.jpeg)
রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 10 February 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলেবেলায় বাবা প্রায়শই একটি কথা বলতেন, ‘যখন কাউকে কিছু সাহায্য করবে, মনে রেখো, তার দ্বিগুণ প্রতিদান হিসেবে ফেরত পাবে।‘
পর্তুগালের ছোট শহর মেদিইরায় বেড়ে ওঠা বাচ্চা ছেলেটা বাবার বলা এই কথাটি ভোলেনি । যখনই হাতে এসেছে সম্মান, স্বীকৃতি, তখনই তার ছায়ায় আশ্রয় দিতে চেয়েছেন তাঁদের, যাঁদের পেটে ভাত নেই, মাথার উপরে নেই আশ্রয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জৌলুসভরা জীবনের অন্তরালে মিশে রয়েছে এমনই সমানুভূতি, সহানুভূতির টুকরো টুকরো গল্প।
শুনতে অদ্ভুত ঠেকলেও রোনাল্ডোর এই পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার জন্যই তাঁর গায়ে-হাতে কোনও ট্যাটু নেই! বার্সেলোনার বিরুদ্ধে গোল করে ন্যু ক্যাম্পে সমাগত দর্শকদের এক নিমেষে চুপ করানোর পর জার্সি উড়িয়ে যখন সুঠাম শরীরটিকে ফ্লাডলাইটের আলোয় মেলে ধরেন রোনাল্ডো, তখন অনুরাগীদের অবাক করা চোখে একরাশ তারিফের পরেও দীর্ঘশ্বাস সমেত একটি কথাই ঘুরপাক খায়: ইশ, যদি খানকতক ট্যাটু গায়ে-পায়ে শোভা পেত, তবে গ্রিক ভাস্করের শিল্পকর্মের মতো এই দেহখানা হয়ে উঠত পুরোপুরি সার্থক!
সমর্থকদের এই খোয়াব পূরণ করেননি রোনাল্ডো। শরীরের কোথাও ট্যাটু করাননি তিনি। আসল বিষয়টি হচ্ছে: রোনাল্ডো একজন রক্তদাতা। কালেভদ্রে নয়, হামেশাই, ডাক্তারদের সঙ্গে একটিবার পরামর্শ সেরে রক্তদান করে থাকেন। গায়ে কালির কোনও প্রলেপ থাকলে রক্ত দেওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে কোনও প্রত্যঙ্গেই ট্যাটু করাননি তিনি। পুরোপুরি কালি-মুক্ত তাঁর শরীর। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সাল থেকে রক্তদান যে মহৎদান—এই বিষয়ে কর্মসূচি শুরু করেছেন রোনাল্ডো। সাধারণ মানুষকে জানিয়েছেন এগিয়ে আসার আহ্বান।
উল্লেখ্য, জনহিতকর কাজে পর্তুগিজ তারকার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। ২০১১ সালে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের খেতাব দখল করেন রোনাল্ডো। হাতে আসার পর ওই স্মারক তিনি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। যা ১০ কোটি ভারতীয় মুদ্রায় বিক্রি হয়। ওই টাকা হাতে আসার পর রোনাল্ডো ঘোষণা করেন, গাজায় স্কুল নির্মাণে তা বরাদ্দ হবে। দু’বছর পর, ২০১৩ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর সেই খেতাবও তিনি নিলামে বেচেন। একইভাবে ওই টাকা দান করেন মেক-আ-উইশ নামের একটি মার্কিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায়। অলাভজনক ওই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দুঃস্থ শিশুদের দেখভালের কাজ করে চলেছে।
এ ছাড়া ইউনিসেফ, সেফ দ্য চিল্ড্রেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে যা কিছু বোনাস হিসেবে পেয়েছেন, সে সবই এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। ছেলেবেলায় অর্থকষ্ট কাকে বলে সেটা দেখেছেন। দারিদ্র্যকে জয় করে বেড়ে উঠেছেন। তাই অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার বন্দোবস্তের দায়িত্ব নিতেও পিছপা হননি রোনাল্ডো।