প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কোর্টের গতি বদলের খেলায় আয়োজকরা নাক গলাচ্ছেন? নাকি ফেডেরারের মন্তব্য নিছকই অতিরঞ্জন?

রজার ফেডেরার ও ইয়ানিক সিনার
শেষ আপডেট: 25 September 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুষ টেনিসে এখন কার্যত দুই তারকার রাজত্ব—কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz) আর ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner)। শেষ আটটা গ্র্যান্ড স্ল্যামই তাঁরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। টানা তিনটি ফাইনালে মুখোমুখি। ফলে টেনিস দুনিয়া এই লড়াইকে নতুন প্রজন্মের ফেডেরার-নাদাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছে।'
এমন আবহেই উসকে উঠল বিতর্ক। কিংবদন্তি রজার ফেডেরার (Roger Federer) অভিযোগ তুলেছেন—গ্র্যান্ড স্ল্যামের আয়োজকরা নাকি ইচ্ছে করেই কোর্টের গতি বদলাচ্ছেন। যাতে আলকারাজ আর সিনারকে হারানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাঁদের ফাইনালে পড়ে নিশ্চিত সিলমোহর।
ফেডেরার বলেন, ‘টুর্নামেন্ট পরিচালকরা অনেক সময় ইচ্ছে করে স্লো সারফেস রাখে। এতে দুর্বল প্রতিপক্ষের সিনারকে হারাতে হলে অবিশ্বাস্য কিছু শট মারতে হয়। কোর্ট যদি দ্রুত হয়, তবে কয়েকটা টাইমিং মিলিয়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। আয়োজকরা আসলে চান আলকারাজ-সিনার ফাইনাল, কারণ সেটাই খেলাটার জন্য লাভজনক!’
যদিও সিনার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। চিনা ওপেনের (China Open) আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পালটা বলে বসেন, ‘বেশিরভাগ হার্ড কোর্ট একই ধরনের। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো বদল ঘটে। যেমন, ইন্ডিয়ান ওয়েলসে বল অনেক উঁচুতে বাউন্স করে। একটু আলাদা রকম আচরণ দেখায় কোর্ট। কিন্তু তাতে সারফেসের মৌলিক চরিত্র বদলায় না!’ তারপর যোগ করেন, ‘আমাদের খেলার পরিস্থিতি বহু বছর ধরেই একই রকম। এখন কতটা বদল আসবে, জানি না। আমি কেবল একজন খেলোয়াড়, যে চেষ্টা করে সব রকম সারফেসে নিজেকে মানিয়ে নিতে। মনে হয়, এই দিক থেকে ভালই করছি। ভবিষ্যতে কী হয়, দেখা যাক!’
এখন পরিস্থিতি এমন যে, আলকারাজ আর সিনার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা প্রায় কল্পনার মতো। সম্প্রতি ইউএস ওপেনের ফাইনালে আলকারাজকে হারাতে পারেননি সিনার। সেই হারেই তিনি বিশ্ব এক নম্বর র্যাঙ্কিং হারালেন। তবে বিতর্ক থামছে না। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কোর্টের গতি বদলের খেলায় আয়োজকরা নাক গলাচ্ছেন? নাকি ফেডেরারের মন্তব্য নিছকই অতিরঞ্জন?