অনেকে সংখ্যাতত্ত্ব (Numerology) মেনে এটিএম পিন (ATM PIN) বাছাই করেন, যা সহজেই হ্যাকারদের টার্গেটে (Digital Security) পরিণত হতে পারে। জেনে নিন সুরক্ষার সঠিক উপায়।

সংখ্যাতত্ত্ব মেনে এটিএম পিন কি সুরক্ষিত? ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 30 July 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কাও। আমরা যতই সতর্ক থাকি, অনেক সময় নিজের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে ফেলি যা আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে করে তোলে দুর্বল (digital banking safety)। এর মধ্যে অন্যতম হল, শুভ-অশুভ সংখ্যার ধারণা থেকে এটিএম পিন (ATM PIN security) নির্বাচন। অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্য।
অনেকেই মনে করেন, কিছু সংখ্যা ‘ভাগ্যবান’ (lucky numbers), কিছু আবার ‘অশুভ’। কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বের (Numerology) এই বিশ্বাস কি আপনার পিনকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে না? আপনি নিজের অজান্তেই কি হ্যাকারদের জন্য (financial fraud) নিজের পিন (Predictable PINs) খুলে দিচ্ছেন (Cyber Security Risks)?
আজকের দিনে এটিএম বা ডেবিট কার্ড কেবল টাকা তোলার মাধ্যম নয়, বরং অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের চাবিকাঠি। এই কার্ডের গোপন পরিচিতি নম্বর, অর্থাৎ পিন (Personal Identification Number), আপনার সম্পদের সুরক্ষার প্রথম স্তম্ভ। একটি সুরক্ষিত ও জটিল পিন না থাকলে, সহজেই কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে হানা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, একটি দুর্বল পিন ফাঁস হওয়ার কারণে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ মুহূর্তে খোয়া যাচ্ছে।
সাধারণভাবে মানুষ এমন পিন বেছে নেন যা সহজে মনে রাখা যায়। যেমন: ‘১২৩৪’, ‘০০০০’, ‘১১১১’, ‘১১২৩’, জন্মসাল, বিবাহবার্ষিকী, ফোন নম্বরের শেষাংশ। এই সংখ্যাগুলি হ্যাকারদের জন্য একেবারে খোলা দরজা। অনেক সাইবার অপরাধী ‘ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে সাধারণ পিন সংমিশ্রণ বারবার চেষ্টা করে পিন ভেঙে ফেলে।

সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমারোলজি অনুসারে অনেকেই মনে করেন, বিশেষ কিছু সংখ্যা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে। কেউ জন্মতারিখের যোগফলকে পিন বানান, কেউ "লাকি নাম্বার" অনুসরণ করেন। কেউ আবার ১৩ বা ৮-এর মতো ‘অশুভ’ সংখ্যাকে এড়িয়ে চলে।
কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পিন সবচেয়ে বেশি অনুমানযোগ্য হয়, কারণ সেগুলি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্যের সাথে সংযুক্ত। ফলে হ্যাকাররা সহজেই তা অনুমান করতে পারে। একটি শক্তিশালী পিন হওয়া উচিত সম্পূর্ণ এলোমেলো এবং কোনও ব্যক্তিগত তথ্য থেকে বিযুক্ত।
বিশ্বের প্রায় সব ব্যাংকই এখন গ্রাহকদের এ বিষয়ে সতর্ক করছে। তারা স্পষ্ট বলছে: “পিন বাছাই করার সময় কুসংস্কার বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়, ব্যবহার করতে হবে যুক্তিসম্মত এলোমেলোতা।”
ব্যাংকগুলি আরও বলে, পিন কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না, কখনও লিখে রাখবেন না, এটিএম ব্যবহারের সময় কিপ্যাড ঢেকে রাখুন, পিন নিয়মিত পরিবর্তন করুন।
বিশিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা গবেষক বলেন, “সংখ্যাতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পিন বানানো মানেই হ্যাকারদের সামনে দরজা খুলে দেওয়া। পিনের নিরাপত্তা নির্ভর করে তার জটিলতা এবং অপ্রত্যাশিততার উপর, কোনো ‘শুভ’ বা ‘অশুভ’ সংখ্যার উপর নয়।”
তাঁর মতে, হ্যাকাররা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ, বিবাহতারিখ বা ফোন নম্বর সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ফলে যেসব পিন এই তথ্যগুলোর সাথে সম্পর্কিত, তা ঝুঁকিপূর্ণ।
আজকের হ্যাকাররা শুধু অনুমান করেই ক্ষান্ত দেয় না। তারা ব্যবহার করে:
স্কিমিং ডিভাইস: এটিএম মেশিনে বসানো হয়
ফিশিং ইমেল: ভুয়া লিংক পাঠিয়ে পিন চুরি
শোল্ডার সার্ফিং: আপনার পাশে দাঁড়িয়ে পিন দেখে নেওয়া
আপনার পিন যদি সহজ হয়, তাহলে এইসব কৌশল আরও সহজে কার্যকর হয়ে যায়।
নিজের আর্থিক সুরক্ষার জন্য নিচের নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলুন:
জটিল ও এলোমেলো পিন ব্যবহার করুন
কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পিন তৈরি করবেন না
পিন কখনও লিখে রাখবেন না বা শেয়ার করবেন না
নিয়মিত পিন পরিবর্তন করুন
সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
মনে রাখুন, ATM পিন হল আপনার ডিজিটাল সম্পদের প্রহরী।