শীত এলেই বাংলার ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। পিকনিক, পার্টি, ছুটির আনন্দ- সব মিলিয়ে এই সময়টা বাঙালির কাছে ভীষণ প্রিয়। যদিও দেশের অনেক রাজ্যের তুলনায় বাংলার শীত খুব কড়া নয়, তবুও এই মরশুমে যে খাবারের বাহার দেখা যায়, তা অন্য সময় মেলে না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 December 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এলেই বাংলার ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। পিকনিক, পার্টি, ছুটির আনন্দ- সব মিলিয়ে এই সময়টা বাঙালির কাছে ভীষণ প্রিয়। যদিও দেশের অনেক রাজ্যের তুলনায় বাংলার শীত খুব কড়া নয়, তবুও এই মরশুমে যে খাবারের বাহার দেখা যায়, তা অন্য সময় মেলে না। বিশেষ করে শীতকাল মানেই নলেন গুড়, নতুন গুড় আর পিঠে-পায়েসের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে রান্নাঘর। শীতের দিনে যদি পশ্চিমবঙ্গে আসেন, তবে এই বিশেষ মিষ্টিগুলি না চেখে ফেরা একেবারেই চলবে না।

পৌষ পার্বণ মানেই প্রথমে যে নামটি মনে আসে, তা হল পাটিসাপটা। পাতলা প্যানকেকের মতো এই পিঠের ভেতরে থাকে নারকেল আর নলেন গুড়ের পুর বা সন্দেশ। বানানো যেমন সহজ, খেতেও তেমনই হালকা ও সুস্বাদু। অনেকেই সকালের নাশতায় বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে পাটিসাপটা খেতে ভালোবাসেন।

শীতকালীন আর এক জনপ্রিয় মিষ্টি হল নলেন গুড়ের পায়েস। গোবিন্দভোগ চাল, টাটকা দুধ আর নলেন গুড় দিয়ে তৈরি এই পায়েস হয় দারুণ মোলায়েম ও সুগন্ধি। কাজু, কিশমিশ, বাদাম দিয়ে সাজানো এই পায়েস বাঙালি বাড়িতে জন্মদিন বা শুভ অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কলকাতার বিখ্যাত মিষ্টির তালিকায় নলেন গুড়ের রসগোল্লার নাম অবশ্যই থাকবে। চেনা রসগোল্লা, তবে চিনির সিরার বদলে নলেন গুড়ের রসে ডোবানো। গরম গরম এই রসগোল্লা খেলে স্বাদ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

দুধ পুলি পিঠেও শীতের আরেকটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন। চালের গুঁড়োর খোলের ভেতরে নারকেল-নলেন গুড়ের পুর, আর সবটা দুধে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে এই পিঠে খাওয়ার চল বহু পুরনো।

ভাপা পিঠে নামেই বোঝা যায়, এটি ভাপে তৈরি হয়। চালের গুঁড়ো, নারকেল আর নলেন গুড়- এই তিনটি উপকরণেই তৈরি এই মিষ্টি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনই মুখে দিলে গলে যায়।

সবশেষে রয়েছে রাঙা আলুর পুলি। এটি ভাজা পিঠের এক ধরন, যেখানে মিষ্টি আলু, চালের গুঁড়ো ও নারকেল-গুড়ের পুর ব্যবহার করা হয়। শীতের সন্ধ্যায় এই পিঠে এক কাপ চায়ের সঙ্গে হলে আনন্দই আলাদা।