Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

অনুপ্রবেশ-পরিযায়ী শ্রমিক-বাংলাদেশি-পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ও দুই বাংলার পরিচিতি স্বত্ত্বার সংকট

পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শেষ হওয়ার পর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে ‘পুশ ব্যাক-পুশ আউট’ (Push back-Push out) লড়াই যখন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে নীরবতা অনেককেই অবাক করেছে।

অনুপ্রবেশ-পরিযায়ী শ্রমিক-বাংলাদেশি-পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ও দুই বাংলার পরিচিতি স্বত্ত্বার সংকট

প্রতীকী ছবি

শেষ আপডেট: 1 June 2025 15:37

অমল সরকার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) গত বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) সভায় অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ না খোলায় বঙ্গ বিজেপির (West Bengal BJP) অনেকেই হতাশ। বিশেষ করে পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শেষ হওয়ার পর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে ‘পুশ ব্যাক-পুশ আউট’ (Push back-Push out) লড়াই যখন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে নীরবতা অনেককেই অবাক করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সভার দিনেই অদূরে কোচবিহার সীমান্তে বেশ কিছু মানুষ ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ আটকে ছিলেন। বিএসএফ (BSF) তাদের ঠেলে পাঠালে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB) ফেরত পাঠিয়ে দেয়। বাংলা, অসম-সহ আরও কয়েকটি সীমান্তে এমন বহু মানুষ নো ম্যানস ল্যান্ডে মনুষ্যেতর জীবনযাপন করছেন, দুই দেশই যাদের নাগরিক বলে মানছে না। যদিও হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করে বিএসএফ ফেরাতে সক্ষম হয়েছে বলে নানা সুত্রে জানা যাচ্ছে।

অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরানো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ফেরানোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আছে। যেখানে ‘পুশ ব্যাক’ বলে কোনও শব্দ নেই। উপযুক্ত আইনি পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব চিহ্নিত করার পর বৈধ পথে ফেরত পাঠানোই নিয়ম। এখন সে সবের বালাই নেই। নিরাপত্তা বাহিনীগুলি পহেলগামের হত্যাকারীদের এখনও ধরতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলি রাতারাতি শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-কে চিহ্নিত করে আদালতে পেশ না করে সরাসরি সীমান্তে নিয়ে পুশ ব্যাক করে দিচ্ছে। অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, পহেলগামের ব্যর্থতা এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বহু ন্যায্য প্রশ্নের জবাব এড়াতেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরার অভিযান এবং পুশ ব্যাকের এই আয়োজন। সেই সঙ্গে বছর ঘুরতে পশ্চিমবঙ্গ, অসমের বিধানসভা ভোটের অঙ্ক থাকা অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী হয়তো ‘সিঁদুর-সাফল্য’ বিপণনের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যু সামনে আনতে চান না।

প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরার নামে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি শ্রমিক-কর্মচারীদের টার্গেট করা শুরু হয়েছে। একটি খবরের কাগজের রিপোর্ট অনুযায়ী সাম্প্রতিক অতীতে বাংলার প্রায় দু হাজার শ্রমিক বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

ভোটের আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি বরাবর অন্য রাজ্যে দলকে ক্ষমতায় আনতে নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকে। অনুপ্রবেশকারী ধরপারকড় তারমধ্যে একটি। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে চিৎকার-চেচামেচির পিছনে একটা ধর্মীয় অঙ্ক আছে। অর্থনৈতিক কারণে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ মুসলিম। বিজেপি জানে যে এরা তাদের ভোটার নয়। তাই ভোট এলেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি এদের তাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে বিতাড়ান সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বেআইনি। কিন্তু ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। এর পিছনে আছে দুটি বিপরীত বাস্তবতা। বিজেপি সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোট পেতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে মুসলিমরা তাদের নিরাপত্তা এবং আরও নানা কারণে জমানা নির্বিশেষে অবিজেপি দলগুলির পাশে থাকে। ফলে বাংলাদেশি তাড়ানোর অভিযান করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি আসলে তাদের পশ্চিমবঙ্গ পার্টির পাশে দাঁড়ায়।

অনুপ্রবেশ বিজেপির হিন্দুত্ব এবং হিন্দুদের ক্ষেপানোর চেনা অস্ত্র। কয়েক মাস আগে ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোটে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ইস্যুতে দলকে নেতৃত্ব দেন। যদিও সফল হননি। তবু এগুলি বিজেপির আগমার্কা ইস্যু যা তারা কখনও হাতছাড়া করবে না।

অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিতেই শ্রমিকদের একাংশ পরিযায়ী। সেখানেও তীব্র প্রতিযোগিতা। বাংলায় নির্মাণ শিল্পে বিহারী শ্রমিকদের জায়গা দখল করেছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, দুই ২৪ পরগণার মানুষ। বাঙালি নারী-পুরুষ এথন পুরসভার ড্রেন পরিস্কার, রাস্তা ঝাড় দেওয়ার কাজ করছে, বিহারী শ্রমিকেরা উধাও। অর্থনীতি, রুটিরুজির এই স্বাভাবির পবণতার সঙ্গে বিজেপি ধর্মের রাজনীতি জুড়ে দিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন যে ন্যারেটিভ তৈরি করতে চেয়েছে এখন তাতে অনেকটাই সফল। সেটি হল, সিপিএম এবং তৃণমূল, দুই জমানাতেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যে তিরিশ শতাংশ মুসলিম আছে, এই বিষয়টাকে বিজেপি কিছুতেই ধর্তব্যের মধ্যে আনতে চায় না। তারা দেখাতে চায় মুসলিমদের বড় অংশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। বিজেপি এই তিরিশ শতাংশতে তাই একপাশে ঠেলে দিয়ে বাকি ৭০ শতাংশের ভোটকে নিজেদের ঝুলিতে আনতে মরিয়া।

সেই কারণেই অনুপ্রবেশ এবং মাইগ্রেশনের মতো দুটি অর্থনৈতিক সমস্যাকে নিয়ে তারা সমানে নোংরা রাজনীতি করে চলেছে। সেই কারণেই বাঙালি ও বাংলাদেশিকে এক করে দেখানোর চেষ্টা করে। এটা মনে করার কারণ নেই যে কেউ কিছু না বুঝে করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার মানুষ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখানোর পরও যখন তাদের জন্ম সার্টিফিকেট, জমির দলিল দেখাতে বলছে তখন বোঝাই যায় অনুপ্রবেশকারী বলে ভারতীয় তথা বাংলার বাঙালিদের হেনস্থা করাই উদ্দেশ্য।

এই সমস্যার সুত্র অনেক গভীরে। পশ্চিমবঙ্গে তিরিশ শতাংশ মুসলিম থাকলেও তাদের কোনও আইডেন্টিটি তৈরি হয়নি। শিক্ষা-সাহিত্য-সিনেমা-খেলাধুলো দেখুন-ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প দেখুন সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই। ফলে বিজেপির পক্ষে এটা প্রচার করা আরও সুবিধা হয়ে যাচ্ছে যে এরা বাংলাদেশি মুসলিম। অতএব এরা সব উৎপাত, সমস্যা, আমাদের দেশের সব কিছুতে তারা ভাগ বসায়, ইত্যাদি প্রচার চলছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না হওয়ায় তাদের আত্মপরিচয়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই অসহয়তার সুযোগ নিয়ে তাদের নাগরিকত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল দুই জমানাতেই বাংলার মুসলিমদের নিরাপদ। দুর্ভাগ্যের হল তাদের অর্থনৈতিক প্রগতি হয়নি।

আর একটি দিক হল বাঙালির সামগ্রিক সংকট। আমরা আর বাঙালি হিসাবে গর্ব বোধ করছি না। আমাদের গরিমা এখন ধূসর অতীত। তার পিছনে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক অনেক কারণ আছে। ফলে বাঙালিকে ঘাড়ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাগুলি নিয়ে বাঙালি সমাজ থেকে কোনও প্রতিরোধ নেই। বরং বিভাজন স্পষ্ট। যে টুকু প্রতিবাদ, তা আসছে রাজনীতির মঞ্চ থেকে, ভোটের অঙ্ক মেনে।

কাঁটাতারের অপারেও সমস্যাটি ঘুরেফিরে একই। বাংলা ও বাঙালির স্বত্ত্বা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। ‘জয় বাংলা’ নিষিদ্ধ শব্দ। বাঙালির সেরা অর্জন মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা, লড়াইয়ের বীরগাঁথা মুছে, রাষ্ট্রের জনকের স্মৃতি উপড়ে ফেলার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন। ওপারে বাংলা ও বাঙালি এপারের বিপরীত ধর্মীয় সংখাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তির মুখোমুখি সংঘাত অবতীর্ণ।

এপারে বাঙালির আত্মপরিচয় যখন উপড়ে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে, যখন তাদের ভিনদেশি নাগরিক বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তখন রাজনীতির বঙ্গ সমাজ দ্বিধাবিভক্ত। অথচ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গেও রাজনীতি করে। তাদের হাতে প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট আছে। মনে রাখা দরকার এই ভোট আসলে অমুসলিম সত্তর শতাংশ ভোটারের রায়। শতাংশের হিসাবে তাদের স্টাইকিং রেট তুলনামূলকভাবে তাই বেশি। ফলে রাজনীতি বাঙালিকে যেভাবে ভাগ করে দিয়েছে সেটা পরিযায়ী শ্রমিকের থেকেও অনেক বড় সংকট।

