বিজ্ঞান বলছে, ‘৫ সেকেন্ড রুল’ (Five Second Rule) আসলে মিথ। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার মাটিতে পড়ার মুহূর্তেই জীবাণু লেগে যায়। জীবাণুর পরিমাণ নির্ভর করে খাবারের প্রকৃতি ও মাটির ধরনের ওপর।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 25 August 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের পছন্দের খাবার অর্ডার করে অপেক্ষায় রয়েছেন। অবশেষে খাবার এল টেবিলে। কিন্তু সেটা মুখ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই হাত ফসকে পড়ে গেল মাটিতে। যাহ্! এবার কী হবে? হঠাৎ আপনার মনে পড়ল সেই '৫ সেকেন্ড রুল'-এর (From Floor to Fork Five Second Rule) কথা। এক অদ্ভুত আশা ফিরে এল মনে, মন চাইল ঝুঁকি নিতে। কিন্তু এই প্রচলিত কথাটি কতটা নিরাপদ, আদৌ নিজের শরীরের ক্ষতি করছেন না তো? জেনে নিন কী বলছে বিজ্ঞান।
‘৫ সেকেন্ড রুল’ কী?
এটি একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস। যদি খাবার মাটিতে পড়ে যায় এবং পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে তা খাওয়া যেতে পারে। ধারণা করা হয়, এত অল্প সময়ে খাবারে জীবাণু সংক্রমণ হওয়ার সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের (Health Expert) মতে, '৫ সেকেন্ড রুল'-এর সঠিক উৎস জানা নেই, তবে এটি সম্ভবত প্রাচীনকালের খাবার সংরক্ষণ সংক্রান্ত কিছু প্রবাদ থেকে এসেছে। মানুষ হয়তো এখনও এই নিয়ম মানে কারণ এতে খাবার নষ্ট হওয়ার কষ্টটা কিছুটা কমে যায়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা মিশ্র বলেন, মাটিতে পড়া খাবার কখনওই খাওয়া উচিত নয়, যতই অল্প সময়ের মধ্যে তুলে নেওয়া হোক না কেন। কারণ ততক্ষণেই জীবাণু খাবারের সঙ্গে লেগে যেতে পারে।
বিজ্ঞান বলছে, ‘৫ সেকেন্ড রুল’ (Five Second Rule) আসলে মিথ। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার মাটিতে পড়ার মুহূর্তেই জীবাণু লেগে যায়। জীবাণুর পরিমাণ নির্ভর করে খাবারের প্রকৃতি ও মাটির ধরনের ওপর। যেমন, ভেজা বা আঠালো খাবারে জীবাণু দ্রুত লেগে যায়, শুকনো খাবারে তুলনামূলক কম। একইভাবে নোংরা মেঝেতে ঝুঁকি বেশি, পরিষ্কার জায়গায় কিছুটা কম। মেঝেতে কার্পেট থাকলে একরকম, টাইলস হলে আরেকরকম। তবে কোথাওই তা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। মূল কথা, 'খাবার যতক্ষণ মাটিতে পড়ে থাকে, জীবাণু তত বাড়ে। কয়েক সেকেন্ডেই সংক্রমণ শুরু হয়।' ফলে, খাবার তুলে নেওয়ার গতি যতই দ্রুত হোক না কেন, সেটি খাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকেই যায়।
কোন খাবার তুলনামূলক নিরাপদ?
সব খাবারই ঝুঁকিপূর্ণ, তবে শুকনো ও শক্ত খাবার যেমন বিস্কুট, চিপস, ক্যান্ডি তুলনামূলকভাবে কম জীবাণু ধরে।
অন্যদিকে, ভেজা বা নরম খাবার যেমন তরমুজ, মাখন মাখা রুটি, বা মাংস দ্রুত ও বেশি জীবাণু আকর্ষণ করে।
বিশেষ করে কাঁচা ফল, মাংস বা আঠালো খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসকদের একাংশের কথায়, এই ‘৫ সেকেন্ড রুল’ শুধু জীবাণুর ব্যাপার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মন। আমরা খাবার নষ্ট করতে চাই না। তাই ঝুঁকি নিতেও রাজি হয়ে যাই। একজন স্বনামধন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, 'আমাদের সংস্কৃতিতে খাবার নষ্ট করা ভুল বলে মনে করা হয়। শুধু খাদ্যের মূল্য নয়, এর সঙ্গে কৃতজ্ঞতার অনুভূতিও জড়িত। তাই খাবার পড়ে গেলে আমরা ‘৫ সেকেন্ড রুল’-এর অজুহাত দিই। আসলে এটা অবহেলা নয়, বরং খাবারের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।'