অক্টোপাসের মতো 'আমাকে আমার মতো থাকতে দাও' চিন্তাভাবনার একটা প্রাণীকে মাটিয়াস পিয়ানো বাজানো পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলেন কী করে (octopus tako playing piano)? তার পিছনেও রয়েছে একটা লম্বা গল্প।

পিয়ানো বাজাচ্ছে টাকো
শেষ আপডেট: 10 December 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলের নিচে অক্টোপাস পিয়ানো বাজাচ্ছে (Octopus playing piano underwater), এটা অনেকের শুনতে অবাক করা ব্যাপার স্যাপার হলেও মাটিয়াসের কাছে কিন্তু এটাই স্বপ্ন ছিল। পেশায় মিউজিশিয়ান মাটিয়াস ক্রান্টজের (Mattias Krantz) একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, সেখানে একমাস আগে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় একটি অক্টোপাস পিয়ানো বাজাচ্ছে (Octopus plays piano viral video), তাতেই নড়েচড়ে বসে সোশ্যাল মিডিয়াবাসী।
ভিডিওটি ৬.৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়েছে। ইনস্টাগ্রামেও মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়েছে। কিন্তু অক্টোপাসের মতো 'আমাকে আমার মতো থাকতে দাও' চিন্তাভাবনার একটা প্রাণীকে মাটিয়াস পিয়ানো বাজানো পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলেন কী করে? তার পিছনেও রয়েছে একটা লম্বা গল্প।
সুইডেনের শিল্পী মাটিয়াসের অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল তিনি কোনও এক প্রাণীকে পিয়ানো বাজানো শেখাবেন। সেই মতো একদিন দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় বাজার থেকে উদ্ধার করে আনেন এক অক্টোপাসকে। তার নাম দেন, টাকো।
টাকো অবশ্য শুরুতেই মাটিয়াসকে বিশ্বাস করতে পারেনি, বেশ কিছু সময় পর দুজনের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা সহজ হলে মাটিয়াস লেগে পড়েন তাঁর কাজে। শুরু হয় তাকে শেখানো-পড়ানোর পালা, তাও তার নিজস্ব 'অঞ্চলে', জলের নিচে, অ্যাকোয়ারিয়ামে।
প্রথম বাধা, অক্টোপাস স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিগত নিয়মে কোনও বস্তুকে চাপতে পারে না, কিন্তু টানতে পারে। তাহলে সে পিয়ানো বাজাবে কী করে! সেই অনুযায়ী ভাবনা চিন্তা করে মাটিয়াস পিয়ানোর কি-গুলিতে বিশেষ থ্রি-ডি ডিজাইনের ব্যবস্থা করেন। যাতে শুধু কি টেনেই টাকো পিয়ানোতে টুংটাং করতে পারে।
তবে শুরুটা এত সহজ ছিল না। শেখাবো ভাবলেই তো আর হল না, টাকো আবার নিজের মর্জির মালিক। মাটিয়াস যখন অ্যাকোয়ারিয়ামে জলের নীচে পিয়ানোটি রাখেন, টাকো এসে তা বাজানো তো দূরের কথা, উঠে বসে পড়ে তার ওপর। মাটিয়াস তাকে সাহায্য করতে গেলে সে ঠেলে সরিয়েও দেয় মালিককে। তখন মাটিয়াস বোঝেন, টাকোকে পিয়ানো বাজানো শেখাতে গেলে তাকে প্রাণীদের সাইকোলজি বুঝতে হবে। অন্য উপায় কাজে লাগানো ছাড়া আসলেই কোনও উপায় নেই। সেই মতো তিনি রীতিমতো পড়াশোনাও করেছেন। টাকোর প্রিয় খাবার কাঁকড়া, সেই লোভেই সে শেষমেশ নড়চড়ে বসে।
মাস ছয়েকের কঠিন অধ্যবসায়। টাকো বেশ কিছু কি টেনেটুনে একটা সম্পূর্ণ সুর তুলতে শিখে ফেলে। এখন টাকোর সঙ্গে মাটিয়াসের প্রায়শই ছোটখাট কনসার্ট চলে, এমনটা বললেও বোধ হয় ভুল হবে না।