দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে অনির্বাণ। বেশিরভাগ সময়টাই কাটছে ঘুমিয়ে। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের কারণে কড়া ডোজের ওষুধ চলছে তরুণ এই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের। কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনার পর আবার কি মাঠে যাবে অনির্বাণ?
যাবে। অনির্বাণকে মাঠে নিয়ে যাবেন ওর দিদি দীপশিখা। জানালেন, “মার খেয়ে দমে যাব কেন? আমরা ইস্টবেঙ্গল। আগামী ৩ তারিখেই ঘরোয়া লিগের প্রথম ম্যাচে ভাইকে সঙ্গে করে মাঠে নিয়ে যাব। মাঠে বসেই ও গলা ফাটাবে টিমের জন্য।”
গত ১৯ জুলাই বারাসত স্টেডিয়ামে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ছোটদের ডার্বি দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল বালির অনির্বাণ কংসবণিক। খেলা শেষে ফেরার সময় বারাসত স্টেশনের কাছে দু’দলের সমর্থকদের সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ, একদল মোহনবাগান সমর্থক রেল লাইনের পাথর ছোঁড়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দিকে। কপালে পাথরের আঘাত লাগে আইটিআই পড়ুয়া অনির্বাণের। মাথায় পাঁচটি সেলাই নিয়ে সেদিন বাড়ি ফেরে। ২৩ তারিখ রাতে অবস্থার অবনতি হয় তার। পরিবারের লোকজন নিয়ে যায় বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজিতে। কিন্তু সেখানে বেড না পাওয়ায় ভর্তি করা হয় তপসিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই ২৫ তারিখ বিকেলে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয় অনির্বাণের।
https://www.youtube.com/watch?v=Ls9MBKSGLUE
তরুণ এই লাল-হলুদ সমর্থকের সংকটজনক অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোমর বেঁধে নামেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। বিভিন্ন ফ্যান ফোরামের তরফে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। ওর চিকিৎসার সমস্ত খরচের দায়িত্ব ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নেবে বলেও হাসপাতালে গিয়ে জানিয়ে দেন শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার। মোহনবাগানের তরফেও দুই কর্তা গিয়ে ৩০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন অনির্বাণের বাবা দ্বিজেন কংসবণিকের হাতে।
মঙ্গলবার বালির বাড়িতে বসে অনির্বাণের দিদি দীপশিখা এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারের পাশে সমর্থক এবং ক্লাবের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলতে গিয়ে বলেন, “হার-জিত তো থাকবেই খেলায়। মাঠের বাইরে যেন তা না আসে। আমি আমার ভাইকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে পেয়েছি। আর কোনও দিদি বা মা’কে যেন তাঁদের ভাই-সন্তানকে নিয়ে এই পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।”