প্যাকেটের গায়ে লেখা দেখে হেলথ ড্রিঙ্কস, রেডিমেড খাবারের ওপর একটা ভরসাযোগ্যতা তৈরি হয়। কিন্তু বাচ্চার সেই সব খাবারের আদৌ কোনও দরকার আছে (do children need health drink)?

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 17 January 2026 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্মের পর থেকে বাবা-মায়ের মনে একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে, বাচ্চার গ্রোথ (growth for baby) ঠিকঠাক হচ্ছে তো? সে সঠিক পুষ্টি (child nutrition) পাচ্ছে তো? রোজ কী খাবে, পুষ্টিতে কোথাও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে না তো! প্যাকেটের গায়ে নানারকম লেখা দেখে বাইরের রেডিমেড খাবারের (child readymade food) ওপর নিজে থেকেই একটা অন্যরকম ভরসাযোগ্যতা তৈরি হয়। হেলথ ড্রিঙ্কসও (health drinks) সেই তালিকায় থাকে। কিন্তু বাচ্চার সেই সব খাবারের আদৌ কোনও দরকার আছে (do children need health drink)? দ্য ওয়ালকে (The Wall News) জানালেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ পেডিয়াট্রিক্সের প্রেসিডেন্ট ডাঃ নীলম মোহন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ নীলম বলছেন, ''সঠিক পুষ্টির মানে বুঝতে হবে। সেটা হল - যে খাবারে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস সবই রয়েছে।''
কিন্তু অনেকের মনে এরকম একটা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে যে, আমরাও তো ছোট থেকেই চিনি খেয়েই বড় হয়েছি। সেই কথার সূত্র ধরেই ডাঃ নীলম বলেন, ''আগেকার দিনে ছোটবেলায় চিনি খাওয়া হতো ঠিকই, আমাদের প্রজন্ম চিনি খেয়েই বড় হয়েছে। কিন্তু চিনি মানেই সেটা একপ্রকার 'অ্যাডিকশন', আর সেটা থেকেও আমাদের দূরে থাকতে হবে।''
বাচ্চার জন্য হেলথড্রিঙ্ক কেন নয়?
শিশু বিশেষজ্ঞ বলছেন, ''জুস আর হেলথড্রিঙ্কের ৩০০ মিলিতে সাড়ে আট চামচ চিনি থাকে। বোঝাই সম্ভব নয় যে, একবারে এতটা চিনি শরীরে ঢুকছে। ফলে বাড়ছে 'হাইপারঅ্যাক্টিভিটি'র সমস্যা। এতে ক্যালোরি ইনটেক বাড়ছে। এতে কিন্তু শরীরে আসল পুষ্টির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যা খাওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে কী কী গুণ রয়েছে, সেটা দেখা দরকার।''
বাচ্চাকে বাইরের খাবার দেওয়ার আদৌ কি কোনও দরকার আছে?
''আপনার বাড়িতেই সেই সব খাবার রয়েছে, যা সঠিক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। মিলেট খেতে পারেন, রাগি খুব ভাল উপাদান। ঘরেই সেইসব পাউডার বানিয়ে নিন। সুজির পাউডারও বানাতে পারেন। যদি বাচ্চা নুডলস বা পাস্তা খেতে চায়, তাকে ময়দার বদলে হোল গ্রেইন, রাগি, মিলেটের নুডলস দিন। বাড়িতে থাকা বাদাম, সিডসের পাউডার বানিয়ে দিন। তাতে গুড়, খেজুর মেশাতে পারেন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাবে। ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়বে,'' এমনটাই বলছেন ডাঃ নীলম মোহন।
সবশেষে, ডাঃ নীলমের একটাই কথা, ''আমরা চতুর্থ উন্নয়নশীল দেশ, ৩৫% অপুষ্টিতে ভুগছে ভারত। আমাদের কাছে কোনও কিছুর খামতি নেই। কিন্তু আমরা জানি না যে আমরা কী খাব, কী খাচ্ছি। আমরা শুধু বাঁচার জন্য খেয়ে চলেছি। বাচ্চাদের কী পুষ্টিগুণের খাবার দিচ্ছি, কতবার দিচ্ছি, রোজ একই খাবার দিচ্ছি না তো? সেই নিয়ে একটা অবহেলা কাজ করে, সেখানেই আসল সমস্যা। 'সঠিক খাবার খাওয়া' আমাদের শিখতে হবে।''