ব্যস্ততাময় বেসরকারি ও কর্পোরেট জগতে যখন টার্গেটের পিছনে ইঁদুরদৌড়ে দিনের শক্তি, রাতের ঘুম উধাও, তখন সারদামণির কিছু কথা সঞ্জীবনী মন্ত্রের মতো দেহমন, আত্মাকে শুদ্ধ করে তোলে।
.jpeg.webp)
আমার ছেলে কাঁদলে আমাকেই তো ধুলোকাদা ঝেড়ে কোলে তুলে নিতে হবে।
শেষ আপডেট: 9 December 2025 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যস্ততাময় বেসরকারি ও কর্পোরেট জগতে যখন টার্গেটের পিছনে ইঁদুরদৌড়ে দিনের শক্তি, রাতের ঘুম উধাও, তখন সারদামণির কিছু কথা সঞ্জীবনী মন্ত্রের মতো দেহমন, আত্মাকে শুদ্ধ করে তোলে। ধর্ম বিশ্বাসী হোক, বা ধর্ম অবিশ্বাসী হোক, সারদামণির কথা মায়ের কথা। জীবন দর্শনের কথা। নারীমুক্তি-নারীশক্তির উদ্দীপক মন্ত্রের মতো। তাই একমাত্র সারদামণিই অক্লেশে বলতে পারেন,
কর্মফল ভুগতে হবেই। তবে ঈশ্বরের নাম করলে...জপ তপ করলে কর্ম অনেকটা খণ্ডন হয়। ভগবানের নামে কমে যায়।
এই কারণেই বোধহয় সারদাদেবীর মধ্যে স্বয়ং রামকৃষ্ণ জগন্মাতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন। শুরু করেন ষোড়শোপচারে পুজো। ১৮৭৩ সালের ফলহারিণী কালীপুজোর দিন স্ত্রী সারদাকে জগদম্বার মতো বসন-অলঙ্কার পরিয়ে আলপনা আঁকা পিঁড়িতে পুজো করলেন। 'মা সারদা'-রূপে তাঁকে এগিয়ে দিলেন জগৎকল্যাণের পথে। বললেন, আমি অর্ধেক করে গেলুম, তুমি অর্ধেক করো...।
রামকৃষ্ণ একদিন নিজেই স্ত্রীকে বলেন, সত্যি সত্যি তোমাকে আনন্দময়ী মা বলে দেখতে পাই। রামকৃষ্ণ তখন তাঁকে পরম যত্নে নহবতে রেখেছিলেন। মা আপনমনে সর্বদা স্বামীর সেবা করে যান। একদিন কী খেয়াল হল, সারদা জিজ্ঞাসা করে বসলেন, আমাকে তোমার কী বোধ হয়? শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, যে মা মন্দিরে আছেন, তিনিই এই শরীরের জন্ম দিযেছেন ও সম্প্রতি নহবতে বাস করছেন এবং তিনি এখন আমার পদসেবা করছেন। সাক্ষাৎ আনন্দময়ীর রূপ বলে তোমাকে সর্বদা সত্য সত্য দেখতে পাই।
স্বামী গৌতমানন্দ বেদান্ত কেসরি পত্রিকার শ্রীসারদা দেবী আধুনিক নারীর আদর্শ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, রামকৃষ্ণ বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ও সারদা, সরস্বতী- জ্ঞান দিতে এসেছে। ও কি যে সে! ও আমার শক্তি। ও রাগ করলে এর সব নষ্ট হয়ে যাবে। ওর ভেতরে যে আছে, সে ফোঁস করলে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরও রক্ষা করতে পারবেন না। সারদা বলতেন, ঠাকুর...মাতৃভাব জগতে বিকাশের জন্য আমাকে এবার রেখে গেছেন।