সবাই জানেন, নীরজ এক ঝলকেই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সত্যি, এবার প্রতিযোগিতার আগে মানসিক চাপ ও ফর্মের ছায়া ঘনাচ্ছে। যে কারণে সমীকরণ স্পষ্ট: ৯০ মিটারের এক ঝলক যদি ফের উঠে আসে, নীরজ নিজের কাহিনি আবার লিখবেন সোনার অক্ষরে।

নীরজ চোপড়া
শেষ আপডেট: 1 September 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টোকিওয় বসছে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারতীয় কন্টিনজেন্টের মুখ, যেমন সবসময়ই, তেমন এবারও নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। তবু আবহটা আগের মতো নেই, অনেকখানি বদলে গেছে।
একসময় যেখানে বাইশ গজে বিরাট ছিলেন একক ফেভারিট, জ্যাভলিনের ময়দানে সেই জমি একা হাতে তৈরি করেন নীরজ। অথচ এবার প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই প্রশ্ন উঠছে—ফর্মের ওঠানামা সামলে তিনি কি পারবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট রক্ষা করতে?
দ্বিতীয় স্থান, দ্বিতীয় স্থান... তারপর?
চলতি মরশুম অদ্ভুত এক সমীকরণ বুনেছে। প্যারিস অলিম্পিকে রুপো। ডায়মন্ড লিগ ফাইনালেও দ্বিতীয়। আধিপত্যের প্রশ্নে কোথাও যেন থমকে থাকা। অথচ এর আগের কয়েক সিজনে প্রতিটি টুর্নামেন্টেই নীরজ বর্শা হাতে নিতেন পয়লা নম্বর বাছাই হিসেবে। এই প্রথম তিনি অংশ নেবেন, যেখানে আসন সেই আগের মতো অটল নেই।
আড়ালে ফর্মের খামতি? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ এবং তা স্বীকার করেতে পিছপা নন নীরজ। যে কারণে সময় নষ্ট না করেই টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি পাল্টানোর পথে হাঁটলেন। দীর্ঘদিনের কোচ ক্লাউস বার্টোনিয়েট্জকে বিদায় জানিয়ে দলে নিলেন কিংবদন্তি ইয়ান জেলেজনিকে (Jan Zelezny)। তিনবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী এই কোচ নীরজের থ্রোয়িং অ্যাকশন নতুন করে সাজাচ্ছেন।
ফল মিলেছে হাতেনাতে। চলতি বছরের মে মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রথমবার ছুঁলেন কাঙ্ক্ষিত ৯০ মিটার ব্যারিয়ার। তবু ধারাবাহিকতা এল না। একদিন বাজিমাত, পরের দিন কুপোকাত! সমালোচনার কেন্দ্রে সেই ধারাবাহিকতার অভাব!
বিশেষজ্ঞদের ভরসা, তবু প্রশ্ন রয়ে যায়…
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আদিল সুমারিওয়ালা কিন্তু এখনও আত্মবিশ্বাসী। বলছেন, ‘নীরজ টেকনিক্যালি ভীষণ পোক্ত। সামান্য টিউনিং দরকার। সেটা হয়ে গেলে ফের ৯০ মিটারের ওপারে জ্যাভলিন ছুড়বেন, নিশ্চিত থাকুন!’ অর্থাৎ, কোচের সঙ্গে পরিবর্তনের কাজ চলছে এবং তা একসময় বড় ফল দেবে—এই বিশ্বাস সুমারিওয়ালার বক্তব্যে স্পষ্ট।
শুধুই পদকের অঙ্ক নয়…
বিষয়টা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের? হয়তো না। নীরজ আজ ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ওঁর মুকুট টিকে থাকলে গোটা দেশের ক্রীড়াসংস্কৃতিতে প্রভাব পড়ে। অগণিত কিশোর–কিশোরী হাতে জ্যাভলিন তুলে নেয় তাঁরই অনুপ্রেরণায়। মুকুট হারালে সেই আবেগে ধাক্কা লাগবে, সন্দেহ নেই। আবার যদি রক্ষা করতে পারেন, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—সমষ্টির অর্জন।
সামনে টোকিওর পরীক্ষা
ফাইনালের দিনে প্রতিপক্ষের তালিকায় থাকবেন জার্মানির জুলিয়ান ওয়েবার (Julian Weber), যিনি টানা কয়েক টুর্নামেন্টে ৮৭ মিটারের ওপরে ছুড়ছেন। চেক রিপাবলিকের জাকুব ভাদলেইচ (Jakub Vadlejch) এবছরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। আরও আছেন ফিনল্যান্ডের অলিভার হেল্যান্ডার (Oliver Helander), যিনি গত বছর থেকেই নিয়মিত ৮৫ মিটার প্লাস থ্রো করছেন। এঁরা প্রত্যেকেই যে কোনও দিন নীরজকে টপকে যেতে পারেন, সেটাই আসল চাপ।
সবাই জানেন, নীরজ এক ঝলকেই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সত্যি, এবার প্রতিযোগিতার আগে মানসিক চাপ ও ফর্মের ছায়া ঘনাচ্ছে। যে কারণে সমীকরণ স্পষ্ট: ৯০ মিটারের এক ঝলক যদি ফের উঠে আসে, নীরজ নিজের কাহিনি আবার লিখবেন সোনার অক্ষরে।
আর এটা না হলে? প্রশ্নের উত্তর একরাশ অস্বস্তির জন্ম দেবে মাত্র।