Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

Birth Order Theory: বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস! জন্মসংখ্যা ও জন্মক্রম কি ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে?

আপনার জন্মতারিখ বা পরিবারে জন্মস্থান (Birth Order Theory) কি সত্যিই আপনার আবেগ ও যুক্তি নির্ধারণ করে? জেনে নিন জন্মসংখ্যা (Numerology ) ও জন্মক্রম নিয়ে বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের (Science Vs Belief) বিশ্লেষণ।

Birth Order Theory: বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস! জন্মসংখ্যা ও জন্মক্রম কি ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে?

জন্মসংখ্যা ও জন্মক্রম কি ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে? ছবি: এআই নির্মিত।

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 30 July 2025 14:17

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার ব্যক্তিত্ব কি কেবলই আপনার ব্যক্তিগত আবেগ আর যুক্তির টানাপড়েনের ফল? নাকি জন্মতারিখের (birth number) ভেতরেই লুকিয়ে আছে আপনার প্রকৃত সত্তা? সম্প্রতি সারা বিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই প্রশ্ন—জন্মসংখ্যা ও জন্মক্রম (birth order) আদৌ কি আমাদের চরিত্র, অভ্যাস ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে? একদা কৌতূহলের বিষয় হলেও আজ তা গবেষণা ও বিতর্কের কেন্দ্রে।

বিশ্বজুড়ে numerology, personality traits এবং psychological analysis নিয়ে চলা এই নতুন আলোচনা দাবি করছে, প্রতিটি ব্যক্তির জন্মসংখ্যা ও জন্মক্রম তার মৌলিক প্রবণতা, আবেগীয় প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তিনির্ভর আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই নতুন ব্যাখ্যা প্রচলিত ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ফলে এখন অনেকেই তাদের জন্মতারিখকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন।

জন্মক্রম (birth order) বনাম আবেগ-যুক্তি

কেউ পরিবারের জ্যেষ্ঠ, কেউ বা মধ্যম কিংবা কনিষ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে প্রচলিত ধারণা, জন্মক্রম (birth order) একটি ব্যক্তির আবেগ ও যুক্তিনির্ভরতার ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা একমত নন পুরোপুরি, তবে গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কার আগে কে জন্মেছে, সেই পারিবারিক অবস্থান একজন মানুষের আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জন্মক্রম তত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জন্মক্রম তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা হলেন মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার (Alfred Adler)। বিশ শতকের শুরুতে তিনি বলেন, পরিবারের ভিতরে সন্তানের "অবস্থান" (মানে কে আগে জন্মেছে, কে পরে) তার আত্মসম্মান, প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং পারিবারিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

উদাহরণস্বরূপ, জ্যেষ্ঠ সন্তানরা তাদের ছোট ভাইবোন আসার পরে "প্রভুত্ব হারানো" অনুভব করে, ফলে অনেকেই কর্তৃত্বপরায়ণ, দায়িত্ববান হয়ে ওঠে। অ্যাডলারের এই মতবাদ পরবর্তী গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে ওঠে। তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান জন্মক্রমকে একক ব্যক্তি-নির্ধারক হিসেবে গ্রহণ করে না।

জন্মক্রম অনুযায়ী প্রচলিত ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য

সাধারণত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলিই জন্মক্রম অনুযায়ী মানুষের মধ্যে দেখা যায় বলে ধরে নেওয়া হয়। যেমন: জ্যেষ্ঠ সন্তানের (Firstborns) ক্ষেত্রে, সে হবে দায়িত্বশীল, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন। তার যুক্তিবাদী মনোভাব প্রবল থাকবে। ছোটদের উদাহরণ হতে চাওয়ার একটা প্রবণতা থাকবে তাদেরয অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাক্ষেত্রে সফল হয় তারা। 

মধ্যম সন্তান (Middle Children) হতে পারে শান্তিপ্রিয়, সমঝোতাকারী, আবেগপ্রবণ, বন্ধুসুলভ। তবে উপেক্ষিত বোধ করতে পারে। ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের খুঁজে পায় তারা।

কনিষ্ঠ সন্তানেরা (Lastborns) সাধারণত প্রাণবন্ত, বহির্মুখী, বিদ্রোহী স্বভাবের, আবেগপ্রবণ এবং সৃজনশীল। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায় তারা।

আবার একক সন্তানের ক্ষেত্রে (Only Children) সে আত্মবিশ্বাসী, পরিণত আচরণ করে থাকে। যুক্তি ও আবেগের সঠিক মিশ্রণে গড়ে ওঠে। আত্মনির্ভর এবং চিন্তাশীলতা তার বৈশিষ্ট্য।

ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য অনুয়ায়ী তুলনামূলক চিত্র

Birth theory

বিশেষজ্ঞদের মত: জন্মক্রম বনাম বৈজ্ঞানিক যুক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, "জন্মক্রমের প্রভাব নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা শক্তিশালী বা ধারাবাহিক প্রমাণ পায়নি। ব্যক্তিত্ব গঠন জেনেটিক্স, সামাজিক শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার সম্মিলিত ফসল।"

জার্মানির মেইনজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, জন্মক্রম ব্যক্তিত্বের মৌলিক দিক যেমন যুক্তিবাদ, আবেগপ্রবণতা বা বহির্মুখীতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। তবে শিক্ষা ও বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে, যেখানে জ্যেষ্ঠ সন্তানরা এগিয়ে।

সামাজিক অভিঘাত: জন্মক্রমের ছাঁচে ফেলা কি ঠিক?

এই ধারণা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, সমাজ ও পরিবারেও গভীর প্রভাব ফেলে। কারণ অভিভাবকরা যদি সন্তানের জন্মক্রম অনুযায়ী প্রত্যাশা চাপিয়ে দেন, তাহলে জ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বোঝা এবং কনিষ্ঠদের ক্ষেত্রে শৈশবপ্রিয়তা ও নির্ভরতাই নিয়ম হয়ে যাবে। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

এমনকি কর্মক্ষেত্রেও জন্মক্রমের উপর ভিত্তি করে পূর্বধারণা তৈরি হলে, তা মূল্যায়নে বিভ্রান্তি আনতে পারে।

শেষ কথা

জন্মসংখ্যা বা জন্মক্রম কেবল কৌতূহলের বিষয় হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে কোনো ব্যক্তির পূর্ণ ব্যক্তিত্ব বা মূল্যায়ন করা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি মানুষই আলাদা, তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে তার সত্তা। যুক্তি না আবেগ—এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি জন্মতারিখে নয়, বরং ব্যক্তিগত চেতনা ও সচেতন বিকাশে নিহিত।

('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)


```