স্বপ্নভঙ্গ চিনের মাটিতে! ব্যাডমিন্টন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শি ইউ কি-র কাছে হারলেন আয়ুষ শেট্টি। তবে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে পরাজয় সত্ত্বেও রূপকথা লিখলেন তরুণ শাটলার। ৬১ বছর পর ইতিহাস গড়া আয়ুষের লড়াই নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
.jpeg.webp)
আয়ুষ শেট্টি
শেষ আপডেট: 12 April 2026 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ ধাপে থমকে গেল রূপকথা। লড়াই ছিল, চেষ্টা ছিল, কিন্তু চূড়ান্ত যুদ্ধে অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হল আয়ুষ শেট্টিকে (Ayush Shetty)। ব্যাডমিন্টন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে একতরফা দাপট দেখিয়ে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন চিনের শি ইউ কি (Shi Yu Qi)। আয়ুষ গলায় ঝোলালেন রুপোর মেডেল। ভারত পেল ভবিষ্যতের তারকা।
শুরু থেকেই দাপট শি-র
ম্যাচের প্রথম গেম থেকেই ছবিটা পরিষ্কার হতে শুরু করে। শি ইউ কি আগাগোড়া নিয়ন্ত্রণে। নেটের কাছে নিখুঁত খেলা। ড্রপ আর স্ম্যাশের মিশ্রণে আয়ুষকে বারবার ভুল করতে বাধ্য করেন চিনা প্রতিদ্বন্দ্বী। স্কোরলাইন ২১-৮। একপেশে ফার্স্ট রাউন্ড বললেও ভুল হবে না। আয়ুষের সমস্যা ছিল ছন্দে। নেটের কাছে বারবার ভুল। লম্বা র্যালিতে ধৈর্য থাকলেও শেষ শট ঠিক জায়গায় যায়নি।
দ্বিতীয় গেমে লড়াই
দ্বিতীয় গেমে অন্য চেহারায় ধরা দেন আয়ুষ। শুরুটা ভাল। ৪-১, তারপর ৭-২—লিডও নিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল ম্যাচ ঘুরতে পারে। কিন্তু এখানেই অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্স! পরপর পয়েন্ট জিতে ফিরে আসেন শি। ৫-৬ পয়েন্ট টানা ছিনিয়ে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। সেকেন্ড গেম শেষ হয় ২১-১০-তে। একই সঙ্গে খেলাও। একচ্ছত্র দাপটে ট্রফি নিশ্চিত করেন শি।
অভিজ্ঞতা বনাম আগ্রাসন
এই ম্যাচে ফারাক গড়েছে অভিজ্ঞতা। শি ইউ কি—ক্রমতালিকায় দু’নম্বরে। বড় ম্যাচ খেলার অভ্যাস আছে। অন্যদিকে আয়ুষ শেট্টি ২০ বছরের তরুণ। গ্র্যান্ড মঞ্চে এই প্রথম। তাই চাপের মুহূর্তে শি শান্ত থাকলেও আয়ুষ একটু তাড়াহুড়ো করেছেন। এমন বেশ কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যই আসল ব্যবধান তৈরি করেছে।
আজকের স্কোরলাইন একতরফা হোক না কেন, আসল গল্পটা তেমন নয়। এই টুর্নামেন্টে আয়ুষ যা করে দেখালেন, তা ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য বড় ঘটনা। প্রথম রাউন্ডে লি শি ফেং (Li Shi Feng)। কোয়ার্টারে জনাথন ক্রিস্টি (Jonatan Christie)। সেমিফাইনালে এই মুহূর্তে দুনিয়ার এক নম্বর শাটলার কুনলাভুত ভিতিদসার্ন (Kunlavut Vitidsarn)। এক এক করে সবাইকে হারিয়ে ফাইনালে। ৬১ বছর পর কোনও ভারতীয় পুরুষ শাটলার এই মহামঞ্চে। শেষবার উঠেছিলেন দীনেশ খান্না (Dinesh Khanna)। জিতেছিলেন সোনার পদকও। আজ আয়ুষ খেতাব হাতে তোলেননি ঠিকই, কিন্তু লিখেছেন ইতিহাস। বার্তা পরিষ্কার—ভারত পেয়েছে নতুন এক তারকা। যে লড়তে জানে। আজ যা রুপো, কাল তা-ই নিশ্চিতভাবে সোনা।