নিজের নামে কোনও সম্পত্তি নেই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো নেই-ই, এমনকী কোনও স্থায়ী আর্থিক সম্পদের মালিকানাও তাঁর আছে বলে কেউ বলতে পারবে না।

প্রেমানন্দ মহারাজ
শেষ আপডেট: 8 October 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃন্দাবনের (Vrindavan) সরু গলিতে প্রতিদিন সকালবেলা দাঁড়িয়ে থাকে সার সার বিলাসবহুল গাড়ি (Luxury cars)। ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে পোর্শে কেয়েন, অডি কিউ৩, স্কোডা কডিয়াক, এমনকী টয়োটা ফর্চুনার লেজেন্ডার পর্যন্ত। প্রতিদিনই একেকটি নতুন গাড়ি দেখা যায় এক সাধকের যাত্রায়। অথচ এই মিতভাষী, সদাহাস্য সাধক, প্রেমানন্দ মহারাজ (Swami Premanand Maharaj), দাবি করেন তাঁর নিজের নামে কোনও সম্পত্তি নেই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো নেই-ই, এমনকী কোনও স্থায়ী আর্থিক সম্পদের মালিকানাও তাঁর আছে বলে কেউ বলতে পারবে না।
প্রেমানন্দ মহারাজ বৃন্দাবনের শ্রী হিত রাধা কেলিকুঞ্জ আশ্রমের পরিচালক। তিনি বলেন, “আমি অর্থ গ্রহণ করি না, কিছুই আমার নয়।” তবু তাঁর প্রতিদিনের যাতায়াতে যেন রাজকীয় আয়োজন।
তবে কার গাড়ি এগুলো?
এই প্রশ্নের উত্তর মহারাজের নিজের গ্যারাজে নয়, বরং তাঁর ভক্তদের মনে। প্রতিটি গাড়িই তাঁর অনুসারীদের। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নিজের প্রিয় গাড়িতে মহারাজকে বহন করা একপ্রকার সেবা, ‘ভক্তির প্রকাশ’। তাই অনেকেই নিজেরাই ড্রাইভ করে তাঁকে পৌঁছে দেন আশ্রমে।
প্রতিদিন ভোরে তাঁর যাত্রা বৃন্দাবনের বরাহঘাটের কেলিকুঞ্জ আশ্রমে পৌঁছয়। তখন রাস্তা জুড়ে থাকে গাড়ির শোভাযাত্রা ও পদব্রজে ভক্তদের ভিড়, যেন চলমান এক ধর্মযাত্রা। ভক্তদের দানেই প্রতিদিন আলাদা লাক্সারি কারে ওঠেন সাধক, কিন্তু নিজ নামে নেই এক টাকাও।
বিলাসিতার আড়ালে সন্ন্যাসজীবন
চকচকে গাড়িগুলির আড়ালে প্রেমানন্দ মহারাজের জীবন নিঃস্বার্থ ও কঠোর শৃঙ্খলার। সকালে রাধার নামজপ দিয়ে দিন শুরু হয়, প্রাতঃরাশে খান অর্ধেক রুটি ও অল্প সবজি। কিডনির সমস্যা ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের পরেও তিনি প্রতিরাতে পদযাত্রা করেন, যেখানে রাত ২টো থেকেই শত শত ভক্ত তাঁর সঙ্গে হাঁটেন।
সাধারণ মানুষ থেকে তারকা-রাজনীতিকও তাঁর অনুসারী
তাঁর আশ্রমে দেখা গিয়েছে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মাকে, সন্তান-সহ। তাঁরা ভক্তিভরে মহারাজের উপদেশ শোনেন। এমনকী আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও আশ্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর প্রভাব এখন কেবল ধর্মীয় পরিসরেই নয়, ছুঁয়েছে সমাজ ও সেলিব্রিটি জগতকেও।
‘বৈরাগ্যের মধ্যে ঐশ্বর্য’—প্রেমানন্দ মহারাজের বার্তা
মহারাজের জীবন যেন বৈরাগ্য ও বিলাসের এক অনন্য সংমিশ্রণ। তিনি কোনও কিছুর মালিক নন, কিন্তু হাজার ভক্ত তাঁর চারপাশে সম্পদ ঢেলে দেন ভালবাসার প্রতীক হিসেবে। একেকটি গাড়ি কেবল গতি বা দামে নয়, ভক্তির গভীরতায় মূল্যবান।
তিনি যেন প্রমাণ করেছেন, আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল খালি পায়ে মাটিতে চলা নয়, কখনও কখনও তা লাক্সারি গাড়ির মধ্যেও আলো ছড়ায়।