কার্লসেনের পর দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে এখন সেভাবে একক আধিপত্য নেই। ডিং লিরেন জিতেছেন, পরে মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন গুকেশও। এই অনিশ্চয়তাই কি সাইপ্রাসের লড়াইকে আরও উত্তেজক করে তুলেছে?

আর প্রজ্ঞানন্দ
শেষ আপডেট: 29 March 2026 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চৌষট্টি খোপের মঞ্চে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে শুধু ভাল খেলোয়াড় হওয়াটাই যথেষ্ট নয়। প্রথমে যোগ্যতা অর্জনের টুর্নামেন্টের যোগ্যতা অর্জন, তারপর যোগ্যতা অর্জনের টুর্নামেন্ট জিতে নেওয়া, সবশেষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে মোলাকাত—এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে পৌঁছনো যায় শীর্ষে।
দাবার এই ছকবাঁধা, খানিক নিষ্ঠুর গণিত মেনেই রবিবার থেকে সাইপ্রাসে শুরু হচ্ছে ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্ট (Chess Candidates 2026)। এই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পাবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দোম্মারাজু গুকেশকে (D Gukesh) চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ। আট খেলোয়াড়, একটি মুকুট… হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সমাগত!
প্রজ্ঞানন্দই ভারতের একমাত্র আশা
ক্যান্ডিডেটসে ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। সেই ‘উত্তেজিত কিশোরে’র তকমা উধাও। এখন তিনি ‘পরীক্ষিত যোদ্ধা’। খেলার ধরন দুটো বিপরীত গুণের মিশেল—আক্রমণে দাপট এবং রক্ষণে অসাধারণ দৃঢ়তা। খারাপ দিনেও প্রতিপক্ষকে ঘোল খাওয়াতে সিদ্ধহস্ত! প্রতিভাবানের ‘নার্ভাসনেস’ নেই… এবার নিজের সেরাটা দেওয়ার সময়।
দুই অভিজ্ঞ—কারুয়ানা ও নাকামুরা
ফাবিয়ানো কারুয়ানা (Fabiano Caruana) নামতে চলেছেন ষষ্ঠ ক্যান্ডিডেটসে। বছরের পর বছর ‘প্রায় বিজয়ী’র তকমা বহন করেছেন। সেই ২০১৮ সালে ক্যান্ডিডেটস জিতে ম্যাগনাস কার্লসেনের বিরুদ্ধে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নেমেছিলেন। এ ছাড়া প্রায়শই তীরে এসে তরী ডুবেছে। এবার কিন্তু সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে মাঠে নামছেন।
তাঁকে জোর টক্কর দিতে চলেছেন হিকারু নাকামুরা (Hikaru Nakamura)। চতুর্থবার এই মঞ্চে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই সাইপ্রাসে পৌঁছে নিজের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। এই তথ্যটুকু বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবার কতটা সিরিয়াসলি লড়তে এসেছেন।
বাকি চার প্রতিদ্বন্দ্বী
চিনের ওয়েই ই (Wei Yi) দিং লিরেনের পর চিনা দাবার নতুন ভরসা। শান্ত মেজাজের এই খেলোয়াড় লম্বা রেসের ঘোড়া। অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ। পাশাপাশি উজবেকিস্তানের জাভোখির সিন্দারভ (Javokhir Sindarov) সবচেয়ে কম বয়সী—সদ্য ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছেন। উদ্যমী, অপ্রত্যাশিত—যে কাউকে চমকে দিতে পারেন!
নজরে নেদারল্যান্ডসের অনীশ গিরিও (Anish Giri)। গ্র্যান্ড সুইস বিজয়ী। চার নম্বর বার ক্যান্ডিডেটস খেলছেন। হাসিখুশি স্বভাবের আড়ালে দাবার সঙ্গে গভীর বোঝাপড়া। জার্মানির মাথিয়াস ব্লুবাউমও অন্ধকারে আলো ছড়াতে পারেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিনিধি এবার আন্দ্রেই এসিপেনকো—দু’বারের ক্যান্ডিডেটস বিজয়ী নেপমনিয়াচতি নন।
উল্লেখ্য, কার্লসেনের পর দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে এখন সেভাবে একক আধিপত্য নেই। ডিং লিরেন জিতেছেন, পরে মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন গুকেশও। এই অনিশ্চয়তাই কি সাইপ্রাসের লড়াইকে আরও উত্তেজক করে তুলেছে?