বর্তমান ফর্মে জেরেভ আত্মবিশ্বাসী হতেই পারেন। সার্ভ কাজ করছে। মানসিক দৃঢ়তাও চোখে পড়ছে।

আলেকজান্ডার জেরেভ
শেষ আপডেট: 27 January 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেলবোর্নে গরম যতটা ভয়ংকর, আলেকজান্ডার জেরেভের (Alexander Zverev) সার্ভ তার থেকেও বেশি ঝাঁঝালো। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের (Australian Open) কোয়ার্টার ফাইনালে তরুণ মার্কিন প্রতিভা লার্নার টিয়েনকে (Learner Tien) হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেলেন জার্মান তারকা। ৬-৩, ৬-৭ (৫/৭), ৬-১, ৭-৬ (৭/৩)—চার সেটের এই ম্যাচে জেরেভের অস্ত্র একটাই, কিন্তু তা ভয়ংকর ধারালো: সার্ভ!
ম্যাচে মোট ২৪টি এস হাঁকান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা জেরেভ। ডবল ফল্ট মাত্র একটাই। ম্যাচ শেষে নিজে স্বীকার করেন, ‘আমার সার্ভ না থাকলে আজ জেতা কঠিন হত।’ রড লেভার অ্যারেনায় (Rod Laver Arena) ছাদ বন্ধ করে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল, কারণ বাইরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও সার্ভে একচুল ছন্দ হারাননি জেরেভ!
টিয়েনের লড়াই, জেরেভের অভিজ্ঞতা
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২৯ নম্বরে থাকা টিয়েন এই পর্যায়ে পৌঁছনো সবচেয়ে কম র্যাঙ্কিংধারী খেলোয়াড়। বয়স মাত্র ২০। গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনাল—কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। তবু ভয় পাননি। দ্বিতীয় সেটে টাইব্রেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।
টিয়েনের কোচিং বক্সে ১৯৮৯ ফরাসি ওপেনজয়ী মাইকেল চ্যাং (Michael Chang)। তাঁর উপস্থিতিতেই চতুর্থ সেটে আবার লড়াইয়ে ফেরা। ৬-৫-এ সেট পয়েন্টও পেয়েছিলেন। কিন্তু বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা ঠিক এখানেই পার্থক্য গড়ে দেয়। চাপের মুহূর্তে সার্ভে ভরসা রাখেন জেরেভ, টাইব্রেকে টেনে নিয়ে যান ম্যাচ, আর সেখানেই শেষ করে দেন তরুণ প্রতিপক্ষকে।
এর আগে প্রথম সেটে ব্রেক করে এগিয়ে গিয়ে সেট পকেটে পুরেছিলেন জেরেভ। তৃতীয় সেটে তো কার্যত একতরফা দাপট—মাত্র ২৮ মিনিটে কাজ শেষ। চাপের মুখে টিয়েনের আনফোর্সড এরর বাড়তে থাকে, আর জেরেভ ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।
গ্র্যান্ড স্ল্যামের খোঁজে জেরেভ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
২৮ বছর বয়সে এসেও এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম অধরা জেরেভের। ২০২০ ইউএস ওপেন, ২০২৪ ফরাসি ওপেন—দু’বার ফাইনালে উঠে থেমে যেতে হয়েছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও জানিক সিনারের (Jannik Sinner) কাছে স্পষ্টভাবে হেরে যান তিনি। তাই এবারের অভিযান তাঁর কাছে আলাদা গুরুত্বের। সেমিফাইনালে সামনে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz) অথবা ঘরের ছেলে অ্যালেক্স ডি মিনাউর (Alex de Minaur)। দু’জনের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ আলাদা। আলকারাজ মানে গতি, আগ্রাসন আর অনিশ্চয়তা। ডি মিনাউর মানে দর্শকের চাপ আর অবিশ্বাস্য ডিফেন্স।
তবু বর্তমান ফর্মে জেরেভ আত্মবিশ্বাসী হতেই পারেন। সার্ভ কাজ করছে। মানসিক দৃঢ়তাও চোখে পড়ছে। ম্যাচ শেষে তিনি টিয়েনের প্রশংসা করতেও ভোলেননি—‘বেসলাইন থেকে ও অসাধারণ খেলেছে। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’