জাপানের কোচ মিয়েকো ওকুমাতসু এবং কেনিয়ার কোচ ডেনিস মারাগাইয়াকে প্রশিক্ষণের সময় বেওয়ারিশ কুকুর কামড়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

পথ কুকুরের কামড়ে আহত দুই বিদেশি কোচ
শেষ আপডেট: 4 October 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে বসেছে বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের (World Para Athletics Championships) আসর। আর প্রতিযোগিতা চলাকালীন ঘটে গেল মারাত্মক দুর্ঘটনা। বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে (Stray dog) আহত হলেন দুই বিদেশি কোচ। যাঁদের মধ্যে একজন কেনিয়ার ও অপরজন জাপানের (Japanese and Kenyan coach)। এই ঘটনার পর প্যারা অলিম্পিক্সের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং বারবার সতর্কীকরণ সত্ত্বেও, দিল্লিতে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক এখনও চরম পর্যায়ে রয়েছে। শুক্রবার দিল্লির জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে (Delhi's JLN Stadium) ঘটে যাওয়া ঘটনা সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, বিশ্বমানের একটি প্রতিযোগিতায় যদি এরকম ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
জাপানের কোচ মিয়েকো ওকুমাতসু এবং কেনিয়ার কোচ ডেনিস মারাগাইয়াকে প্রশিক্ষণের সময় বেওয়ারিশ কুকুর কামড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত মেডিক্যাল টিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের দুজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং পরে দুই কোচকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন এবং ওষুধ দেওয়ার পর তাঁদের হোটেলে পাঠানো হয়।
কেনিয়ার দলের কর্মকর্তা জোয়েল আতুতি বলেন, “ঘটনাটি ঘটে সকাল ১০টার দিকে। স্টেডিয়ামের কল রুমের কাছে কোচ ডেনিস একজন অ্যাথলিটের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই হঠাৎ একটি কুকুর তাঁকে কামড়ে ধরে, যার ফলে তাঁর পা থেকে রক্তক্ষরণ হয়। পাশাপাশি একজন জাপানি কোচের উপরও একটি কুকুর আক্রমণ করে।
এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রায় ২,২০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছেন এবং ৩৫ জনেরও বেশি ডোপিং নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাও উপস্থিত রয়েছেন। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিযোগিতাটি ডোপিংমুক্ত করার জন্য বিশেষ নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। তবে, এই ঘটনাটি অবশ্যই বিদেশি দলগুলির মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আয়োজকরা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের আগে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামকে বেওয়ারিশ কুকুরমুক্ত করার জন্য এমসিডির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছিল। এরপর এমসিডি সময়মতো স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে এবং প্রথম দিন থেকেই কুকুর ধরার যানবাহন মোতায়েন করে। তা সত্ত্বেও, কুকুরদের প্রায়শই বাইরের লোকেরা খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ভিতরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে চলেছে।
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এমসিডি এখন স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের মধ্যে স্থায়ীভাবে দুটি বিশেষ দল মোতায়েন করেছে ও পশু কল্যাণের মান মেনে সমস্ত কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।