সকালেই বাজার খুলতেই দাম নেমে যায় চোখে পড়ার মতো। দিনের মাঝামাঝি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে কেনাবেচার সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিতই এখন ভরসা।

শেষ আপডেট: 27 February 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুপোর বাজারে আজ প্রবল দোলাচল (Silver price today)। দামের হঠাৎ ওঠানামায় অস্বস্তিতে বিনিয়োগকারীরা। আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপড়েন, ডলারের দাপট, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতি - সব মিলিয়ে রুপো এখন চরম অস্থিরতার মুখে।
সকালেই বাজার খুলতেই দাম নেমে যায় চোখে পড়ার মতো (Silver price Market Update)। দিনের মাঝামাঝি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে কেনাবেচার সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিতই এখন ভরসা।
কলকাতায় আজ কত দামে রুপো?
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - কলকাতায় প্রতি কেজি রুপোর বাটের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৫০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় ২.৭২ শতাংশ কম। খুচরো বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দর ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৯৫০ টাকা - এখানেও একই হারে পতন। ১০ গ্রাম খাঁটি রুপোর দাম ২ হাজার ৯৬৯ টাকা।
তবে সাম্প্রতিক ওঠানামা আরও তীব্র। কয়েকদিন আগে এক কেজি রুপোর দাম একদিনেই প্রায় ১০ হাজার টাকা কমেছিল। আবার অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হায়দরাবাদে মাত্র ছ’দিনে কেজিপিছু ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পতনের নজির রয়েছে।
কেন এত দোলাচল?
রুপোর দামের এই রোলার-কোস্টারের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে -
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে রুপোর দরে। মার্কিন ডলারের ওঠানামা বড় ফ্যাক্টর। ডলার শক্তিশালী হলে রুপোর দাম চাপে পড়ে, দুর্বল হলে উল্টোটা।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডেরাল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তও বাজারে সিগন্যাল দেয়। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন - ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ, ইরানে অস্থিরতা - নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা-রুপোর চাহিদা বাড়িয়েছে।
বিশ্বের মোট রুপো ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি এখন শিল্পে। সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর চিপ, ৫জি প্রযুক্তি - সব ক্ষেত্রেই রুপোর চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু খনি উৎপাদন স্থিতিশীল। ফলে গত পাঁচ বছর ধরেই সরবরাহ ঘাটতির চাপ।
বিশ্বের বৃহত্তম রুপো ভোক্তা চিন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রুপো রফতানিতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে তারা। এতে আন্তর্জাতিক সরবরাহে চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।
ভারত আমদানিনির্ভর। ফলে রুপি দুর্বল হলেই আমদানি খরচ বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রুপোর দামে।
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ বাড়াতে সোনা-রুপো কিনছে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের কী ভাবনা?
পুরনো বিনিয়োগকারীরা লাভে থাকলেও নতুনদের মধ্যে সংশয় বাড়ছে। কেউ রুপোকে সোনার বিকল্প ভাবছেন, কেউ আবার সতর্ক করছেন - দাম যত দ্রুত বাড়ে, সংশোধনও তত তাড়াতাড়ি আসতে পারে।
মোতিলাল অসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (Motilal Oswal Financial Services বা MOFSL) রিপোর্ট বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে রুপোর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে এইচএসবিসি (HSBC) সতর্ক করছে, অতিরিক্ত অস্থিরতা ভবিষ্যতে তীব্র পতনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
টাটা মিউচুয়াল ফান্ড (Tata Mutual Fund)-এর মতে, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যে ৫০:৫০ অনুপাতে সোনা ও রুপো রাখা যেতে পারে। ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগে সংরক্ষণের ঝক্কি কম, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যও থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একটাই বার্তা, হুজুগে পড়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নয়। ধাপে ধাপে বিনিয়োগ, নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ - এই পথেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মনে রাখতে হবে, রুপো কেনার ক্ষেত্রে ৩% জিএসটি এবং গয়নার মজুরির ওপর ৫% জিএসটি প্রযোজ্য।