কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেন ৭২ দেশের প্রতিযোগী। ভারতের আশা, দ্বিতীয়বার এই আয়োজন কেবল ক্রীড়া নয়, বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংহতিতে এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয়বারের মতো কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের পথে এগোল ভারত। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০৩০ সালের আসরের বিডে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল। আয়োজক শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আমদাবাদকে।
কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কমনওয়েলথ গেমস ২০৩০-এর বিড অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ‘হোস্ট কলাবোরেশন অ্যাগ্রিমেন্টে’ স্বাক্ষর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও কর্তৃপক্ষের তরফে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি দেওয়ারও ছাড়পত্র মিলেছে। বিড গৃহীত হলে গুজরাত সরকারকে অনুদান দেওয়া হবে।’
অগস্টের ৩১ তারিখের মধ্যেই জমা দিতে হবে চূড়ান্ত নথি। ইতিমধ্যেই মার্চ মাসে ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’পেশ করেছিল ভারত। দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনও (IOA) সায় দিয়েছে প্রস্তাবে। এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের দিল্লির পর ফের এই আয়োজনের সুযোগ পেতে চলেছে ভারত।
কেন আমদাবাদ?
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে সাফ বলা হয়েছে, ‘আমদাবাদই আদর্শ আয়োজক শহর। এখানে বিশ্বমানের স্টেডিয়াম, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমৃদ্ধ ক্রীড়া-সংস্কৃতি রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম—নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম—ইতিমধ্যেই ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করেছে!’
শহরে গড়ে উঠছে সরদার বল্লভভাই পটেল স্পোর্টস এনক্লেভ। যেখানে ক্রিকেট ছাড়াও থাকছে অ্যাকোয়াটিক সেন্টার, ফুটবল স্টেডিয়াম, একাধিক ইনডোর অ্যারেনা। সরকারের অভিমত, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পরিকাঠামো আদর্শ। আমদাবাদকে ভবিষ্যতের অলিম্পিক বিডের (২০৩৬) কেন্দ্র হিসেবেও ভাবা হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
কমনওয়েলথ স্পোর্টসের জেনারেল অ্যাসেম্বলির বৈঠকে নভেম্বরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসবে। সেখানেই নির্ধারিত হবে আয়োজক দেশ। ইতিমধ্যেই বাজেট সমস্যার কারণে কানাডা সরে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ভারতের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল।
জাতীয় গর্ব ও অর্থনৈতিক সুবিধা
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমন এক মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজন জাতীয় গর্বকে উসকে দেবে। এটি গোটা দেশের জন্য এক অভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। দেশের ক্রীড়াবিদদের নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে, অংশগ্রহণ বাড়বে।’ যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খেলা নয়, এর ফলে পর্যটন পুষ্ট হবে, স্থানীয় ব্যবসা সমৃদ্ধি পাবে, প্রচুর কর্মসংস্থান দানা বাঁধবে। সরকারের দাবি, আয়োজক শহরে স্পোর্টস সায়েন্স, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিকস, সম্প্রচার, আইটি ও কমিউনিকেশনস—বহু ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাদারের চাহিদা তৈরি হতে চলেছে।
খেলার তালিকা
গ্লাসগোয় ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে বাজেট বাঁচাতে একাধিক জনপ্রিয় ইভেন্ট বাদ দেওয়া হচ্ছে। কুস্তি, শুটিং, ব্যাডমিন্টন, হকি—সবই তালিকার বাইরে। কিন্তু ভারতের পরিকল্পনা উলটো। আইওএ-র যুগ্ম সম্পাদক কল্যাণ চৌবে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা চাই সব খেলা থাকুক। যেখানে ভারত পদক জিততে অভ্যস্ত—শুটিং, আর্চারি, কুস্তি—সবই। পাশাপাশি কাবাডি, খো খো-র মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাও থাকতে চলেছে!’
৭২ দেশের আসর
কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেন ৭২ দেশের প্রতিযোগী। ভারতের আশা, দ্বিতীয়বার এই আয়োজন কেবল ক্রীড়া নয়, বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংহতিতে এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে। দিল্লির পর ২০ বছর কেটে গেছে। এবার যদি বিড সফল হয়, তাহলে আহমেদাবাদে বসবে ক্রীড়ামহারণের আসর। আর সেটাই হয়ে উঠবে ভারতের বিশ্বক্রীড়ায় শক্তি প্রদর্শনের নতুন মঞ্চ।