
শেষ আপডেট: 20 October 2023 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘এল নিনো’ থাকলে তাপমাত্রা চড়চড়িয়ে বাড়বে, ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় হবে, ঋতুচক্র পুরো ওলটপালট হয়ে যাবে— এটাই রীতি। এল নিনো দুর্বল হওয়া মানে জলবায়ুর স্বাভাবিক ছন্দে ফেরা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এ বছর শীতেই ফিরতে পারে দামাল ছেলে এল নিনো। আর এল নিনো একবার এলে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে নাজেহাল হবে বিশ্বের কয়েকটি দেশ। তাপমাত্রা বাড়বে ভারতেও। খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হল, দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল থেকে উষ্ণ সমুদ্রের জল পশ্চিমে সরে গিয়ে কেন্দ্রীভূত হয় এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া উপকূলের কাছে। এর উল্টো প্রক্রিয়াটাই ‘এল নিনো’। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের যে-অংশের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকার কথা, সেটি উষ্ণ হতে শুরু করে। সমুদ্রের সেই অতিরিক্ত তাপ নির্গত হয় সমুদ্রপৃষ্ঠের বাতাসে। তার জেরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
চিলি, পেরু-সহ দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলবর্তী দেশগুলিতে এল নিনোর প্রভাব দেখা যায় প্রায় ২ থেকে ৭ বছর অন্তর। ওই সময় মহাসাগরের পৃষ্ঠের (সি সারফেস) জল দ্রুত হারে অসম্ভব গরম হয়ে যায়। কারণ, ওই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে গরম জলের স্রোত ধেয়ে আসে মহাসাগরের পূর্ব দিকে। বিজ্ঞানীরা উপগ্রহ চিত্রে দেখেছেন যে সমুদ্রের জলস্তর নাকি বাড়ছে যা এন নিনো আসার সঙ্কেত দিচ্ছে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে এল নিনোর ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল। এর জেরেই নাকি পৃথিবীর তাপমাত্রা চড়চড় করে বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ ছারখার করে দেবে সব, ফুটিফাটা হবে মাটি, শুকোবে জল, খরার হাহাকার দেখবে বিশ্ববাসী। প্রশান্ত মহাসাগরের চিলি ও পেরু উপকূল এবং মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে তৈরি হওয়া সেই ‘এল নিনো’র জেরে এ বার ওলটপালট হয়ে যেতে পারে ভারতের বর্ষার মরসুম। উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে পারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। এমন সবই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
২০১৫ সালে এমন এল নিনোর কব্জায় পড়েছিল ভারত। প্রচণ্ড খরায় শুকিয়ে গিয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু এলাকা। সে বছর সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কমে গিয়েছিল উল্লেখযোগ্য ভাবে। ২০০৯ সালেও এল নিনোর প্রভাবে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কষ্ট পেতে হয়েছিল দেশের মানুষজনকে। পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে জন্মানো ‘এল নিনো’ বড়সড় প্রভাব ফেলেছিল ভারতের বর্ষার মরশুমে। ২০০২ ও ২০০৪ সালের এল নিনো-র ততটা প্রভাব পড়েনি এ দেশে। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ফের এল নিনোর সতর্কতা জারি হয়েছে।