অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ফাইনালের রাত আলকারাজ কাটিয়েছেন পরিবারের সঙ্গে, হোটেলে। কোনও বড় পার্টি নয়—পিৎজা, বিয়ার আর শ্যাম্পেনেই উদ্যাপন।

কার্লোস আলকারাজ
শেষ আপডেট: 2 February 2026 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতিমান কেরিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি হাতে পাওয়ার পর তার স্মৃতি অমলিন রাখতে চান কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার সাফল্য চিরস্থায়ী করতে এবার ক্যাঙারু ট্যাটু আঁকার কথা ভাবছেন স্পেনের তরুণ তারকা।
২২ বছর বয়সে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ইতিহাস গড়েছেন আলকারাজ। এই জয়ের সুবাদে তিনি হয়ে উঠেছেন কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা সবচেয়ে কম বয়সি টেনিস খেলোয়াড়। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে বেঁধে রাখতেই মাথায় এসেছে ট্যাটুর ভাবনা।
জায়গা এখনও ঠিক হয়নি
ফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে (Novak Djokovic) হারানোর পর আলকারাজ নিজেই জানিয়েছেন, ট্যাটুর ডিজাইন নিয়ে তাঁর কোনও দ্বিধা নেই। ‘ক্যাঙ্গারুই হবে। কিন্তু শরীরের কোন জায়গায়—সেটা এখনও ঠিক করতে পারিনি!’ মন্তব্য স্পেনীয় খেলোয়াড়ের। ভাবনায় রয়েছে পায়ের পেশি—ডান না বাঁ, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সোমবার মেলবোর্নের রয়্যাল এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ট্রফি হাতে ফটোশুটে ধরা দেন আলকারাজ। কালো পোশাকে, সাদামাটা অথচ আত্মবিশ্বাসী লুক—কোর্টের বাইরেও চ্যাম্পিয়নের ছাপ স্পষ্ট।
ট্রফির রাত: পরিবার, পিৎজা আর ভরপুর আনন্দ
অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ফাইনালের রাত আলকারাজ কাটিয়েছেন পরিবারের সঙ্গে, হোটেলে। কোনও বড় পার্টি নয়—পিৎজা, বিয়ার আর শ্যাম্পেনেই উদ্যাপন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে স্বীকার করেছেন, এত বড় সাফল্য এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না! লেখেন, ‘এটা আমার স্বপ্ন… কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি। পরিবারের সমর্থন আর ভালোবাসা ভুলব না!’ ফাইনালের শেষ পয়েন্টের আগে তাঁর নার্ভাসনেসও লুকোননি আলকারাজ। বল আউটের পরই মনে হয়েছিল—‘হয়ে গেল!’ সেই সময় মাথায় ঘুরছিল শুধু পরিবার আর টিমের মুখ।
পূর্ণতা এলেও অপূর্ণতা খোঁজেন আলকারাজ
কেরিয়ার স্ল্যাম সম্পূর্ণ হলেও আসল লক্ষ্য অধরা। এখনও তিনটি মাস্টার্স ১০০০ ট্রফি—কানাডা ওপেন, সাংহাই ও প্যারিস—জেতা বাকি। সঙ্গে আছে এটিপি ফাইনালস (ATP Finals) ও স্পেনের হয়ে ডেভিস কাপ (Davis Cup) জয়ের টার্গেট। রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘আমি হারতে ঘৃণা করি। যত কম হারি, সেটাই লক্ষ্য!’ দেশের জন্য বড় কিছু জেতার তাগিদও তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে।
এতকিছুর মধ্যে হয়তো খুব শিগগিরই শরীরে একটি ছোট ক্যাঙারু ট্যাটু জায়গা নেবে—যেখানে লেখা থাকবে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এক স্বপ্নের গল্প। কিন্তু আলকারাজের কাছে সেটাই শেষ নয়। তাঁর যাত্রা, আসলে, এখনই পুরো গতিতে শুরু হয়েছে মাত্র।