কলকাতা বা তার আশপাশে শ্যাওড়া গাছ পাওয়া যায় না খুব একটা। গ্রাম বাংলা থেকেও ধীরে ধীরে লুপ্ত হচ্ছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 October 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'পেত্নি' বললেই সঙ্গে লেজুড় হিসেবে উঠে আসে শ্যাওড়া গাছ। এই গাছের সঙ্গে পেত্নির সম্পর্ক বহুযুগের। 'শ্যাওড়া গাছের পেত্নি' প্রবাদ ন্যায়ে বাঙালিদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায় যখন তখন। বাংলা সাহিত্যেও প্রচলন কম নয়। এই শ্যাওড়া গাছের কি আদৌ কোনও অস্তিত্ব আছে? শ্যাওড়া গাছে কি পেত্নি থাকে, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায় কম-বেশি অনেকের মনেই। কালীপুজোর দুপুরে শ্যাওড়া গাছের গল্প নিয়ে হাজির দ্য ওয়াল। এই গাছ ভয় দেখানোর নামান্তরে ব্যবহার হলেও গুণ বিরাট।
কলকাতা বা তার আশপাশে শ্যাওড়া গাছ পাওয়া যায় না খুব একটা। গ্রাম বাংলা থেকেও ধীরে ধীরে লুপ্ত হচ্ছে। জেন জি বা মিলেনিয়াল সেভাবে শ্যাওড়া গাছ দেখেনি বা পেত্নি ব্যতীত শোনেওনি। এপার বাংলার চিত্রটা এমন হলেও ওপার বাংলায় এমন মোটেও নয়। ওপার বাংলায় শ্যাওড়া গাছকে অনেকেই শড়া গাছ বলে চেনেন। সেখানেও একইভাবে পেত্নির কথা লোকমুখে ঘুরে বেড়ায়।
কেন শ্যাওড়া গাছের পেত্নি বলা হয়?
শ্যাওড়া গাছের পাতা ঘন সবুজ, যে কালই হোক খুব একটা পাতা ঝরে না এবং অন্য কোনও রং-ও হয় না। কচি পাতা হোক বা পুরনো, ঘন কালচে সবুজ হয় পুরো। এমন সবুজ গাছ দূর থেকে দেখতে অদ্ভুত লাগে। ভাল করে গাছটি দেখলে বোঝা যাবে, পাতাগুলো ঠাসা মানে একটা পাতা থেকে আরেকটা পাতার গ্যাপ খুব কম। ফলে এই গাছের পাতা ভেদ করে সূর্যের আলো খুব একটা ঢোকে না, নীচের দিকে পৌঁছতেও পারে না। নীচের অংশটা একদম অন্ধকার দেখায়, একেবারে জমাটবাঁধা অন্ধকার।
অনেকের মতে, এই ঘন অন্ধকার দেখেই গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি হয়। আবার এই অন্ধকার জোনাকি পোকাদের আকর্ষণ করে, ওরা পৌঁছয়। অন্ধকারে জ্বল জ্বল করতে থাকে ফলে দেখে মনে হয় ভূতের চোখ জ্বলছে। রাতে আরও বেশি এমন মনে হয়। তাই বহু কাল ধরে হয়ে আসছে, দাদু-ঠাকুমারা
ভূতের ভয় দেখানোর সময় এই শ্যাওড়া গাছের উদাহরণ দিয়ে আসছেন।
মনে করা হয়, বাংলা সাহিত্য, সিনেমা টিভি-তেও শ্যাওড়া গাছের নাম পেত্নি বললে উঠে আসে এখান থেকেই।
এই গাছের সঙ্গে এত মিথ জড়িত যে এর গুণগুলোই অজানা থেকে যায়। শ্যাওড়া বা শড়া গাছ বলে ডাকা হয় সাধারণভাবে কিন্তু এর আরও নাম আছে। 'টুথ ব্রাশ ট্রি' বলে অনেকে কারণ আগেকার দিনে এই গাছের ডাল দাঁতন হিসেবে ব্যবহার করা হত। অনেকে এতে 'স্যান্ড পেপার ট্রি' নামেও ডাকে। যা দিয়ে ওই লোহা বা কোনও কিছু মূলত ঘষা হয়। শিরীষ কাগজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হত।
আর কী কী গুণ আছে?
অর্শ রোগ সারে: শ্যাওড়া গাছের ছালের রস ৩০ ফোঁটা মাত্রায় আধা কাপ দুধের সঙ্গে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে প্রথমে অর্শের রক্তপড়া বেড়ে যাবে, তারপর ঐ রসে প্যাক করা ঘি, এক চা চামচ করে দুধের সঙ্গে খেলে ওটা সেরে যাবে। তবে প্রথমে একটু না বৃদ্ধি হলে অর্শের বলি চুপসে যাবে না, তাই প্রথমে রস করে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দ্রব্যশক্তিতে একটু বাড়িয়ে নেওয়া।
কোষ্ঠকাঠিন্য: শ্যাওড়া পাতা অথবা মূলের ছালের রস দিয়ে ঘি পাক করতে হবে, ওই ঘি প্রতিদিন সকালে আধা বা এক চা চামচ করে একটু গরম দুধের সঙ্গে কিছুদিন খেয়ে খেলে সমস্যা মিটতে পারে।
হাঁপানি ও কাশি: সারে না, উপশম হয়। আধা চা চামচ ঘিয়ের সঙ্গে ২ থেকে ৪ ফোঁটা শ্যাওড়া ছালের রস মিশিয়ে খেতে হবে; এটাতে কিছুক্ষণ ভাল থাকবে; তবে আর একটু বেশি সময় ভাল থাকতে হলে চিরতার গুঁড়ো সিকি বা আধ গ্রাম এর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেলে ভাল হবে।
হাত পা ফাটায়: শ্যাওড়া গাছের আঠা বা ক্ষীরা হলে ভাল হয়,নইলে ছালের রস লাগাতে হয়।
এই গাছের পাতা বেটে যে রস হয় তা আঠা আঠা, তা দিয়ে কালি ভাল হয়। গাছের পাতা বেটে রস বের করে আর হাঁড়িতে জমা কালি মিশিয়ে লেখার কালি তৈরি করা হত।
তবে মনে রাখা দরকার, ছাগলেও এই গাছের পাতা খুব ভালবাসে খেতে। কিন্তু মা ছাগলরা এই পাতা খেলে বুকের দুধ কমে যায়, তাই যাদের ছাগল আছে, তারা সাবধানে। মালিকেরা বিশেষ করে।