সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই পরামর্শ দেওয়ার (Zoho CEO Sridhar Vembu marriage advice) পরই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল তর্কবিতর্ক।

জোহো সিইও শ্রীধর ভেম্বু
শেষ আপডেট: 19 November 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্ক আর শ্রীধর ভেম্বু (Zoho CEO Sridhar Vembu) যেন প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিয়ে ও সন্তান নিয়ে আবারও এক বিতর্কিত মন্তব্য (Sridhar Vembu marriage advice controversy) করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন জোহো সিইও (Zoho CEO)।
তাঁর মতে, 'কুড়ির কোঠাতেই বিয়ে সেরে বাবা-মা হওয়া উচিত। এটা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সমাজ ও পূর্বপুরুষদের প্রতি এক ধরনের ‘জনসংখ্যা সংক্রান্ত এক কর্তব্য (demographic duty)’। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই পরামর্শ দেওয়ার (marriage debate India) পরই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল তর্কবিতর্ক।
এক্স-এ ভেম্বু লেখেন, 'আমি তরুণ উদ্যোক্তাদের, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে, পরামর্শ দিই, বিয়ে আর সন্তান নেওয়াকে বারবার পিছিয়ে দিও না। কুড়ির কোঠাতেই সেটা করে ফেলা ভাল।' বলাই বাহুল্য, তা নিয়েই জোরদার সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, 'সমাজ আর নিজেদের পূর্বপুরুষের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। আজ এটা পুরনো বা অদ্ভুত মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে এই ভাবনাই আবার গুরুত্ব পাবে, আমি নিশ্চিত।'
উপাসনা কোনিডেলার মন্তব্য থেকেই শুরু বিতর্ক
ভেম্বু এই মন্তব্য করেন উদ্যোক্তা ও অ্যাপোলো হাসপাতালের সিএসআর-এর ভাইস চেয়ারপার্সন উপাসনা কোনিডেলার একটি পোস্টের উত্তরে। উপাসনা অভিনেতা রামচরণ-এর স্ত্রীও।
কী বলেছিলেন উপাসনা? তিনি জানান, আইআইটি হায়দরাবাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিয়েতে আগ্রহের ক্ষেত্রে বদলে গেছে গতিপথ। তাঁর কথায়, “আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম ‘তোমরা কতজন বিয়ে করতে চাও?’, মেয়েদের চেয়ে বেশি হাত তুলল ছেলেরা!”
উপাসনার পর্যবেক্ষণ, মেয়েদের মধ্যে এখন কেরিয়ার নিয়ে ভাবনা অনেক বেশি। তিনি লেখেন, “এটাই নতুন, প্রগতিশীল ভারত। নিজের লক্ষ্য ঠিক করো, নির্ধারণ করো, নিজের ভূমিকা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করো। দেখবে, তুমি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।”
অর্থনীতি বনাম সংস্কৃতি - তরুণদের পাল্টা যুক্তি
ভেম্বুর পোস্ট মুহূর্তেই নেটিজেনদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি করে। একাংশ সরাসরি বলেন, সমস্যা ‘ডেমোগ্রাফিক’ নয়, বরং ‘ইকোনমিক’। একজন লেখেন, “আগে বিয়ে না করার বা পরিবার শুরু না করার প্রধান কারণ সাংস্কৃতিক নয়, অর্থনৈতিক। অনিশ্চিত চাকরি, দীর্ঘ অফিস আওয়ারস, ভাড়া আর খরচের চাপ - এগুলোই বড় বাধা। এটা জনসংখ্যাগত সংকট নয়, অর্থনৈতিক সংকট। এগুলো বদলালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আরও হাত উঠবে।”
ভেম্বুর জবাব, “কিন্তু অনেকে আছেন যাঁরা আর্থিকভাবে সক্ষম হয়েও বিয়ে করছেন না, সন্তানও নিচ্ছেন না। এটা সাংস্কৃতিক।”
‘কেরিয়ার ঝুঁকিতে পড়বে’, তরুণীদের সুর
আরও একজন তরুণী পাল্টা জানান, কুড়ির কোঠাতেই সন্তান নিলে তাঁর কেরিয়ার কার্যত থমকে যেতে পারে, বিশেষত যেসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা তীব্র। তাঁর কথায়, “হ্যাঁ, আমি সন্তান চাই। কিন্তু সেটাই আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।”
ভেম্বুর ব্যাখ্যা, “জীবন কোনও দৌড় নয়। যে কোনও বয়সেই সাফল্যের সুযোগ আছে। ৩০ বছর অনেকের কাছে নতুন শুরু। আমিও এই উপদেশ মায়ের কাছেই পেয়েছিলাম। যদি 'দৌড়' হিসেবেই জীবনকে দেখি। আমার থেকে ২০ বছরের ছোট মার্ক জুকারবার্গের তুলনায় তো আমাকে ব্যর্থই মনে হতো! কিন্তু এমনটা তো ভাবি না। আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই কৃতজ্ঞ।”
‘তাড়াহুড়ো করলে ভেঙে পড়বে ক্যারিয়ার’ - আরও পাল্টা মত
আরও অনেকে বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদের কম বয়সেই পরিবার শুরু করতে চাপ দিলে উল্টে তাঁদের কেরিয়ারই থমকে যেতে পারে। কয়েকজন উদাহরণ দেন, অল্প বয়সে পরিবার গড়ার পর বহু মানুষ শেষ পর্যন্ত “ডিভোর্সড, আর্থিকভাবে চাপে, আর একই বয়সি সহকর্মীদের থেকে অনেক পিছনে পড়ে যান”।
ভেম্বুর উত্তর, “২৮ বছরেই যদি কোথাও ব্যর্থ হও, তাতেও হাতে প্রচুর সময় আছে। ল্যারি এলিসন ৩১ বছর বয়সে তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন। বয়স বাড়লে উদ্যোক্তাদের সাফল্যের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।”
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গও উঠে এল
শ্রীধর ভেম্বুর বয়স বর্তমানে ৫৭। তিনি নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রমিলা শ্রীনিবাসনকে বিয়ে করেন, তাঁদের এক সন্তানও আছে। তাঁরা দীর্ঘদিন আমেরিকায় থাকতেন। ২০২০ সালে প্রমিলা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন।
বিবাহবিচ্ছেদের নথি অনুযায়ী, যা Forbes উদ্ধৃত করেছে, প্রমিলার দাবি, ২০২০ সালের শুরুর দিকে ভেম্বু তামিলনাড়ুর গ্রামের দিকে গিয়ে থাকতে শুরু করার পর তাঁকে এবং ছেলেকে ছেড়ে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানান, তিনি বিয়ে শেষ করতে চান। অভিযোগ, ভেম্বু নীরবে জোহোর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, স্বত্ব ও শেয়ার, ভারতে তাঁর বোন ও আত্মীয়দের নামে স্থানান্তর করেন, যাতে ক্যালিফর্নিয়ার কমিউনিটি-প্রোপার্টি আইনের আওতায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের প্রাপ্য অংশ না দিতে হয়।