বাংলার বাইরে এই মানুষগুলিকেও বিজেপি বাংলাদেশি বলে টার্গেট করে অনেকটাই সফল। কারণ, বাঙালি ঐক্যবদ্ধভাবে এই অনাচারের বিরোধিতা করছে না। কলকাতার লেখক শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরা গেলেন কোথায় যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলতে নির্লজ্জরকম হুড়োহুড়ি করে থাকেন বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষি মানুষ যখন আক্রান্ত তখন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান। কারণ তারা বাঙালি সুশীল সমাজকে চুপ করিয়ে দিতে পেরেছে যাদের সিংহভাগ দৃশ্যত তৃণমূলের সঙ্গে আছে।

রাজনীতি বাঙালি সমাজকে যেভাবে ভেঙে দিচ্ছে সেটা সবচেয়ে বড় বিপদ। এর কারণ বহুবিধ। বিগত বেশ কিছু বছর যাবত সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বাঙালির দাগকাটার মতো কোনও অবস্থান নেই। সোমনাথ চট্টেপাধ্যায়ের লোকসভার স্পিকার পদ থেকে বিদায় নেওয়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পাকাপাকিভাবে দিল্লি ত্যাগ এবং প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পর দিল্লিতে সর্বভারতীয় রাজনীতির অঙ্গনে বাঙালির জন্য এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আমাদের শিল্পকলা, আমাদের সাহিত্য, আমাদের চলচ্চিত্র, আমাদের খেলোধূলো—গোটা দেশ চেনে এমন চরিত্র এখন বিরল। এটা গোটা  বাঙালির সংকট।

এই সংকট মুসলিম সমাজে আরও প্রকট। বছর তিরিশ-পঁয়ত্রিশ আগে মুর্শিদাবাদের বিড়ি কারখানার এক মালিক সরকারি বদান্যতায় অনেক দূর এগিয়েছিলেন। তাঁকে নিয়েও বহুকাল আলোচনা শুনিনা। রাজনীতির অঙ্গনে শেষ বাঙালি মুসলিম মুখ বরকত গনিখান চৌধুরী। তিনি মুসলিম লিগের নেতা ছিলেন না। মুসলিমদের স্বার্থরক্ষাই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না। জাতীয় কংগ্রেসের মতো দলের সর্বভারতীয় মুখ হয়েছিলেন। তাঁর প্রয়ানের পর আর কেউ সেই জায়গা তৈরি করতে পারেননি। এর দায়ও সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলির।  বামফ্রন্টের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়েও মুসলিম সমাজ সুরক্ষিত। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক প্রগতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদার জায়গাটি তৈরি হয়নি। তারফলে ধুরছাই করা আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, বাঙালি মুসলিম মানেই ভিখারি, উৎপাত, অনুপ্রবেশকারী। এই প্রচার বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সহজ হচ্ছে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপন্নতা, মর্যাদাহীনতার কারণে। সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এই সমস্যায় বিপন্ন। বাঙালির দিকে আঙুল তোলা, হেলাফেলা করা সহজ হয়ে গিয়েছে কারণ আমরা আমাদের বিশিষ্টতা, মর্যাদার জায়গাগুলি হারিয়ে ফেলেছি।

প্রশাসনও এর বাইরে নয়। দুর্নীতি, অপশাসনের প্রশ্নে বরাবর পিছনের সারিতে থাকা বাংলা এখন বাকি দেশকে টেক্কা দিচ্ছে। একটা সময় এভাবেই বদলে গিয়েছিল বিহার। পড়শি রাজ্যটি গোটা দেশে চরম দারিদ্র্যের জন্য আলোচিত ছিল। গত শতকের নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় লালুপ্রসাদের সরকারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মতো প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নীচুতলা পর্যন্ত সর্বগ্রাসী দুর্নীতির জাল সামনে আসার পর বিহার এবং চুরি-দুর্নীতি সমার্থক হয়ে ওঠে। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, দিল্লিতে গরিব বিহারীদের চোর অপবাদ দেওয়া শুরু হয়। বাঙালির চলতি বিপন্নতা তাই নিছকই বিদ্বেষের রাজনীতি নয়, অর্থনৈতিক অসাম্য নয়, সমস্যা আরও গভীরে, গরিমা, মর্যাদা হারিয়ে এ জাতি পরিচিতি খোয়ানোর মুখে। ভিন রাজ্যে তাদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দেওয়া সেই কারণেও সহজ হয়ে যাচ্ছে।


```