এআই-ই যদি নোটস তৈরি করে দেবে, তাহলে টিউশন ফি কীসের! এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে টিউশন ফি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান এক পড়ুয়া।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 May 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথাতেই আছে, ‘চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা।’ অর্থাৎ, চুরি করাটাও একটা স্কিল, শিল্পের মতো, সবাই তা পারে না।
পড়াশোনার সুবিধার্থে যতখুশি চ্যাটজিপিটি (chatgpt) ব্যবহার করো, কিন্তু তার সাহায্য নিয়ে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রোজেক্ট লেখা যাবে না। এটাই নিয়ম। সেই অনুযায়ী প্রফেসর পড়ুয়াদের জানিয়েছিলেন এআই টুলস ব্যবহার করা যাবে না। এদিকে নিজে ক্লাস নোট ও লেকচার তৈরি করেছেন এআই-এর সাহায্য নিয়ে। শুধু তাই নয়, ছাত্রছাত্রীদের কাছে ধরাও পড়ে গেছেন তিনি।
এআই-ই (AI) যদি নোটস তৈরি করে দেবে, তাহলে টিউশন ফি (tuition fee) কীসের! এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে টিউশন ফি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান এক পড়ুয়া।
আমেরিকার (America) বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজনেস বিভাগের এক প্রফেসরকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পড়ুয়ারা জানতে পারেন যে তিনি নোটস ও লেকচার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করছিলেন ChatGPT, Perplexity এবং Gamma-এর মতো এআই টুলস। এদিকে তিনি নিজেই ছাত্রছাত্রীদের এসব টুল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন এক বিজনেস পড়ুয়া এলা স্ট্যাপলটন। ক্লাসে দেওয়া মেটেরিয়ালে বানান ভুল, আজব ছবি (যেখানে আঙুলের সংখ্যা বেশি), এমনকী এক জায়গায় ‘ChatGPT search’ কথাটাও লেখা ছিল। এই ঘটনার পর পড়ুয়ারা প্রশ্ন তুলছেন, প্রফেসররা যদি এআই ব্যবহার করেন, তাহলে ছাত্রছাত্রীরা নয় কেন? অনেকেই বলছেন, এআই যদি ক্লাসে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা দরকার।
প্রফেসর যদিও স্বীকার করেছেন, তিনি ক্লাসে আকর্ষণীয় উপস্থাপনের জন্য এআই ব্যবহার করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি কনটেন্ট ভাল করে দেখে নিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু ভুল চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল।’ তিনি এখন মনে করেন, শিক্ষকরা যদি এআই ব্যবহার করেন, তবে তা ছাত্রদের জানানো উচিত।
টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৬৮ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন ওই পড়ুয়া এলা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তর আলোচনার পরেও কোর্স শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলে ছিল। শেষমেশ তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এখনও পর্যন্ত নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য আসেনি।