গণেশ প্রতিমার শুঁড় নিয়ে যেমন জনশ্রুতি, তেমনি ভক্তিরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণত গণেশের মূর্তিতে দেখা যায় বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়। সেগুলি ভক্তদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবার, সংসার ও ধনসম্পদের সঙ্গে যুক্ত।

সিদ্ধিবিনায়ক
শেষ আপডেট: 27 August 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণ্যের আড়াইশো বছর পেরোনো সিদ্ধিবিনায়ক আজ মুম্বইয়ের প্রাণকেন্দ্র। ১৮০১ সালে প্রভাদেবীতে যখন ছোট্ট এক কাঠামোর মধ্যে কালো পাথরের গণেশমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কেউ কি কল্পনা করেছিল যে একদিন এ মন্দিরে প্রতিদিন সাতাত্তর হাজার মানুষ ভিড় জমাবেন? দুই-আড়াই ফুট চওড়া মূর্তিটিই আজ কোটি ভক্তের আস্থা, আশ্রয় ও শক্তির প্রতীক। মূর্তিটি জনপ্রিয় এক ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের জন্যও।
গণেশ প্রতিমার শুঁড় নিয়ে যেমন জনশ্রুতি, তেমনি ভক্তিরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণত গণেশের মূর্তিতে দেখা যায় বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়। সেগুলি ভক্তদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবার, সংসার ও ধনসম্পদের সঙ্গে যুক্ত। অথচ সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে গণেশের শুঁড় ডান দিকে। একে বলা হয় ‘সিদ্ধি গণেশ’। বিশ্বাস, এ রূপ শক্তিশালী এবং বিশেষ সাধনার জন্য। তাই গৃহস্থ ঘরে এ মূর্তি খুব কমই দেখা যায়।
কথিত আছে, সঠিকভাবে এই রূপের পূজার্চনা না হলে তার ফল উল্টোও হতে পারে।
তবু শাস্ত্রজ্ঞ ও শিল্পীর ব্যাখ্যা অন্যরকম। কেউ বলেন, সিদ্ধি ও ঋদ্ধি আসলে গণেশের দুই পত্নী, যাঁরা ভক্তির প্রতীক, ঋদ্ধি মানে ঐশ্বর্য, সিদ্ধি মানে আত্মশক্তি ও জ্ঞান। আবার মন্দিরের পুরোহিতের দাবি, তাঁরা পত্নী নন, দাসী। বিতর্ক যাই থাকুক, মূর্তির কপালে তৃতীয় চক্ষু, হাতে পদ্ম, কুঠার, রুদ্রাক্ষমালা আর মোদকের পাত্র, সব মিলিয়ে এই মূর্তি অনন্য।
অন্যদিকে মুম্বইয়ের শিল্পী রিন্তু রাঠোড় মনে করেন, রূপ নয়, ভক্তির বন্ধনই আসল। তিনি নিজে ‘চকোলেট গণেশ’-এর উদ্ভাবক। তাঁর কাছে শুঁড় বাম হোক বা ডান, প্রতিটি প্রতিমাই একক ভাবে শক্তির প্রতীক। আবার বেদজ্ঞ পণ্ডিতরা বলেন, 'সিদ্ধি গণেশ আসলে যাত্রাপথের এক অন্তিম পর্যায়, যেখানে ভক্ত ঋদ্ধি অতিক্রম করে সিদ্ধির আসনে পৌঁছন।'
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই মন্দির ভক্তদের টেনে নিয়ে চলেছে। আর জনশ্রুতির স্তর পেরিয়ে আজও প্রশ্ন রয়ে যায়, গণেশ কি সত্যিই বিবাহিত? তিনি কি সিদ্ধি-ঋদ্ধির স্বামী, না কেবল প্রতীক? উত্তর যাই হোক, বিশ্বাসের শক্তিই এই মন্দিরকে করে তুলেছে ভারতের অন্যতম পীঠক্ষেত্র।