আজকের ভারতের রুপোর দাম ছুঁয়েছে নতুন রেকর্ড। আন্তর্জাতিক বাজার, শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা ও ডলারের ওঠানামায় রুপোর দামে বড়সড় ঝাঁকুনি।

শেষ আপডেট: 26 January 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সকাল থেকেই দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাই-সহ দেশের বড় শহরগুলির বুলিয়ন বাজারে রুপোর দর নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দামের উত্থানে খুচরো ক্রেতা থেকে শুরু করে গয়নার ব্যবসায়ী—সব মহলেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রুপোর দাম ধাপে ধাপে বাড়ছিল। আজ সেই ঊর্ধ্বগতি রেকর্ড ছুঁয়ে আরও জোরালো হয়েছে। সামনে উৎসবের মরসুম থাকায় গয়নার চাহিদা বাড়তে পারে—এই প্রত্যাশাও দামের উপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। ব্যবসায়ীদের মতে, আজকের এই দামের নড়াচড়া শুধু বিনিয়োগকারীদের নয়, সাধারণ ক্রেতাদেরও সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করছে। তার জেরেই রুপোর বাজারে এখন নজিরবিহীন উত্তেজনা।
বাজারে হঠাৎ উত্তাপ কেন
ভারতের বুলিয়ন বাজারে রুপোর দামে আচমকা বড়সড় নড়াচড়া চোখে পড়ছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসে আজকের ভারতের রুপোর দাম এমন স্তরে পৌঁছেছে, যা আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে। দেশজুড়ে গয়নার দোকান, পাইকারি বাজার এবং শিল্পক্ষেত্রে এই দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজার সূত্রের খবর, জাতীয় ছুটির দিন থাকা সত্ত্বেও রুপোর দর উচ্চ স্তরে স্থির রয়েছে। এই বিষয়টিই এখন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে।
আজ রুপোর দাম ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে
আজকের ভারতের রুপোর দাম প্রতি কেজিতে তিন লক্ষ টাকার অনেক উপরে অবস্থান করছে। দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতার মতো শহরগুলিতে দাম প্রায় একই থাকলেও দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি শহরে রুপোর দর তুলনামূলকভাবে আরও বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কর কাঠামো, পরিবহণ খরচ এবং স্থানীয় চাহিদার তারতম্যের কারণেই শহরভেদে দামের এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
শহর অনুযায়ী আজ রুপোর দাম (প্রতি কেজি, টাকা):
দিল্লি: ৩,৩৪,৯০০
মুম্বই: ৩,৩৪,৯০০
কলকাতা: ৩,৩৪,৯০০
চেন্নাই: ৩,৬৪,৯০০
হায়দরাবাদ: ৩,৬৪,৯00
এই দামের প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের উপর
রুপোর দামে এই দ্রুত বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের উপর। গয়না কেনা অনেকের পক্ষেই এখন কঠিন হয়ে উঠছে। বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য যাঁরা রুপোর গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই কেনাকাটা আপাতত পিছিয়ে দিচ্ছেন।
খুচরো ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দাম বেশি থাকায় বিক্রি কিছুটা কমেছে। তবে আগের দেওয়া অর্ডারগুলি এখনও বাতিল হয়নি।
শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বাড়ছে
রুপোর দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা। সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল শিল্পে রুপোর ব্যবহার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সৌর প্যানেল তৈরিতে রুপোর ব্যবহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের বাজারেও।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আজকের ভারতের রুপোর দামে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু বিনিয়োগকারী নিরাপদ ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম বাড়ছে এবং সেই ঢেউ এসে পড়ছে ভারতের বাজারে। ডলার ও রুপির বিনিময় হারের ওঠানামাও দামের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের মত।
বিনিয়োগকারীদের বাড়তি নজর
রুপোর দাম রেকর্ড ছোঁয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। অনেকেই সোনার পাশাপাশি রুপোকেও নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে দেখছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই রুপোর দামে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে দামের ওঠানামা থাকায় সবাই সতর্ক নজর রাখছেন।
গত কয়েক দিনের দামের ওঠানামা
জানুয়ারি মাস জুড়েই রুপোর দামে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। মাসের শুরুতে যেখানে দাম ছিল অনেকটাই কম, সেখানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক লাফে কয়েক দশ হাজার টাকা বেড়েছে। মাঝেমধ্যে সামান্য পতন হলেও সামগ্রিক ভাবে দামের দিকনির্দেশ ঊর্ধ্বমুখীই থেকেছে। এই দ্রুত পরিবর্তন বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অবস্থান
পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দাম বাড়লেও বাজার পুরোপুরি থেমে যায়নি। শিল্পক্ষেত্রের অর্ডার এখনও চালু রয়েছে, যা বাজারকে কিছুটা স্থিতি দিচ্ছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটা কমে যাওয়ায় খুচরো বিক্রিতে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক দোকানদারই পরিস্থিতি বুঝে মজুত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছেন।
কর ও অতিরিক্ত খরচের হিসাব
রুপো কেনার সময় শুধু বাজারদর নয়, তার সঙ্গে কর ও অন্যান্য খরচও যুক্ত হয়। ভারতে রুপোর উপর পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) প্রযোজ্য, যা চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে। গয়না কিনলে মেকিং চার্জও যোগ হয়। ফলে আজকের ভারতের রুপোর দাম কাগজে যতটা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে ক্রেতার খরচ তার থেকেও কিছুটা বেশি হচ্ছে।
আগামী দিনে বাজারের নজর কোথায়
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক সংকেত ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার দিকে। রুপোর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য কীভাবে বদলায়, তার উপর আগামী দিনের দামের দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ভর করবে। দেশীয় বাজারে উৎসব ও বিয়ের মরসুম এগোলে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।