আজকের জেন জি প্রজন্ম কেন বেস্টফ্রেন্ডকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছে? জানুন সমীক্ষার চমকপ্রদ তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামত।

'প্যায়ার দোস্তি হ্যায়'
শেষ আপডেট: 25 August 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের বিখ্যাত সংলাপ, 'প্যায়ার দোস্তি হ্যায়' একসময় যা শুধু সিনেমার সংলাপ ছিল, এখন তা বাস্তব জীবনেও সত্যি বলে মনে হচ্ছে। আধুনিক ডেটিংয়ের যুগে যখন 'ঘোস্টিং', 'ব্রেডক্রাম্বিং' বা 'সিচুয়েশনশিপ'-এর মতো সম্পর্কগুলোর বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে, তখন এক নতুন প্রবণতা এসেছে, যেখানে 'বেস্টফ্রেন্ড'-কেই জীবনসঙ্গী হিসেবে চাইছে আজকালকার প্রজন্ম।
ডেটিং অ্যাপ হ্যাপিএন-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে ৪৩% মানুষ বিশ্বাস করেন যে, সেরা সম্পর্কগুলো বন্ধুত্ব থেকেই শুরু হয়। ৩৯% অবিবাহিত ব্যক্তি মনে করেন, যে বন্ধুত্ব ভালবাসায় রূপান্তরিত হয়, তা সাধারণত বেশি টেকসই হয়।
'বন্ধুত্ব' থেকেই প্রেম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের এই ধারণাটি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। তবে 'দ্য ফ্রেন্ডস-টু-লাভার্স পাথওয়ে টু রোমান্স' নামক একটি গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ মানুষই বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক পছন্দ করেন এবং এটি বেশ প্রচলিতও। সিনেমার পর্দায় রাহুল-অঞ্জলি, মনিকা-চ্যান্ডলার বা লিলি-মার্শালের মতো চরিত্রগুলো আসলে বিজ্ঞান যা বলেছে, তা অনেক আগেই দেখিয়েছিল।
ইন্ডিয়া টুডে-কে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সুবর্ণা ভার্দে বলেন, "ভালবাসার ভিত্তি হল বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক মূল্যবোধ। এমনকি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের ক্ষেত্রেও প্রথমে ভাল বন্ধু হওয়া জরুরি।"
কেন বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক বেশি টেকসই?
সমীক্ষায় জানা যায়, ৩৫ বছরের বেশি বয়সের ৪৮% মানুষ বিশ্বাস করেন যে, মানসিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া একটি সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। সুবর্ণা ভার্দে মনে করেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো মানসিক নিরাপত্তা, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও, ভাল বন্ধুত্বের ভিত্তি হল বিশ্বাস, মানসিক শান্তি এবং সম্মান। এই কারণে বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা কম হয়। ৫২% মানুষ মনে করেন, বন্ধু একে অপরের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে। সবচেয়ে বেশি চেনে।
২৮% মনে করেন, এতে চাপ কম থাকে এবং সম্পর্ক আরও বেশি সৎ হয়। ১৯% মানুষ বলেন, এই ধরনের সম্পর্কে তারা নিজেদেরকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তবে এর কিছু খারাপ দিকও আছে। যেহেতু এই সম্পর্কগুলো আরামদায়ক এবং স্বস্তিদায়ক মনে হয়, তাই অনেক সময় এতে রোমান্স কমে যায়। সুবর্ণা ভার্দে বলেন, "আমরা যদি ধরে নিই যে 'আমরা তো বেস্ট ফ্রেন্ড', এবং রোমান্স, ফ্লার্টিং বা আগ্রহের দিকে মনোযোগ না দিই, তাহলে একসময় একজন সঙ্গী নিজেকে অবহেলিত মনে করতে পারে।"
সম্পর্ক ভেঙে গেলে কী বন্ধুত্ব থাকে?
বিশেষজ্ঞের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর বন্ধুত্ব বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। সুবর্ণা ভার্দে বলেন, "নিজেকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন আমি প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধু থাকতে চাই? যদি কেবল কাছে থাকার জন্য বা আশা ধরে রাখার জন্য এই চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা দু'জনের জন্যই অন্যায্য এবং এতে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।"
বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের মধ্যে দেখা যায়, তারা বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চায় এবং বর্তমান সঙ্গীর থেকে এটি মেনে নেওয়ার আশা করে। একজন থেরাপিস্ট হিসেবে সুবর্ণা পরামর্শ দেন যে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানসিক দূরত্ব তৈরি করা এবং নিজেদের সুস্থ করে তোলার জন্য সময় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।