এই মুহূর্তে সিনার ও আলকারাজ বিশ্বের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। গত আটটি গ্র্যান্ড স্লাম নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। সিনারের চার, আলকারাজের ছ’টি খেতাব। আর এই একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জার্মান তারকা।

আলেকজান্ডার জেরেভ
শেষ আপডেট: 5 October 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে রজার ফেডেরারের (Roger Federer) ক্ষোভ, অন্যদিকে আলেকজান্ডার জেরেভের (Alexander Zverev) বিস্ফোরণ—টেনিস দুনিয়া তোলপাড়! অভিযোগ একটাই—বর্তমান প্রজন্মের দুই তারকা, ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner) আর কার্লোস আলকারাজের (Carlos Alcaraz) সুবিধে করে দিতে কোর্টের চরিত্রই নাকি পাল্টে দেওয়া হচ্ছে!
জেরেভের দাবি, পৃথিবীর নানা টুর্নামেন্টে ইচ্ছে করে আয়োজকরা কোর্টের গতি মন্থর করে দিচ্ছেন, যাতে সিনার–আলকারাজের মতো বেসলাইনে দাঁড়িয়ে র্যালি খেলা খেলোয়াড়রা সাফল্য পান। এক সাক্ষাৎকারে জেরেভ সরাসরি বলেন, ‘আমি ঘৃণা করি যখন সব কোর্ট একরকম হয়ে যায়! এখনকার টুর্নামেন্ট ডিরেক্টররা চায়, সিনার আর আলকারাজ যেন প্রতিটা টুর্নামেন্টেই ভালো করে। তাই তারা কোর্টগুলোকে ধীরগতির বানাচ্ছে। আমি বারো বছর ধরে খেলছি, আগে প্রতিটি টুর্নামেন্টের স্বাদ আলাদা ছিল। এখন সব এক মাপের!’
এই অভিযোগের আগে কিংবদন্তি রজার ফেডেরারও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আজকের দিনে এমন কোর্ট পাওয়া কঠিন যেখানে আলাদা কৌশল দরকার। একই রকম খেলা চলে ক্লে, হার্ড, এমনকি ঘাসেও। আমি চাই আলকারাজ আর সিনার দ্রুতগতির কোর্টেও মানিয়ে নিতে শিখুক!’
ফেডেরার সতর্ক করেছিলেন। অন্যদিকে জেরেভ কিন্তু সরাসরি আঙুল তুললেন টুর্নামেন্ট পরিচালকদের দিকে। তাঁর মতে, আজকের টেনিসে ‘বৈচিত্র্য’ বলে কিছু নেই—সবই ‘এক ছাঁচে ঢালা’। জেরেভের সংযোজন, ‘আগে ক্লে কোর্ট, গ্রাস কোর্ট, হার্ড কোর্ট—প্রতিটা মঞ্চ আলাদা চ্যালেঞ্জ দিত। এখন তিন জায়গাতেই একই রকম খেলা সম্ভব। এটা টেনিসের জন্য ভালো নয়!’
জেরেভের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই মুহূর্তে সিনার ও আলকারাজ বিশ্বের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। গত আটটি গ্র্যান্ড স্লাম নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। সিনারের চার, আলকারাজের ছ’টি খেতাব। আর এই একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জার্মান তারকা। তাঁর মতে, ‘টেনিসে বিভিন্ন ধাঁচ থাকা দরকার। সবাই যদি একইভাবে খেলতে থাকে, তাহলে খেলাটা একঘেয়ে হয়ে যাবে!’
চলতি বিতর্কে এর আগে সিনার অবশ্য কূটনৈতিক জবাব দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তাঁর শান্ত উত্তর—‘আমরা কোর্ট বানাই না। যেটা পাই, সেটাতেই খেলি। আমি দ্রুত কোর্টেও ভালো খেলেছি। আলাদা কোর্টে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, এটাই কাজ!’
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই থেমে নেই। কীভাবে কোর্ট ধীর করা হয়? আদৌ করা সম্ভব? আইনসঙ্গত? বিশেষজ্ঞদের মত, ক্লে কোর্টে (Clay Court) জল বেশি দিয়ে বা ঘাসের কোর্টে (Grass Court) ঘাসের স্তর পুরু করে, এমনকি হার্ড কোর্টে (Hard Court) বালি মেশানো রঙের পরিমাণ বাড়িয়ে বলের ‘গ্রিপ’ বাড়ানো হয়—যার ফলে গতি কমে, বাউন্স হয় উঁচু ও গতি ধীর। এতে ডিফেন্সিভ প্লেয়ারদের সুবিধে, আক্রমণাত্মকদের নয়। ফলে অভিযোগ যতই ‘অতিশয়োক্তি’ শোনাক না কেন, যুক্তি কিন্তু অমূলক নয়। ফেডেরার যেখানে বলেছেন টেনিসের আসল সৌন্দর্য ‘বৈচিত্র্যে’, সেখানে জেরেভের বক্তব্য যেন তারই আরও র্যাডিকাল রূপ। দু’জনেরই ভয় এক জায়গায়। প্রশ্ন একটাই: টেনিস কি ক্রমশ একরঙা হয়ে যাচ্ছে?
সিনার আর আলকারাজের সাফল্য এখন এক নতুন যুগের প্রতীক—তরুণ, আগ্রাসী, ফিটনেস-নির্ভর। কিন্তু সেই যুগের উত্থান যদি আসে কোর্টের কৃত্রিম পরিবর্তনের দামে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—আদৌ ন্যায়বিচার হল তো?