের চোটে কাতরালেন, মাঝেমধ্যেই চিকিৎসকদের ডাক পাঠালেন। সপ্তম গেমের শুরুতেই দেখা গেল মাটিতে উপুড় হয়ে, শার্ট খুলে ফিজিওর শুশ্রূষা নিচ্ছেন। এরপরও দ্বিতীয় সেটে চেষ্টা চালিয়ে যান, এমনকি একসময় ৪-৩ এগিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাশেরটের তীব্র গতি, শার্প রিটার্ন আর অটল মনোসংযোগে হার মানেন বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ যথারীতি উদার গলায় বললেন, ‘ভ্যালেন্টিনকে অভিনন্দন জানাই। যোগ্যতা পর্ব থেকে উঠে এসে মাস্টার্স ফাইনাল—এ এক অবিশ্বাস্য গল্প। ওর মানসিকতা, শরীরী ভাষা—সবই দুর্দান্ত। আজ যে জিতেছে, সে-ই সেরা!’
এই জয়ের সুবাদে এক লাফে ১৪৬ ধাপ এগিয়ে লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন ৫৮ নম্বরে। হোলগার রুনেকে (Holger Rune) হারিয়ে যেভাবে আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন, সেই জোয়ারই যেন দেখা গেল জোকোভিচ-ম্যাচে।
এদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রিন্ডারখনেশ চমক দেখালেন রাশিয়ার দানিয়েল মেদভেদেভকে (Daniil Medvedev) হারিয়ে। এক সেটে পিছিয়ে থেকেও ৪-৬, ৬-২, ৬-৪ জিতে তিনি নিশ্চিত করলেন ‘পারিবারিক ফাইনাল’। যেখানে যুযুধান দুই মামাতো ভাই!
রিন্ডারখনেশ রসিকতার সুরে বলেছেন, ‘আমাদের পরিবারেও কেউ এমনটা স্বপ্নে ভাবেনি! আমি যখন প্রথম সেটে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, ভাবলাম, অন্তত লড়াই চালিয়ে যাব, যাতে কাল ভ্যালেন্টিনের সুবিধা হয়। ও যেন ফাইনালে একটু এগিয়ে থেকে শুরু করতে পারে!’ অন্যদিকে ম্যাচ শেষেই ভাশেরট ফিরে এলেন কোর্টে, ভাইয়ের জয় দেখলেন, তারপর গ্যালারিতেই গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। রবিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট (BST) থেকে শুরু হবে সাংহাই মাস্টার্সের সেই রূপকথার ফাইনাল। একদিকে বিশ্ব র্যাঙ্কিং ২০৪ থেকে উঠে আসা তরুণ সেনসেশন ভাশেরট, অন্যদিকে অভিজ্ঞ রিন্ডারখনেশ—দু’জনেরই লক্ষ্য এক: পরিবারের গৌরব আর ব্যক্তিগত ইতিহাস লেখা।