প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে পূর্ব আফ্রিকার পথে আমুর ফ্যালকনের এই উড়ান বিস্মিত করে সকলকেই। ভারত থেকে পূর্ব আফ্রিকা - সমুদ্র, শুষ্কভূমি, নির্জন আকাশ, সব পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়ার এই গল্প কেবল গতি নয়, এক বিস্ময়কর জীবনীশক্তির দলিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরের জঙ্গল (Manipur Forest) থেকে উড়ে যাওয়া তিন আমুর ফ্যালকনের (Amur Falcon) অভূতপূর্ব পরিযান আবারও তাক লাগিয়ে দিল বিজ্ঞানী ও পাখিপ্রেমীদের। মাত্র ১৫০ গ্রাম ওজনের ছোট এই শিকারি পাখিরা কয়েক দিনের মধ্যেই মহাদেশ পেরিয়ে পৌঁছে গেল আফ্রিকার (Africa) কেনিয়ায় (Kenya)। স্যাটেলাইট-ট্যাগ লাগানো এই পরিযায়ী ত্রয়ীর নিরন্তর উড়ানের তথ্য এখন গবেষকদের আলোচনার কেন্দ্রে।
তিন পাখির মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়ছে কমলা ট্যাগ লাগানো আপাপাং (Apapang)। উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশ ছাড়ার পর কোনও বিরতি না নিয়ে টানা ছ’দিন আট ঘণ্টায় সে উড়েছে প্রায় ৬,১০০ কিলোমিটার। পথচলার পরিধি - পূর্ব ভারত থেকে উপদ্বীপের উপর দিয়ে আরব সাগর (Arabian Sea) পেরিয়ে আফ্রিকার ‘হর্ন অব আফ্রিকা’—শেষে কেনিয়া। ছোট আকারের কোনও র্যাপটরের ক্ষেত্রে এমন দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন উড়ান বিরল বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।
হলুদ ট্যাগ লাগানো অ্যালাং (Alang), দলটির কনিষ্ঠ সদস্য, প্রথম পরিযানেই দেখাল আশ্চর্য সহনশীলতা। ছ’দিন ১৪ ঘণ্টায় সে পেরিয়েছে প্রায় ৫,৬০০ কিলোমিটার। তেলঙ্গানায় (Telengana) এক রাতের বিরতি আর মহারাষ্ট্রে তিন ঘণ্টার ছোট্ট বিশ্রাম ছাড়া পথে আর কোথাও থামেনি। ওই সামান্য বিরতির পর আবার সে উঠে পড়েছিল মহাসাগর পেরোনোর পথে। শেষ পর্যন্ত অ্যালাংও পৌঁছে গেছে কেনিয়ায়।
লাল ট্যাগধারী আহু (Ahu) বেছে নিয়েছিল কিছুটা উত্তরমুখী পথ। বাংলাদেশের (Bangladesh) পশ্চিমাংশে একটা ছোট্ট বিরতি নিয়ে সে উড়েছে আরব সাগরের দিকে। পাঁচ দিন ১৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫,১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে বর্তমানে আহু অবস্থান করছে সোমালিয়ার (Somalia) উত্তরের কাছাকাছি উপকূলে। গবেষকদের অনুমান, আর কিছুদিনের মধ্যেই সে হয়তো সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কেনিয়ার সাভো ন্যাশনাল পার্কের পথে রওনা দেবে।
আমুর ফ্যালকন (Falco amurensis) মূলত দক্ষিণ–পূর্ব সাইবেরিয়া ও উত্তর চিনের প্রজাতি। প্রতি বছর তারা দলে দলে আসে ভারতের উত্তর–পূর্বের মণিপুর ও নাগাল্যান্ডে। সেখান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে তারা উড়ে যায় মধ্য ভারতের উপর দিয়ে আফ্রিকার দিকে। সমুদ্র, মরু, উঁচু নিম্নচাপ—সবকিছু অতিক্রম করে এই যাত্রা কেবল পরিযান নয়, এক বিস্ময়কর জীবনীশক্তির পরিচয়।
ভারত থেকে পূর্ব আফ্রিকা পর্যন্ত এই বার্ষিক উড়ান বিজ্ঞানী ও পাখিপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময় হিসেবেই রয়ে গেছে। পরিযায়ী রুট রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে এমন অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য বিপন্ন হতে পারে—এ নিয়ে সতর্ক করছেন সংরক্ষণবিদেরা।