করবা চৌথ ২০২৫ কবে? ৯ না ১০ অক্টোবর? জেনে নিন সঠিক তিথি, শুভক্ষণ ও পূজার সম্পূর্ণ নিয়ম। স্বামীর মঙ্গল কামনায় পালন করুন এই পবিত্র ব্রত।
.jpeg.webp)
ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 8 October 2025 00:36
দ্য ওয়াল ব্যরো : এই বছর করবা চৌথের (Karwa Chauth 2025) সঠিক তারিখ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছে। ৯ অক্টোবর নাকি ১০ অক্টোবর—কোন দিনটিতে বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের কামনায় এই নির্জলা উপবাস পালন করবেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, তিথি ও নক্ষত্রের ভিন্নতার কারণেই এই বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথি ৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। অতএব, উদয়া তিথি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর, শুক্রবার করবা চৌথে ব্রত পালন করা হবে। এই দিনে পূজার শুভ মুহূর্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৭ মিনিটে, চলবে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট পর্যন্ত। চাঁদ ওঠার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ৮টা ১৩ মিনিট, যার পরেই মহিলারা অর্ঘ্য নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করবেন। সঠিক তিথি ও পূজার নিয়ম জেনে এই পবিত্র ব্রত পালন করা অত্যন্ত জরুরি।
করবা চৌথ কী?
করবা চৌথ (Karwa Chauth 2025) হল উত্তর ভারতের বিবাহিত মহিলাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনে তাঁরা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির কামনায় সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত নির্জলা উপবাস পালন করেন। ‘কররা’ শব্দের অর্থ মাটির পাত্র, এবং ‘চৌথ’ মানে চতুর্থী তিথি। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। এটি স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি: ৯ না ১০ অক্টোবর?
প্রতি বছরই করবা চৌথের তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা যায়, বিশেষ করে যখন চতুর্থী তিথি দুই দিন ধরে থাকে। ২০২৫ সালেও ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে—কিছু পঞ্জিকা ৯ অক্টোবর, আবার কিছু ১০ অক্টোবরকে সঠিক তারিখ হিসেবে উল্লেখ করছে। আসলে, হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী চতুর্থী তিথির শুরু ও শেষের সময়ের উপর ভিত্তি করেই উৎসবের তারিখ নির্ধারিত হয়। করবা চৌথ পালনের ক্ষেত্রে চন্দ্রোদয়-ব্যাপিনী চতুর্থী তিথিই প্রধান — অর্থাৎ যে দিনে চন্দ্রোদয়ের সময় চতুর্থী তিথি থাকে, সেই দিনেই ব্রত পালন করা হয়।
সঠিক করবা চৌথ তারিখ ২০২৫
বিভিন্ন জ্যোতিষী ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের কারওয়া চতুর্থ উৎসবটি ১০ অক্টোবর, শুক্রবার পালিত হবে।যদিও চতুর্থী তিথি ৯ অক্টোবর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে শুরু হচ্ছে, তবুও চন্দ্রোদয় ১০ অক্টোবরেই হবে, তাই উপবাস ও পূজা ওই দিনেই করা হবে। বিবাহিত মহিলারা সূর্যোদয়ের আগে ‘সারগি’ গ্রহণ করে উপবাস শুরু করবেন এবং সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা ও পূজা শেষে উপবাস ভঙ্গ করবেন।
করবা চৌথ দিনে শুভক্ষণ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই পূজা ও চন্দ্র দর্শন সম্পন্ন হয়।
| বিবরণ | সময় (১০ অক্টোবর, ২০২৫) |
|---|---|
| চতুর্থী তিথি শুরু | ৯ অক্টোবর, রাত ১০টা ৫৪ মিনিট |
| চতুর্থী তিথি শেষ | ১০ অক্টোবর, সন্ধ্যা ৭টা ৩৮ মিনিট |
| পূজা মুহূর্ত | বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট পর্যন্ত |
| উপবাসের সময় | সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত |
| চন্দ্রোদয় | রাত ৮টা ১৩ মিনিট (শহরভেদে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে) |
পূজার নিয়ম
করবা চৌথের পূজা-বিধিতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে পালন করা হয়:
সারগি গ্রহণ: সূর্যোদয়ের আগে শাশুড়ি তাঁর পুত্রবধূকে সারগি দেন—ফল, মিষ্টি, শুকনো ফল ও ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ। এটি গ্রহণ করেই উপবাস শুরু হয়।
নির্জলা উপবাস: সারগি গ্রহণের পর থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত কোনো খাদ্য বা জল গ্রহণ করা হয় না।
সন্ধ্যার পূজা: মহিলারা নতুন পোশাকে, সাধারণত লাল, হলুদ বা সোনালি রঙে সেজে একত্রিত হন।
ব্রতকথা শ্রবণ: প্রবীণা বা পুরোহিতের কাছ থেকে কারওয়া চতুর্থের ব্রতকথা শোনা হয়।
দেবী পূজা: দেবী পার্বতী, শিব, গণেশ ও কার্তিক ঠাকুরের পূজা করা হয়। মাটির করওয়া স্থাপন করে পূজা সম্পন্ন হয়।
চন্দ্র দর্শন ও অর্ঘ্য প্রদান: চাঁদ ওঠার পর চালুনি দিয়ে প্রথমে চাঁদ, তারপর স্বামীর মুখ দেখা হয় এবং চাঁদকে অর্ঘ্য প্রদান করা হয়।
উপবাস ভঙ্গ: স্বামীর হাতে জল পান করেই মহিলারা তাঁদের উপবাস ভঙ্গ করেন।
করবা চৌথ গুরুত্ব
করবা চৌথ কেবল একদিনের উপবাস নয়—এটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ভালোবাসা ও অটুট বন্ধনের প্রতীক।
মহিলারা এই উপবাস পালন করেন স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ুর জন্য। বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত পালনের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে। মহাভারতের দ্রৌপদী এবং রানী বীরবতীর পৌরাণিক কাহিনী এই ব্রতের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্যকে জীবিত রেখেছে।
পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ
করবা চৌথের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীসমূহ:
মাটির করওয়া (জল রাখার পাত্র)
চালুনি
জল ও দুধ
মিষ্টি ও ফল
দীপ (প্রদীপ)
ধূপ ও আরতির সামগ্রী
সিঁদুর, মেহেন্দি, আলতা, চুড়ি, বিন্দি প্রভৃতি শৃঙ্গারের সামগ্রী
আসন ও পূজার থালা
গৌরী মাতা, গণেশ ও কার্তিক ঠাকুরের ছবি বা মূর্তি
কলাপাতা (যদি সম্ভব হয়)
কিছু চাল ও গম
ফুল