আজ থেকে ঠিক ছয় বছর আগে অজানা নিউমোনিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল উহান। সেই বার্তাই পরবর্তীতে ভয়াবহ কোভিড-১৯ মহামারির সূচনা করে।

কোভিড ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 December 2025 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ’বছর আগে, বছরের একেবারে শেষ দিনে, কেউই টের পায়নি কী হতে চলেছে আগামীতে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চিনের উহান (Wuhan) জারি করেছিল ছোট্ট একটি স্বাস্থ্য সতর্কতা (Health Alert)। অজানা নিউমোনিয়ায় (Pneumonia) আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর খবর দিয়েছিল উহান মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশন (Wuhan Municipal Health Commission)। তখন সেই বার্তা সেভাবে কারও নজরে আসেনি। অথচ সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক এমন অধ্যায়, যা গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
উহানের ওই সতর্কবার্তা ছিল অ্যালার্মিং। বলা হয়েছিল, শহরের কয়েকজন রোগীর মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যার উৎস স্পষ্ট নয়। প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই রোগের সূত্র মিলল উহানের এক সি-ফুড বাজারে (Seafood Market)। আর তার পরই ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর ছাপিয়ে দেশ ও মহাদেশে। বিশ্ব চিনতে শুরু করল এক নতুন নাম, কোভিড-১৯ (COVID-19)।
২০২০ সালের মার্চ মাসে (March 2020) পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে একের পর এক দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। আক্রান্তের সংখ্যা চিন-সহ অন্যান্য দেশেও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আতঙ্ক বাড়ে। লকডাউনের পথে হাঁটে ভারত। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, কোটি কোটি মানুষ ঘরবন্দি হন। বিমান চলাচল বন্ধ হয়, কারখানায় তালা পড়ে, চারিদিকে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। মানুষ মুখোমুখি হয় এমন এক অদৃশ্য শত্রুর, যার সম্পর্কে তখনও তেমন কিছু জানা যায়নি।
কোভিড, শুরু হয়েছিল কয়েকটি নিউমোনিয়ার কেস হিসেবে, পরে দ্রুত রূপ নেয় বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে (Global Health Emergency)। সরকারি হিসেব বলছে, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় এতে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (Healthcare System), অর্থনীতি (Economy) পৌঁছে যায় মহামন্দার (Great Depression) পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।
ভারতের লড়াই
১৪০ কোটির দেশে লড়াইটা অসম ছিল কিন্তু হেরে যাইনি আমরা। সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২০ সালের মার্চে দেশজুড়ে কড়া লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অন্য সব দেশের মতোই ভারতও প্রস্তুত ছিল না ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের (Delta Variant) তাণ্ডবের জন্য। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ যায়, হিমশিম খায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা। কোথাও বেড নেই, তো কোথাও অক্সিজেন। চরম অব্যবস্থা চারিদিকে।
তবে এই অন্ধকারের মধ্যেই তৈরি হয় আশার আলো। অভূতপূর্ব গতিতে বিজ্ঞান এগোয়। এক বছরের মধ্যে তৈরি হয় এমআরএনএ ভ্যাকসিন (mRNA Vaccine)। ভারতে (India) ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) তৈরি করে কোভ্যাক্সিন (Covaxin), সিরাম ইনস্টিটিউট (Serum Institute of India) উৎপাদন করে কোভিশিল্ড (Covishield)। শুরু হয় বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযান (Vaccination Drive)। কোউইন (CoWIN) প্ল্যাটফর্ম, অক্সিজেন উৎপাদন বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ভারত শুধু নিজের লড়াই নয়, বহু দেশকে ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
আজ, ছ’বছর পরে দাঁড়িয়ে, সেই একটিমাত্র সতর্কবার্তার দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয় শিক্ষা-স্বচ্ছতা (Transparency), দ্রুত প্রতিক্রিয়া (Rapid Response) আর বৈশ্বিক সহযোগিতা (Global Collaboration) কতটা জরুরি যেকোনও ক্ষেত্রে। কোভিড মহামারি আমাদের দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দেখিয়েছে মানবতার সহনশীলতা, সহমর্মিতা আর উদ্ভাবনের শক্তি।