প্রথমেই আসা যাক প্রধান কারণের কথায়। দীর্ঘদিন ধরেই ভাদ্র মাসকে অশুভ বলে মনে করা হয়। এই সময়ে যেকোনও ধরনের শুভ কাজ বা চুক্তি এড়িয়ে চলা উচিত, এমনই প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 21:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাদ্র মাস এলেই বহু জায়গায় বাড়ির মালিকরা নতুন ভাড়াটে নিতে চান না। আবার ভাড়াটে পক্ষে থাকলেও এই সময় ঘর ছেড়ে নতুন ভাড়া নেওয়া এড়িয়ে চলেন অনেকে। কেন এমনটা হয়? উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বাস, পৌরাণিক কাহিনি আর প্রাচীন আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে।
প্রথমেই আসা যাক প্রধান কারণের কথায়। দীর্ঘদিন ধরেই ভাদ্র মাসকে অশুভ বলে মনে করা হয়। এই সময়ে যেকোনও ধরনের শুভ কাজ বা চুক্তি এড়িয়ে চলা উচিত, এমনই প্রচলিত ধারণা রয়েছে। ফলে বিয়ে থেকে গৃহপ্রবেশ, এমনকি ঘর ভাড়া দেওয়া বা নেওয়াও এই সময়ে বন্ধ থাকে।
পৌরাণিক কাহিনিতেও আছে তার ব্যাখ্যা। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, ভাদ্রা হলেন সূর্যদেবতার কন্যা। বলা হয়, তিনি যখন জন্ম নেন তখন গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করতে চেয়েছিলেন। সেই থেকেই এই মাসকে অশুভ বা অকল্যাণের সময় হিসেবে ধরা হয়।
আবার বাস্তবিক কারণও কম নয়। ভাদ্র মাস মানেই বর্ষা। বৃষ্টি, কাদামাটি আর খারাপ আবহাওয়ায় নতুন কোনও কাজে হাত দেওয়া তখন কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়ি বদল বা ভাড়া নেওয়া দেওয়া আরও ঝক্কির কাজ। তাই লোকজন এড়িয়ে যান। ধীরে ধীরে এই বাস্তব অসুবিধাই রূপ নেয় কুসংস্কারে।
এমনকি অনেকে ভাদ্র মাসে ঘর ভাড়া নিলে বা দিলে অশুভ ফল আসতে পারে। তাই বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে—দু’পক্ষই এই মাসে দূরে থাকেন ভাড়ার চুক্তি থেকে।
তবে সব সংস্কৃতিতেই যে একইভাবে দেখা হয়, তা নয়। অসমীয়াদের কাছে ভাদ্র মাসকে ধরা হয় শুভ হিসেবে। ওই সময় ভক্তিমূলক কাজকর্মে মেতে থাকেন তাঁরা। কোথাও কোথাও ভাদ্র মাসে রুক্মিণীর পুজো করলে পাপমোচন হয় এবং বিষ্ণুলোক লাভ হয়, এমন বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে।
অর্থাৎ ভাদ্র মাসকে অশুভ ধরা হোক বা শুভ, এর তাৎপর্য নির্ভর করছে সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর।