নাসিকে আয়োজিত ১৮তম জাতীয় গ্র্যাপলিং চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার ১৯ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ, ৬টি সোনাসহ মোট ১৫টি পদক অর্জন।

জাতীয় গ্র্যাপলিং চ্যাম্পিয়নশিপ।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার মার্শাল আর্ট খেলোয়াড়দের নজরকাড়া সাফল্যের সাক্ষী থাকল নাসিক। মহারাষ্ট্রের এই শহরে আয়োজিত ১৮তম জাতীয় গ্র্যাপলিং চ্যাম্পিয়নশিপে এ রাজ্যের ১৯ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। ৬টি সোনাসহ মোট ১৫টি পদক জয় করে আনলেন তাঁরা। বলা যায়, ইয়ুথ, সিনিয়র ও ভেটেরান জাতীয় গ্র্যাপলিং চ্যাম্পিয়নশিপে একেবারে প্রথম সারিতেই স্থান করে নিল পশ্চিমবঙ্গ।
৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত নাসিকের মীনাতাই ঠাকরে ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলার মোট ১৯ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেন। ১৯ জনই খেলেন নো-গি গ্র্যাপলিং বিভাগে এবং তাঁদের মধ্যে থেকে ২ জন গি গ্র্যাপলিং বিভাগেও খেলেন। তাঁদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলে বাংলার ঝুলিতে এল ৬টি সোনার পদক-সহ মোট ১৫টি পদক।
প্রতিযোগিতার যুব বিভাগে বাংলার পারফরম্যান্স ছিল সত্যিই নজরকাড়া। রাজ পল এবং দেবরূপ সান্যাল তাঁদের ওজনের ক্যাটেগরিতে সোনার পদক জিতে সকলের নজর কাড়েন। সিদ্ধান্ত শ্রী ভোডেলা এবং সিমরান গাজী ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। আশু গুপ্তা ও সোহম শর্মা প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স করলেও পদকজয়ী হননি।

সিনিয়র বিভাগেও বাংলার খেলোয়াড়দের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। রাহুল দে, সায়নদীপ হালদার, শেখ আব্দুল ওয়াহেদ এবং সস্মিতা নায়ক— এই চারজন তাঁদের নিজ নিজ ওজনের ক্যাটেগরিতে সোনা জিতে গৌরব বাড়িয়েছেন বাংলার।
প্রতিযোগিতায় রুপো জিতেছেন, তমাল সরখেল, সঈদ রেজা, জয়দীপ বর্ধন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন, রুদ্রনীল বিশ্বাস, প্রতিম পাল, সোমালি শর্মা, অশঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। শিবম দাস এবং বিক্রম মণ্ডল মেডেল না পেলেও, দারুণ পারফর্ম করেছে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সেরা গ্র্যাপলারদের অংশগ্রহণে এই জাতীয় গ্র্যাপলিং চ্যাম্পিয়নশিপটি আয়োজিত হয়েছিল। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে ভারতীয় গ্র্যাপলিং জগতে আবার একবার বাংলার উত্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলার তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদদের এই অভাবনীয় সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।
শুধু তাই নয়, এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে আরও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলা থেকে মোট ১১ জন রেফারির যোগদান! একটি রাজ্য থেকে এতজন রেফারির ভূমিকা পালন করার ঘটনা আগে খুব বেশি হয়নি। এই বিষয়টি যেন বুঝিয়ে দেয়, গ্র্যাপলিং মার্শাল আর্টকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলা।

পশ্চিমবঙ্গ গ্র্যাপলিং অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট কোচদের প্রশিক্ষণের গুণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ক্রীড়া মহল।