মেলবোর্নে তাঁর এই দৌড় শুধু ট্রফির লড়াই নয়। এটা একটা বার্তা—শীর্ষ পর্যায়ের খেলাধুলোয় মানসিক স্বাস্থ্য কোনও বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।

এলিনা সোয়াইতোলিনা
শেষ আপডেট: 28 January 2026 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেলবোর্নে (Melbourne) সাফল্যের গল্পটা শুধু টেনিসের নয়। এটা মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের, অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার কাহিনি। স্পষ্ট ভাষায় তা মেলে ধরলেন ইউক্রেনের তারকা টেনিস খেলোয়াড় এলিনা সোয়াইতোলিনা (Elina Svitolina)। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে (Australian Open) সেমিফাইনালে ওঠার পর জানিয়ে দিলেন—গত বছর মানসিক ও শারীরিক বিরতি না নিলে, আজ এখানে পৌঁছনো সম্ভব হত না।
৩১ বছরের সোয়াইতোলিনা মঙ্গলবার তৃতীয় বাছাই কোকো গফকে (Coco Gauff) ৬-১, ৬-২-এ উড়িয়ে দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়। সামনে দুনিয়ার এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা (Aryna Sabalenka)। এর আগে তিনবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে উঠলেও, ফাইনালের দরজা কখনও খুলতে পারেননি সোয়াইতোলিনা। এবার কি ভাগ্য ঘুরবে? পারবেন হট ফেভারিট সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে চূড়ান্ত যুদ্ধের ছাড়পত্র জোগাড় করতে?
চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পৌঁছনোর পথটা কিন্তু এলিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। গত মরশুমের মাঝপথে, সেপ্টেম্বর মাসে, নিজের টিম, পরিবার এবং স্বামী গায়েল মঁফিসের (Gael Monfils) সঙ্গে আলোচনার পর টেনিস থেকে সাময়িক বিরতিগ্রহণের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেমিফাইনাল জয়ের পর সোয়াইতোলিনা তাই বলে ওঠেন, ‘একদিকে কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা বুঝেছিলাম, এর ভালো দিকও আছে। যদি আমি গত বছর না থামতাম, তাহলে হয়তো মেলবোর্নেই নামতে পারতাম না। শরীর ক্লান্ত হয়ে যেত, চোটের ঝুঁকিও থাকত।’
এই বিরতির ফল যে কতটা কার্যকর, তার প্রমাণ মিলছে চলতি সিজনে। জানুয়ারিতে অকল্যান্ড ওপেন (Auckland Open) জিতে প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরেছেন সোয়াইতোলিনা। বর্তমানে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে। অকপটে স্বীকার করেছেন, শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে গিয়ে শরীর আর মনকে সবসময় সীমার মধ্যে রাখা যায় না। ‘সবচেয়ে বড় চোটগুলো আসে তখনই, যখন আপনি নিজেকে খুব বেশি ঠেলে দেন। চাপ যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন শরীর একসময় ছেড়ে দেয়!’ স্বীকারোক্তি এলিনার।
সেই কারণেই এক ধাপ পিছিয়ে আসা জরুরি ছিল বলে মনে করেন সোয়াইতোলিনা। তাঁর কথায়, ‘নিজেকে একটু সময় দেওয়া দরকার ছিল। আজ আমি খুব খুশি যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম।’
মেলবোর্নে তাঁর এই দৌড় শুধু ট্রফির লড়াই নয়। এটা একটা বার্তা—শীর্ষ পর্যায়ের খেলাধুলোয় মানসিক স্বাস্থ্য কোনও বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। যা মেনে নেওয়াটাই কখনও কখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের প্রথম ধাপ হয়ে উঠতে পারে।