গিলবার্টের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। তাঁর চোখে, আলকারাজ–সিনার জুটিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো খেলোয়াড় এই মুহূর্তে বিশ্ব টেনিসে নেই।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 September 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner) আসলে কে? নিছক টেনিস দুনিয়ার উঠতি প্রতিভা? নাকি পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ফের রাজত্ব দখলে সংগ্রামী তরুণ?
কোনও একটা পরিচয়ে তাঁকে সংজ্ঞায়িত করাটা কঠিন। যদিও এতশত জটিলতার ধার ধারতে নারাজ প্রাক্তন টেনিস তারকা ও আন্দ্রে আগাসির (Andre Agassi) একদা কোচ ব্র্যাড গিলবার্ট (Brad Gilbert)। ইতালীয় তরুণের খেলা দেখে তাঁর চোখ কপালে উঠেছে। গিলবার্টের নজরে, সিনার আপাদমস্তক ‘অদ্ভুত প্রতিভা’! সেই ‘অদ্ভুতত্ত্বে’র ধরনটা ঠিক কীরকম? গিলবার্ট বলেছেন, ‘আগাসি আর জোকোভিচকে (Novak Djokovic) যদি একসঙ্গে ব্লেন্ডারে মেশান, তবে যেটা বেরোয়, সেটা হচ্ছে সিনার! ওর লেভেল এখন ভয়ঙ্কর রকম উঁচু। আমি বিস্মিত। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, সিনার এখনও পুরোপুরি তৈরি খেলোয়াড় নয়!’
‘আনফিনিশড প্রোডাক্ট’ হয়েও চলতি মরশুমে জিতেছেন অস্ট্রেলীয় ওপেন ও উইম্বলডন। আর এই প্রতিভার মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করতে বসে গিলবার্ট বলেছেন, ‘যদি চব্বিশ বছর বয়সে ভেবে নাও সব কিছু হয়ে গেছে, তবে আর উন্নতি সম্ভব নয়। কিন্তু সিনার একেবারে অন্য ধাঁচের। বয়স কম হলেও অভিজ্ঞ মনের মানুষ। সবসময় বলে, কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়। ঠিক এমনই ছিল রাফা (Rafael Nadal)। স্বভাবে নম্র। তবু উন্নতির অদম্য ইচ্ছে। তার উপর আলকারাজের (Carlos Alcaraz) মতো প্রতিদ্বন্দ্বী! উন্নতি না করলে আলকারাজ পেছনে ফেলে দেবে—এটাও ওকে মোটিভেট করে!’
গিলবার্টের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। তাঁর চোখে, আলকারাজ–সিনার জুটিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো খেলোয়াড় এই মুহূর্তে বিশ্ব টেনিসে নেই। বলেছেন, ‘আমি মনে করি না, কেউ দু’জনকে টানা হারাতে পারবে। বিগ থ্রি-র (Federer–Nadal–Djokovic) সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। কিন্তু এরা দু’জন যে জায়গায় পৌঁছেছে, বয়স ২৩–২৪ হয়েও, সেটা অবিশ্বাস্য। আমি ভেবেছিলাম বিগ থ্রি-র পর অন্তত ৩–৫ বছরের ফাঁকা সময় যাবে—কিন্তু এরা দু’জন সেই শূন্যতা একেবারে মুছে দিয়েছে!’
অন্যদিকে, ইউএস ওপেন জয়ের চব্বিশ ঘণ্টা বাদে স্প্যানিশ মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন কার্লোস আলকারাজ। নিজের মোটিভেশন আর মানসিকতা নিয়ে অকপট মেজাজে বলেছেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ খেলার পরেও আমি বিশ্বাস করি, ‘নিখুঁত’ বলে কিছু নেই। হয়তো কাছাকাছি পৌঁছনো যায়। কিন্তু নির্ভুল হওয়া অসম্ভব। তাই সবসময় নিজেকে মনে করাই—আরও ভালো হতে হবে। অন্য কেউ, হয়তো সিনার নিজেই, আমাকে টপকে যেতে পারে। সেই কারণে প্রতিদিন ট্রেনিং করি, উন্নতির চেষ্টা চালাই। জানি আমি কখনও নিখুঁত হব না। কিন্তু কাছাকাছি যেতে চাই। এটাই মোটিভেট করে!’
শুধু কোর্টের খেলাই নয়, নিজের বয়স আর ময়দানের বাইরে জীবন উপভোগ নিয়েও অকপট আলকারাজ। বলেছেন, ‘আমরা এত কষ্ট করি, বাড়ি থেকে দূরে থাকি, সাফল্যের জন্য লড়ি—তারপর তো আনন্দ করারই কথা! আমার বয়স ২২। এই বয়সে কে আড্ডা দেয়নি, কে-ই বা বন্ধু–পরিবারের সঙ্গে মজা করেনি? আমিও পার্টি করতে ভালবাসি, আবার ঘরোয়া মেজাজে সময় কাটাতে পছন্দ করি। পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে এই মুহূর্তই আসল মোটিভেশন জোগায়!’