জয়ের পর র্যাকেট ছুড়ে কোর্টে শুয়ে পড়েছিলেন আলকারাজ। কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ। তারপর উঠে নেটে গিয়ে হ্যান্ডশেক—জোকোভিচের মুখেও তখন প্রশংসার হাসি।

কার্লোস আলকারাজ
শেষ আপডেট: 1 February 2026 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রড লেভার অ্যারেনায় (Rod Laver Arena) জোকোভিচের নিয়ন্ত্রণহীন শটে বলটা বাইরে পড়তেই ইতিহাস! এক সেট পিছিয়ে পড়েও দমে না গিয়ে কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz) ধাপে ধাপে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পুরুষদের সিঙ্গলস ফাইনালে হারালেন টুর্নামেন্টের দশবারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে (Novak Djokovic)। স্কোরলাইন বলছে—২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫। কিন্তু জয়ের আসল ওজন স্কোরকার্ডের অনেক যোজন দূরে!
এই জয়ের সুবাদে মাত্র ২২ বছর বয়সে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করলেন আলকারাজ। অর্থাৎ, চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম—অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফরাসি ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন—সবকটিই তাঁর দখলে। পুরুষদের টেনিসে এত কম বয়সে এই কৃতিত্ব এর আগে কারও হাতে আসেনি।
ধৈর্যে গড়া জয়
ফাইনালের শুরুটা ছিল পুরোপুরি জোকোভিচের নিয়ন্ত্রণে। প্রথম সেটে সার্ভিস ও রিটার্ন—দু’দিকেই আধিপত্য দেখিয়ে ৬-২ ব্যবধানে সেট তুলে নেন ৩৮ বছর বয়সি সার্বিয়ান কিংবদন্তি। তখনও মনে হচ্ছিল, মেলবোর্নে ইতিহাস লিখতে চলেছেন—২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হাতে তোলা অসম্ভব নয়!
কিন্তু দ্বিতীয় সেট থেকে পাল্টাতে শুরু করে ম্যাচের ছবি। আলকারাজ ধীরে ধীরে র্যালি লম্বা করেন, জোকোভিচকে বাধ্য করেন বাড়তি শট খেলতে। ৬-২ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান স্প্যানিশ তরুণ। তৃতীয় সেটে ফারাক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ফুটওয়ার্ক, ডিফেন্স আর কাউন্টার-অ্যাটাকের নিখুঁত মিশেলে ৬-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান আলকারাজ।
চতুর্থ সেট ছিল প্রকৃত অর্থেই ফাইনালের মতো। দু’জনই বড় পয়েন্টে একচুল ছাড়তে নারাজ। শেষ পর্যন্ত ৭-৫ ব্যবধানে সেট ও ম্যাচ পকেটে পুরে ইতিহাস গড়ে ফেলেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা!
৮৮ বছরের রেকর্ড ভাঙল
এই জয়ের সুবাদে আলকারাজ ভেঙে দিলেন প্রায় এক শতাব্দী পুরনো রেকর্ড। ১৯৩৮ সালে ডন বাজ (Don Budge) ২২ বছর ৩৬৩ দিনে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করেছিলেন। আলকারাজ সেটা হাসিল করলেন ২২ বছর ২৭২ দিনে। অর্থাৎ, ৮৮ বছরের পুরনো মাইলফলক লেখা হল নতুন করে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে এই প্রথম হারলেন জোকোভিচ। এর আগে মেলবোর্ন পার্কে (Melbourne Park) দশটি ফাইনাল খেলেছেন, দশবারই চ্যাম্পিয়ন! সেই অজেয় অধ্যায়ের পাঁচিলে ফাটল ধরালেন আলকারাজ। আপাতত পিছিয়ে গেল ফলে জোকোভিচের রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন!
ম্যাচের পরিসংখ্যানও আলকারাজের মানসিক দৃঢ়তার কথা বলছে। ১৬টি ব্রেক পয়েন্টের মধ্যে পাঁচটি কাজে লাগান তিনি। বড় ম্যাচে সুযোগ নষ্ট না করাই যে নতুন প্রজন্মের এই চ্যাম্পিয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি, সেটাই আবার প্রমাণিত হল।
নতুন যুগের ঘোষণা
জয়ের পর র্যাকেট ছুড়ে কোর্টে শুয়ে পড়েছিলেন আলকারাজ। কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ। তারপর উঠে নেটে গিয়ে হ্যান্ডশেক—জোকোভিচের মুখেও তখন প্রশংসার হাসি। এই দৃশ্যটাই যেন সময়ের প্রতীক—এক প্রজন্ম বিদায় জানাচ্ছে, আরেক প্রজন্ম দৃপ্ত পায়ে দায়িত্ব তুলে নিচ্ছে।