জ্যোতিষশাস্ত্র নাকি বিজ্ঞান— কে ঠিক? জন্মছক ও গ্রহের অবস্থান কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন বিতর্ক। পড়ুন জ্যোতিষ বনাম বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ।

জ্যোতিষ বনাম বিজ্ঞান
শেষ আপডেট: 9 October 2025 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতবর্ষের কোটি কোটি মানুষের জীবনে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব এক অমোঘ সত্য। কর্মজীবন, বিয়ে, স্বাস্থ্য বা সন্তানের ভবিষ্যৎ, জীবনের ছোট-বড় প্রতিটি সিদ্ধান্তে আজও বহু মানুষ জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হন। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র কি সত্যিই আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে, নাকি এটি কেবল এক বিশ্বাস? গ্রহদের অবস্থান কীভাবে আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে, সেই জটিল প্রশ্নের গভীরে প্রবেশ করা যাক।
ভারতীয় জ্ঞানচর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, যা বেদের ছয়টি প্রধান অঙ্গের মধ্যে অন্যতম। প্রায় ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (বা তারও আগে) সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল থেকে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায়। প্রারম্ভিক কালে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যজ্ঞ ও বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের জন্য সঠিক সময় ও দিন নির্ধারণ করা।
প্রাচীন বৈদিক ঋষিরা গভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং উন্নত গণিত ব্যবহার করে গ্রহগতিবিদ্যা নিয়ে কাজ করেছেন। সময়ের সাথে সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞান পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপের দিকে এগোলেও, জ্যোতিষশাস্ত্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব বিশ্লেষণে মনোযোগী হয়।
হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে মানুষের জীবনে যে নয়টি জ্যোতিষ্ক বা 'গ্রহের ব্যাখ্যা' দেওয়া হয়েছে, তাদের সম্মিলিতভাবে 'নবগ্রহ' বলা হয়। এই নবগ্রহগুলি হল: সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি এবং দু'টি ছায়া গ্রহ—রাহু ও কেতু।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, প্রতিটি গ্রহেরই নিজস্ব শক্তি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মানুষের ভাগ্য, স্বাস্থ্য, মানসিকতা এবং সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। জন্মের সময় এই গ্রহগুলির অবস্থান এবং গতিপথ বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যৎ ও জীবনের নানা দিক নির্ধারণ করা হয়।
একজন ব্যক্তির জন্মসময়, জন্মতারিখ এবং জন্মস্থানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় জন্মকুণ্ডলী বা জন্মছক। জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের অবস্থানকে তার ডিগ্রি দ্বারা পাঁচটি মুখ্য ভাগে ভাগ করা হয়—বাল্য, কুমার, যুবা, বৃদ্ধ এবং মৃত অবস্থা। এর মধ্যে 'যুবা' অবস্থা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও, 'বক্রি গ্রহ' (যে গ্রহগুলিকে পিছনের দিকে যেতে দেখা যায়) গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বক্রি গ্রহগুলি সবসময় খারাপ ফল দেয় না, বরং তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
ভারতে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস গভীর হলেও, আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদীরা এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিজ্ঞানীরা সাধারণত জ্যোতিষশাস্ত্রকে 'ছদ্মবিজ্ঞান' হিসেবে গণ্য করেন, কারণ এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।