সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল চ্যালেঞ্জ 'ইট ব়্যামেন'-এ গা ভাসিয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওগুলির ভিউ লাখে লাখে। কিশোর-কিশোরীরা মজা করার জন্য শুকনো নুডলস ভেঙে মশলা ছড়িয়ে কাঁচা খাওয়ার ভিডিও আপলোড করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভাবে খাওয়াটা একেবারেই নিরাপদ নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 August 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন প্যাকেট কাঁচা ব়্যামেন অর্থাৎ নুডলস একসঙ্গে খেয়ে ফেলায় মৃত্যু হল এক কিশোরের। মিশরের কায়রোর ঘটনা।
এক ১৩ বছরের ছেলেকে প্রাণ দিতে হল শুধু মাত্র তিন প্যাকেট কাঁচা ইনস্ট্যান্ট নুডলস খাওয়ার জন্য। চিকিৎসকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড মেনে এমন ঝুঁকি নিলে অল্পবয়সিদের এমন বিপদ আরও হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ অগস্ট কায়রোর এল-মার্গ জেলায়। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া একটি চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে গিয়ে একসঙ্গে তিন প্যাকেট ইনস্ট্যান্ট ব়্যামেন ভেঙে কাঁচাই খেয়ে ফেলে। কিন্তু মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে হয় ভয়াবহ অবস্থা। পেট মোচড়ানো ব্যথা, বমি, ঘাম আর অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শেষমেশ প্রাণ যায় তার।
প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল, হয়তো নুডলসে বিষাক্ত কিছু ছিল বা সংরক্ষণের সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা প্যাকেট পরীক্ষা করে দেখে, তাতে কোনও সমস্যা নেই। অটপসির রিপোর্টে ধরা পড়ে আসল কারণ, অত্যধিক কাঁচা নুডলস খাওয়ার জেরে অন্ত্রে হঠাৎ জটিলতা দেখা দেয়, সম্ভবত মারাত্মক ব্লকেজ তৈরি হয়েছিল।
চিকিৎসকদের মতে, ইনস্ট্যান্ট নুডলস তৈরি করা হয় রান্না করে খাওয়ার জন্য। কাঁচা খেলে বিশেষ করে একসঙ্গে বেশি খেলে তা অন্ত্রে ফুলে গিয়ে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই সঙ্গে মশলার স্যাশেগুলির তেল ও গুঁড়ো মশলা হজমের পথে বাড়তি জ্বালা তৈরি করে। ফলে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল চ্যালেঞ্জ 'ইট ব়্যামেন'-এ গা ভাসিয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওগুলির ভিউ লাখে লাখে। কিশোর-কিশোরীরা মজা করার জন্য শুকনো নুডলস ভেঙে মশলা ছড়িয়ে কাঁচা খাওয়ার ভিডিও আপলোড করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভাবে খাওয়াটা একেবারেই নিরাপদ নয়। এর আগে টিকটকের ‘ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ’, ‘টাইড পড চ্যালেঞ্জ’ বা ‘বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জ’-এর মতো ট্রেন্ডে প্রাণ গেছে অনেকেরই।
চিকিৎসকদের বার্তা পরিষ্কার, ইনস্ট্যান্ট নুডলস সব সময় নির্দেশ মেনে রান্না করে খেতে হবে। কাঁচা খাওয়া যাবে না, বিশেষ করে একসঙ্গে এত বেশি। আর কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার ‘চ্যালেঞ্জ’ যে সব সময় মজার হয় না, তা ফের প্রমাণ হল। জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটতে গিয়ে যেন প্রাণ না যায়, সেই সতর্কবার্তাই দিয়ে গেল কায়রোর এই মর্মান্তিক ঘটনা।