তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জমজমাট পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা দিন-রাত ব্যস্ত থাকছেন প্রতিমা গড়ার তদারকি থেকে শুরু করে পুজোর যাবতীয় আয়োজন সামলাতে।
.jpg.webp)
সরিষার বসুবাড়ির দুর্গা পুজো
শেষ আপডেট: 6 September 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরতের হাওয়ায় ইতিমধ্যেই পুজোর আমেজ ভেসে বেড়াচ্ছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় উঁকি দিলেই বোঝা যাচ্ছে, আর ক’দিন পরেই মহালয়া। সেই অপেক্ষা যত এগিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে পাড়া-মহল্লা থেকে বনেদি বাড়িগুলি (Bonedi Bari Puja)। একে একে শেষ হচ্ছে থিম বাছাইয়ের কাজ, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শিল্পীরা দিচ্ছেন মনের ভাবনার রূপ। এই প্রস্তুতির ভিড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষার প্রাচীন বসুবাড়িও (Sarisha Basu Bari Durga Puja) পিছিয়ে নেই।
তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জমজমাট পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা দিন-রাত ব্যস্ত থাকছেন প্রতিমা গড়ার তদারকি থেকে শুরু করে পুজোর যাবতীয় আয়োজন সামলাতে। উমা যে বছরে একবার বাপের বাড়ি আসেন, সেই আগমনীকে সাদর সম্ভাষণ জানাতে বসুবাড়ির (Sarisha Basu Bari Durga Puja) আঙিনায় শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের আবহ। এই পুজো আজও বংশপরম্পরায় টিকে আছে, তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু কিংবদন্তি ও প্রাচীন রীতি।
প্রায় ১১২২ সালের দিকে বল্লাল সেনের কাছ থেকে কৌলিন্যের মর্যাদা পায় বসু পরিবার। পরে বংশধর শ্রীরাম বসু মুর্শিদাবাদের নবাবের চাকরি করতে গিয়ে আসেন অবিভক্ত ২৪ পরগনার সরিষায়। স্থানীয় জমিদার জয়চন্দ্র মিত্র শ্রীরামের কর্মদক্ষতা দেখে তাঁকে জামাই করেন এবং যৌতুক হিসেবে জমি দেন। সেই থেকেই সরিষায় পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু বসুবাড়ির।
তখন দুর্গাপুজোর প্রচলন ছিল না বসুবাড়িতে। প্রতি বছর শ্রীরামের স্ত্রী রম্ভাবতী, বাবার বাড়ি গিয়ে পুজো করতেন। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, বসুবাড়িতেও শুরু হবে দুর্গাপুজো, যাতে উমার আরাধনায় শ্বশুরবাড়িই হয় তাঁর ঠিকানা। সেই সূত্রে শুরু হয় পুজোর প্রথা, যা এ বছর ৩১২ বছরে পা দিল।
প্রথমে পুজোয় পশুবলি দেওয়া হলেও একবার দুর্ঘটনা ঘটলে শতদলবাসিনী বসু নিজ রক্ত দিয়ে পূজা সম্পূর্ণ করেন। সেই থেকেই রক্তবলি বন্ধ হয়, এবং আজও সেই প্রথা মেনে চলে পরিবার। পুজোর অন্যতম বিশেষ দিক হল দেবীর বোধন, যা একটি প্রাচীন পারিবারিক পুঁথি থেকে মন্ত্রপাঠ করে প্রতিপদে সম্পন্ন হয়। এই পুঁথি যে কেউ স্পর্শ করতে পারেন না, পরিবারের প্রবীণ সদস্যই তা এনে দেন পুরোহিতের হাতে।
আজকের দিনে আগের মতো আড়ম্বর না থাকলেও, চারদিনের উৎসব বসুবাড়িতে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, অঞ্জলি, সন্ধ্যারতি, সিঁদুরখেলা ও বিসর্জনে অংশ নেন। প্রতিমা বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখে শেষ হয় উৎসব, তবে সঙ্গে থেকেই যায় আগামী বছরের অপেক্ষা।