Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

পাঁচ দিনে ৫ হাজার কিলোমিটার! তিন আমুর ফ্যালকনের আফ্রিকা যাত্রার গল্পে বিস্মিত বিজ্ঞানমহল

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবিশ্বাস্য যাত্রার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির ‘ফিজিক্স’-এ। মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ ও শক্তিশালী টেলউইন্ড ব্যবহার করে আমুর ফ্যালকনরা কার্যত প্রাকৃতিক গ্লাইডারের মতো উড়ে যায়। বাতাসের ধাক্কাকে সামনের দিকে গতি হিসেবে কাজে লাগিয়ে তারা শক্তি সাশ্রয় করে বহু দূর পাড়ি দেয়।

পাঁচ দিনে ৫ হাজার কিলোমিটার! তিন আমুর ফ্যালকনের আফ্রিকা যাত্রার গল্পে বিস্মিত বিজ্ঞানমহল

ফাইল ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজন। অথচ পাঁচ দিনে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার উড়ে মহাদেশ বদল। তিন-তিনটি আমুর ফ্যালকনের (Amur Falcon) সাম্প্রতিক উড়ান দেখে রীতিমতো চমকে উঠেছেন বিজ্ঞানী ও পক্ষীপ্রেমীরা।

উপগ্রহ ট্র্যাকিংয়ে (Satellite Tracking) ধরা পড়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভারত ছেড়ে এই তিন আমুর ফ্যালকন আফ্রিকার শীতকালীন আবাসের পথে রওনা দেয়। স্থলভাগ পেরিয়ে তারা সরাসরি আরব সাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে দীর্ঘ, টানা উড়ান দেয় - কোথাও থামার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবিশ্বাস্য যাত্রার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির ‘ফিজিক্স’-এ (Natural Physics)। মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ ও শক্তিশালী টেলউইন্ড ব্যবহার করে আমুর ফ্যালকনরা (Amur Falcon) কার্যত প্রাকৃতিক গ্লাইডারের মতো উড়ে যায়। বাতাসের ধাক্কাকে সামনের দিকে গতি হিসেবে কাজে লাগিয়ে তারা শক্তি সাশ্রয় করে বহু দূর পাড়ি দেয়।

উপগ্রহ তথ্য বলছে, ভারত থেকে পূর্ব আফ্রিকা (India to East Africa) পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কিলোমিটার পথ এক সপ্তাহেরও কম সময়ে অতিক্রম করতে পারে এই ছোট র‌্যাপ্টর প্রজাতি। এর বড় অংশই সমুদ্রের উপর দিয়ে, যেখানে নামার কোনও সুযোগ নেই - কারণ আমুর ফ্যালকন জলে অবতরণ করতে পারে না।

এই প্রজাতিরা শীতকালে আফ্রিকায় থাকে। তারপর বসন্তের শুরুতে ফের উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করে। মে-জুন নাগাদ তারা পৌঁছয় উত্তর-পূর্ব এশিয়ার প্রজনন এলাকায় - চিন ও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। বছরে বছরে এই দীর্ঘ যাতায়াতের মাধ্যমে এশিয়া ও আফ্রিকার বাস্তুতন্ত্রকে কার্যত যুক্ত করে রাখে তারা।

বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, এত দীর্ঘ উড়ানে টিকে থাকার জন্য আমুর ফ্যালকনদের শরীরে বিশেষ শারীরবৃত্তীয় কৌশল কাজ করে। অন্য প্রজাতির পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উড়ন্ত অবস্থায় মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ বিশ্রাম নেয় - যাকে বলা হয় ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লিপ। আমুর ফ্যালকনের ক্ষেত্রেও এমন কিছু হয় কি না, তা এখনও গবেষণার বিষয়।

এর আগে আরও তিন ফ্যালকনের গল্প তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। তিনটি বিশেষ ট্যাগ লাগানো আমুর ফ্যালকন ৬ দিনে ছ'হাজার কিমি উড়ে ভারত থেকে কেনিয়ায় পৌঁছে যায়। কমলা ট্যাগ লাগানো আপাপাং (Apapang) কোনও বিরতি না নিয়ে টানা ছ’দিন আট ঘণ্টায় ওড়ে প্রায় ৬,১০০ কিলোমিটার। হলুদ ট্যাগ লাগানো অ্যালাং (Alang) ছ’দিন ১৪ ঘণ্টায় পেরোয় প্রায় ৫,৬০০ কিলোমিটার। আর লাল ট্যাগধারী আহু (Ahu) পাঁচ দিন ১৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫,১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছিল।


```